ভয়াবহতা ছড়াচ্ছে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি - Alokitobarta
আজ : বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
সাংবাদিকদের ওপর হামলায় গভীর উদ্বেগ বাংলাদেশ অনলাইন সংবাদপত্র ও সাংবাদিক ইউনিয়ন সাংবাদিকদের ওপর হামলায় গভীর উদ্বেগ South Bangal Press Club -দক্ষিণবঙ্গ প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের ওপর হামলায় গভীর উদ্বেগ সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদের মাদকের বিস্তার এখন মহামারির পর্যায়ে,অভিযান শুধু বৈধ বারগুলোতে ভয়াবহতা ছড়াচ্ছে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি অব্যবস্থাপনায় হয়রানি ভোগান্তি স্বার্থান্বেষী মহলের অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের শিকার বিআইডব্লিউটি এর প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ বরিশালের ‘বিউটি সিনেমা হল’ জমি ঘিরে কোটি টাকার বিরোধ রিকশাচালকের ব্যানারে ‘গুপ্ত’ আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ-যুবলীগ-শ্রমিক লীগ, মজদুর লীগ ভয়ংকর রূপে ডেঙ্গু,নির্দেশিকা উপেক্ষিত

ভয়াবহতা ছড়াচ্ছে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি


রিপোর্ট আলোকিত বার্তা:ভয়াবহতা ছড়াচ্ছে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি।দিনকে দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।হাসপাতাল গুলোয় রোগীর জায়গা হচ্ছে না; শয্যা না পেয়ে মেঝে, বারান্দা ও করিডোরে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে অনেককে।তাই চলতি অক্টোবর ডেঙ্গুতে মৃত্যু ও ভর্তি সব রেকর্ড ছাড়াবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। এদিকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোতে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে রাজধানীর হাসপাতালগুলোকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে স্থাপিত ফিল্ড হাসপাতালটি চালুর বিষয়েও বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে কিছু রোগী জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৯৬ জন। চলতি বছর একদিনে এটিই ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ মৃত্যু এবং রোগী ভর্তির ঘটনা। তথ্য মতে, পুরো জুন মাসে যেখানে ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ২ হাজার ৯০৭ জন। সেখানে গত দুই দিনে রোগী ভর্তি হয়েছে ৩ হাজার ৮৯৮ জন। আর চলতি বছরের অক্টোবর মাসের প্রথম ৬ দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশে মোট ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত দুই দিনে সরকারি তথ্য মতে, ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ১৯ জন।

