ইউপি ভোটের সময় নির্ধারণ করতে পারেনি ইসি,নভেম্বরে ভোট হচ্ছে না,রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্বেগ - Alokitobarta
আজ : শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
নমিনির পেনশন পাওয়ার বয়সসীমা বেড়ে ৮০ বছর রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেই, দলকে চাঙ্গা করার উদ্যোগের কথা বলা হলেও বাস্তবভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে ন... ওয়াদা ভঙ্গ করে দেশ যেভাবে চলছে, তাতে সংকট হবে ইউপি ভোটের সময় নির্ধারণ করতে পারেনি ইসি,নভেম্বরে ভোট হচ্ছে না,রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্বেগ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটা ভালো হয়েছে এনবিআরে ১৯১ সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার পদোন্নতি বিচার প্রশাসনে বড় রদবদল সরকারি চাকরিতে তদবির করলে বিভাগীয় ব্যবস্থা, নথিতে থাকবে তথ্য রাজধানীর লেকের দূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগ নিন তেল আমদানি ঠিক রাখতে তৎপর সরকার, পাঁচ হাজার কোটি টাকা পাচ্ছে বিপিসি

ইউপি ভোটের সময় নির্ধারণ করতে পারেনি ইসি,নভেম্বরে ভোট হচ্ছে না,রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্বেগ


রিপোর্ট আলোকিত বার্তা:ইউপি ভোটের সময় নির্ধারণ করতে পারেনি ইসি,নভেম্বরে ভোট হচ্ছে না,রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্বেগ । স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের পর পিছু হটেছে নির্বাচন কমিশন। নভেম্বরে ইউপি নির্বাচনের সময় ঘোষণা করেও তা বাতিল করেছে ইসি। তবে নির্বাচন কবে হবে তা এখনো নির্ধারণ করতে পারেনি। তবে জুনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে বলে জানিয়েছে তারা।সকল প্রকার নির্বাচন পরিচালনায় সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন কমিশন স্বাধীন। তবু সরকারের বক্তব্যে ইসি পিছু হটায় এই ইসির মাধ্যমে স্থানীয় নির্বাচন নিরপেক্ষ হওয়ার বিষয়ে শঙ্কা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাজনৈতিক দলগুলো।

সূত্রমতে, সকল প্রকার নির্বাচন পরিচালনায় সংবিধান নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনতা দিয়েছে। সরকারের সকল বিভাগ নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করা সাংবিধানিক দায়িত্ব। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে আইনের মাধ্যমে প্রদত্ত দায়িত্ব পালন করবে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু সম্প্রতি ইউপি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত থেকে ইসি সরে আসায় রাজনৈতিকদগুলো ব্যাপক সমালোচনা করেছে ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। প্রধান বিরোধী দল জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারের নির্দেশনাতেই এটি পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসির অধীনে নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়। সরকার বিরোধী দলগুলোকে নির্বাচন বর্জনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি। এদিকে এনসিপি ক্ষোভ জানিয়ে বলেছে, স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইসির নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও অবস্থান থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘শিরোধার্য’ মেনে ইসি সচিবের চুপসে যাওয়া প্রমাণ করে, কমিশন স্বাধীন ভূমিকা প্রয়োগ করতে পারছে না। এটি পুরোপুরি সরকারের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

এখতিয়ার ইসির
নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার সর্ম্পকে সংবিধানে ১১৯ অনুচ্ছেদে বলা আছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করবে ইসি। এ ছাড়া সংবিধান বা অন্য কোনো আইনের দ্বারা নির্ধারিত অন্য কোনো দায়িত্ব কমিশন পালন করবে। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন আইনে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইসিকে। যেমন ইউনিয়ন পরিষদ আইনের ২০ ধারায় বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রণীত বিধি অনুসারে ইসি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নির্বাচনের আয়োজন, পরিচালনা ও সম্পাদন করবে। কোন কোন বিষয়ে ইসি বিধান করতে পারবে, সেটাও এই ধারায় বলা আছে। সেখানে বলা হয়েছে, ভোট গ্রহণের তারিখ, সময়, স্থান ও নির্বাচন পরিচালনাসংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে বিধান করতে পারবে ইসি। উপজেলা পরিষদ আইনেও একই কথা বলা আছে।

