গুঠিয়া বিএনপি কার্যালয়ে ডাবল স্ট্যান্ডঃ আ.লীগ নেতাদের আপ্যায়ন, বিএনপি নেতাদের শায়েস্তা - Alokitobarta
আজ : শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
পোস্তগোলা ব্রিজের নিচে বালুর বস্তা রেখে ব্যবসার অভিযোগ, নীরব বিআইডব্লিউটিএ! ঔষধ প্রশাসনের মহাপরিচালক জনাব আলমগীর হোসেন কে জড়িয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছে তার প্রতিবাদ জানিয়েছে বা... মেহেন্দিগঞ্জের পর এবার বাকেরগঞ্জে জামায়াতকর্মী সাজিয়ে ইসলামী আন্দোলনে যোগদানের নাটক বিচার শেষ হবে কবে ? মাদকের ৯৫ শতাংশ মামলা ঝুলে আছে কোন দলের প্রস্তুতি কেমন,ইউপি নির্বাচনের প্রথম ধাপ শুরু ২১ জানুয়ারি ভারত থেকে আনা চালে ক্যানসারের বিষাক্ত উপাদান, বিতরণ স্থগিত বিরোধী দল সংলাপে এলে জুলাই সনদ নিয়ে নমনীয় হতে পারে সরকার জামায়াত জোটের ঢাকা-খুলনা কুষ্টিয়া লংমার্চ আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রী ব্যর্থ, পদত্যাগ দাবি করলেন নাহিদ এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আজ

গুঠিয়া বিএনপি কার্যালয়ে ডাবল স্ট্যান্ডঃ আ.লীগ নেতাদের আপ্যায়ন, বিএনপি নেতাদের শায়েস্তা


নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের বসিয়ে আপ্যায়ন ও আড্ডা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও বিভক্তি দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে দলীয় কার্যালয়ে নির্ধারিত চেয়ারে বসার অভিযোগে দুই বিএনপি নেতার সাংগঠনিক পদ সাময়িক স্থগিত করা হলেও আওয়ামী লীগ নেতাদের একই চেয়ারে বসিয়ে আপ্যায়নকারী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন নেতাকর্মীরা।

উপজেলা বিএনপির একটি পত্রে জানা যায়, গুঠিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের জন্য নির্ধারিত চেয়ারে বসার অভিযোগে ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেন এবং ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ও ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আবু বক্করের সাংগঠনিক পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, এর বিপরীতে একই কার্যালয়ে গুঠিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দুই প্রভাবশালী সহ-সভাপতি জগলু মাস্টার ও মিজানুর রহমানকে বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্ধারিত চেয়ারে বসিয়ে খোশমেজাজে আড্ডা ও আপ্যায়ন করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ছবিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ছবি টাঙানো ওই কার্যালয়ের ভেতরে আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে বসে থাকতে দেখা যায় বলে দাবি স্থানীয় নেতাকর্মীদের। তাদের অভিযোগ, বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের ক্ষেত্রে দলীয় শৃঙ্খলার কঠোর প্রয়োগ করা হলেও আওয়ামী লীগ নেতাদের ক্ষেত্রে ভিন্ন নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

গুঠিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. শাহীন হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক লাবলু চাপরাশির বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অনিয়ম, দখল ও সন্ত্রাসের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ তাদের।

এ ঘটনায় ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল, কৃষকদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতাকর্মী বলেন, “আমরা দলীয় কার্যালয়ের চেয়ারে বসলে শাস্তি, অথচ নেতারা আওয়ামী লীগ নেতাদের সেই চেয়ারে বসিয়ে আপ্যায়ন করলে কোনো ব্যবস্থা নেই। এটি স্পষ্ট ডাবল স্ট্যান্ডার্ড। দলীয় শৃঙ্খলা সবার জন্য সমান হওয়া উচিত।”

তারা আরও বলেন, দলীয় শৃঙ্খলার কথা বলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তৃণমূলের মধ্যে হতাশা ও বিভক্তি আরও বাড়বে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে গুঠিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লাবলু চাপরাশি বলেন, নির্বাচনে আগে অন্যান্য শিক্ষকদের সাথে জগলু মাস্টার ও মিজানুর রহমান গুঠিয়া বিএনপি অফিসে এসেছিলেন। কোন রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, শিক্ষক হিসেবে তাদেরকে আমরা আপ্যায়ন করেছি। এটাকে এখন অনেকে প্রচার করে ভিন্নখাতে নিতে চায়।

Top