সরকার চিঠির জবাব দেওয়ার পরেই ইউপি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয় ইসি
ইসি সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশন কেবল সরকার বা মন্ত্রণালয় নয়, বরং মাঠপর্যায় থেকেও তথ্য নিয়ে নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে। গত ৯ জুলাই সংস্থাটির উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে ‘ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের নিমিত্ত সর্বশেষ অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচন ও অন্যান্য তথ্যাদি প্রেরণ’ শীর্ষক একটি চিঠি দিয়েছেন। এতে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ধারা ২৯(৩) অনুসারে পরিষদ গঠনের জন্য কোনো সাধারণ নির্বাচন ওই পরিষদের জন্য অনুষ্ঠিত পূর্ববর্তী সাধারণ নির্বাচনের তারিখ থেকে পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ইউনিয়ন পরিষদের শপথ গ্রহণ ও প্রথম সভার তথ্য প্রয়োজন। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সীমানা/ওয়ার্ড বিন্যাস দ্রুত সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এজন্য চিঠিতে নির্দিষ্ট ছক আকারে তথ্য দিতে বলা হয়েছিল।

ইসির এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে গত ২ আগস্ট স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউপি-১ শাখার উপ-সচিব জিয়াউর রহমান ইসির সিনিয়র সচিবের কাছে একটি চিঠি পাঠান। ‘ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নিমিত্ত সর্বশেষ অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচন ও অন্যান্য তথ্য প্রেরণ’ শিরোনামের ওই চিঠিতে আটটি বিভাগের ইউপির তথ্য তালিকা আকারে দেওয়া হয়। চিঠিতে আরও বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের পাঠানো চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে প্রেরিত ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের নিমিত্ত সর্বশেষ অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচন ও অন্যান্য তথ্যাদি পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে প্রেরণ করা হলো।

ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এই চিঠির ভিত্তিতেই ১৪ সেপ্টেম্বর বিশেষ সভায় বসে কমিশন। এতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে সাত ধাপে ভোট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের জানান, দেশের মোট ইউনিয়ন ৪ হাজার ৫৮০টি। এসব ইউনিয়নে সাত ধাপে ভোট করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। সম্ভাব্য তারিখগুলো হলো: প্রথম ধাপে ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপে ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপে ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপে আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপে আগামী বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপে ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপে ২৭ মে। এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, প্রথম ধাপে ৮০ উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে পারি আমরা। এগুলো আমরা প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা হবে। আমরা তিন ধাপে এ আলোচনা করব। আগামী ২৩ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর সংলাপ হবে।এই সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ১৫ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকার কিছু জানে না। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ও কিছু জানে না। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সরকারের এ বিষয়ে কোনো চিঠি-চালাচালি হয়নি। অন্য কোনো মাধ্যমেও আলোচনা হয়নি।এ বিষয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর তারিখ ঘোষণা করে। প্রস্তুতি সভা বা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা করা হয়। এতে বাজেটসহ বিভিন্ন বিষয় থাকে। মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং সরকারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের কোনো আলোচনা হয়নি। সরকার এ ব্যাপারে কিছু জানে না।

ইউপি ভোটের তারিখ চূড়ান্ত করতে পারেনি ইসি
আগামী ১২ নভেম্বর থেকে সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন করার প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেও ভোটের তারিখ চূড়ান্ত করতে পারেনি কমিশন। পরীক্ষা, রমজান ও নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়গুলো সমন্বয় করে সুনির্দিষ্ট তারিখ জানাতে আরও কিছু কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছে ইসি।গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর নির্বাচন ভবনে এই বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, আগামী বছরের ৬ জুন এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর আগেই নির্বাচন শেষ করার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। তবে ভোট কবে শুরু হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ব্যাপারে, বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ব্যাপারে আজকের সভায় আমি যদি এক লাইনে কনক্লুশন বলি, সবাই সম্মত হয়েছেন যে আমাদেরকে এই নির্বাচনটা পারতপক্ষে ৬ জুনের আগেই সম্পন্ন করতে হবে, এইচএসসি পরীক্ষার আগে।

ভোটের জন্য সময় খুঁজছে ইসি
ইউপি নির্বাচন কবে থেকে শুরু হতে পারে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সানাউল্লাহ বলেন, আগে তো আমাকে স্লটটা পেতে হবে নির্বাচন করার জন্য।’ তিনি জানান, নভেম্বর ও ডিসেম্বরজুড়ে পরীক্ষা থাকায় এ সময়ে খুব কম বিরতি পাওয়া যাচ্ছে। এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, জানুয়ারিতে কিছুটা সময় পাওয়া যাচ্ছে। এরপর ফেব্রুয়ারির শুরুতে রোজা। রোজা শেষ হওয়ার পরপরই এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়া থেকে ৬ জুন এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর মধ্যেও কিছুটা সময় পাওয়া যাচ্ছে। এই সীমিত সময়ের মধ্যে কীভাবে নির্বাচনের আয়োজন করা যায়, তা নিয়ে আরও সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে।বৈঠকে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেন সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, বন্যার কারণে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে যে প্রভাব পড়েছে, তা এখনো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয় রয়েছে। পরীক্ষা যাতে কোনোভাবে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুরোধ জানিয়েছেন।এসব উদ্বেগ যৌক্তিক বলে উল্লেখ করেন নির্বাচন কমিশনার। তিনি জানান, বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে। নির্বাচনের বাজেট পরিকল্পনাসহ আরও কিছু কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। এসব কাজ শেষ করে যত দ্রুত সম্ভব সুনির্দিষ্ট তারিখ জানানো হবে।

সম্ভাব্য সময়সূচি থেকে সরে আসেনি কমিশন
আগে জানানো ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি থেকে ইসি সরে এসেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সানাউল্লাহ বলেন, ‘মোটেও না।’ নির্বাচন কমিশনার জানান, আগের সময়সূচিটি ছিল সম্ভাব্য। প্রাক্প্রস্তুতিমূলক সভার আলোকে সেটি তৈরি করা হয়েছিল। তখনই বলা হয়েছিল, ১৭ সেপ্টেম্বরের বৈঠকের পর সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে।সানাউল্লাহ বলেন, ‘আমরা সামান্যতম কোনোখান থেকে সরে আসি নাই।’ আজকের বৈঠকে পাওয়া তথ্য–উপাত্তের ভিত্তিতে সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান তিনি।ইসির প্রাথমিক পরিকল্পনার ওপর সংশ্লিষ্ট সবাই মতামত দিয়েছেন জানিয়ে সানাউল্লাহ বলেন, এসব বিষয় নিয়ে কমিশনে আলোচনা হবে। কর্মকর্তা ও সচিব পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের কাজ সম্পন্ন করবেন ইসি সচিব।ইউনিয়ন পরিষদের বাইরে স্থানীয় সরকারের অন্য নির্বাচনগুলোর বিষয়ে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন,অন্যান্য নির্বাচনের ব্যাপারেও আমরা আইন অনুযায়ী যখন যেটা করার প্রয়োজন, তখন সেটা করব।

জামায়াতের উদ্বেগ
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সরকারের নির্দেশনাতেই এটি পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসির অধীনে নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়। সরকার বিরোধী দলগুলোকে নির্বাচন বর্জনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় দলীয়করণের অভিযোগ তুলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে সরকার নিজেদের দলের লোকদের বসিয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন কঠিন। নির্বাচন বিলম্বিত করার কোনো অজুহাত গ্রহণ করা হবে না। সব প্রার্থীর জন্য পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ, নিরাপদ পরিবেশ এবং ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে হবে।

এনসিপির ক্ষোভ
সরকারের প্রতি ইসির ‘অনুগত আচরণ এবং কমিশনের ওপর সরকারের অন্যায় হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে’ ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে এনসিপি। এক বিবৃতিতে দলটি বলেছে, স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইসির নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও অবস্থান থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘শিরোধার্য’ মেনে ইসি সচিবের চুপসে যাওয়া প্রমাণ করে, কমিশন স্বাধীন ভূমিকা প্রয়োগ করতে পারছে না। এটি পুরোপুরি সরকারের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। সরকারের প্রভাবে ও চাপে পড়ে নির্বাচন কমিশন একেক সময় একেক রকম কথা বলে খামখেয়ালিপনা প্রদর্শন করছে, যা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ন্যূনতম গ্যারান্টিও ধ্বংস করে দিচ্ছে। দলটি ইসিসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নির্বাহী বিভাগের ‘অবৈধ প্রভাব বিস্তার ও অগণতান্ত্রিক হস্তক্ষেপ’ অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে।

Top