সূত্র মতে, গত জুনে ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ২ হাজার ৯০৭ জন, আর তিন মাসের ব্যবধানে সেপ্টেম্বরে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৩ হাজার ৭৭৪ জনে। অর্থাৎ জুনের তুলনায় সেপ্টেম্বরে রোগী ভর্তি বেড়েছে ১৫ দশমিক ০৬ গুণ। চলতি বছর সর্বোচ্চ সংক্রমণ ও মৃত্যু হয়েছে গত সেপ্টেম্বর মাসে। ওই মাসে ডেঙ্গুতে মারা গিয়েছিলেন ১৪৮ জন। আর আক্রান্ত হয়েছিলেন ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন। সেপ্টেম্বরে সংক্রমণ ও মৃত্যু দুটোই বেড়ে যাওয়ার পরও সঠিক ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় না হওয়ায় অক্টোবরে ডেঙ্গু ভয়াবহতা ছড়াচ্ছে। অক্টোবরের ৬দিনে এ পর্যন্ত ৩৬ জনের মৃত্যুর রেকর্ড করছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়, দুই সিটি করপোরেশন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সঠিক তদারকি বা ব্যবস্থা না থাকায় রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৯ হাজার ২০৬ জন। আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২০ হাজার ৫৩৬ জনে। সেপ্টেম্বরে এক লাফে সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় ৪৩ হাজার। জানুয়ারি থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৯০ হাজার ৩৫৬জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গত ২৪ ঘন্টার তথ্য মতে, দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু এবং এক হাজার ৯৯৬ জনের সপাতালে ভর্তি হয়েছে। সরকারের হিসাবে, চলতি বছর এইডিস মশাবাহিত এ রোগে একদিনে এটাই সর্বোচ্চ মৃত্যু। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয় আগের দিন সোমবার ছিল ৯ জন। দেশে এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে ২৮১ জনের মৃত্যু হলো। এর মধ্যে চলতি অক্টোবর মাসের ৬ দিনে প্রাণ গেল ৩৬ জনের।গতকালের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়, সোমবার সকাল ৮টা থেকে ২৪ ঘণ্টায় এইডিস মশাবাহিত এ রোগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ২৯৪ জন ভর্তি হয়েছেন, দক্ষিণ সিটিতে ভর্তি হন ১৮৭ জন। দুই সিটির বাইরে ঢাকা বিভাগের অন্যান্য হাসপাতালে ভর্তি হন ৪৮০ জন। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ২০৩ জন, চট্টগ্রামে ২৪২ জন, খুলনায় ৩০২ জন, ময়মনসিংহে ৯৬, রাজশাহী ১৯৯, রংপুরে ৭৫ এবং সিলেটে ১৮ জন ভর্তি হয়েছেন। বুলেটিনের তথ্য অনুসারে, গেল ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৯৬৪ জন ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। চলতি বছর ৯০ হাজার ৩৫৬ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৮৪ হাজার ২৯৯ জন হাসপাতাল ছেড়ে গেছেন। বুলেটিন অনুসারে, চলতি বছর সেপ্টেম্বর মাসে সর্বোচ্চ রোগী ভর্তি ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন এবং ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর। গেল বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় চার শতাধিক মানুষের, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজারের মতো। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য মতে, প্রতিবছর এক হাজারেরও বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। আক্রান্ত হচ্ছে লাখের বেশি। এ বছর যা ছাড়িয়ে যাবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী অযথা বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করছেন। কাজের কাজ কিচুই হচ্ছে না, সারাদেশের হাসপাতালগুলোর কার্যক্রমকে ব্যবস্থাপনা বা সমন্বয়ই করতে পারছেন না। শুধু রাজধানী ঢাকাই নয়, সারাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেজনক। খুলনা ও বরিশালে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। ডেঙ্গু রোগীদের জায়গা দিতে না পেরে হাসপাতালের করিডোর, বারান্দা ও অন্যান্য খালি জায়গায় চিকিৎসা দেওয়ার তথ্য এসেছে। অনেক রোগী একাধিক হাসপাতালে ঘুরেও শয্যা পাননি। অপরদিকে মশা নিধনে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মশকনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতা এখন সবসময়ের সমস্যা। ওয়ার্ড ভিত্তিক কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ে না। মশার উৎপাত নিয়ে নগরবাসীর উদ্বেগ থাকলেও দায়সারা ভাব সিটি করপোরেশনের। ঢাকার দুই সিটির লার্ভিসাইড ও ফগিংয়ের কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে সংশয় রয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এডিস মশার লার্ভা জরিপেও আস্থা নেই নগরবাসীর। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের হটস্পট চিহ্নিত হলেও ওষুধ প্রয়োগের ঘাটতি রয়েছে। সাধারণ নাগরিকরা বলছেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেও পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ে সমন্বিত ও দৃশ্যমান কার্যক্রমের চেয়ে পরিদর্শন, সভা, সেমিনার ও নানা ধরনের কর্মসূচিই চোখে পড়ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নিয়মিত ডেঙ্গুর আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করলেও রোগের বিস্তার ঠেকাতে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত কার্যক্রমের ঘাটতি রয়েছে।

অথচ দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোয় মোট কতটি শয্যা রয়েছে, ডেঙ্গুর মতো মহামারিসদৃশ পরিস্থিতিতে কতটি শয্যা ব্যবহার করা সম্ভবÑতার সমন্বিত তথ্যই নেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে। ফলে রোগীর ঢল সামলাতে হাসপাতালগুলো যখন হিমশিম খাচ্ছে, তখন কেন্দ্রীয়ভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমানে ঢাকার সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ডেডিকেটেড শয্যা সংখ্যা কতটি জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাসপাতাল শাখার উধ্বর্তন কর্মকর্তা বলেন, এমন কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে সব হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বিশেষ কর্নার করা হয়েছে,সেখানেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।যদিও দেশে ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে নতুন করে ৩০০ শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও বিভিন্ন ওয়ার্ডের ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এনে অতিরিক্ত রোগী রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সেখানে একটি মোবাইল হাসপাতালের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তিনি বলেন, কোনো সরকারি হাসপাতাল ডেঙ্গু রোগীকে ফিরিয়ে দিতে পারবে না। কোনো হাসপাতালে শয্যা না থাকলে নির্ধারিত অন্য হাসপাতালে রোগী পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।এসব শয্যাও পূর্ণ হয়ে গেলে আরও জায়গা প্রস্তুত করার নির্দেশনা রয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন,বেসরকারি হাসপাতালগুলো ডেঙ্গু রোগী ভর্তি করছে কি না,তা যাচাই করার জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো হাসপাতাল রোগী নিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ঢামেক কর্তপক্ষ বলছে, প্রস্তাবটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।বিষয়টি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বৈঠক হওয়ার কথা ছিল।সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে,ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে শয্যা সংখ্যা আরো বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এ ছাড়া কুর্মিটোলা মাল্টিডিসিপ্লিনারি হাসপাতালকে রাজধানীর বাইরে থেকে আসা ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দিতে বলা হয়েছে।

রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন জেলা ও শহরে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কও সৃষ্টি হচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর চাপ। একই সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুর ঝুঁকি। এমনকি সচেতন চিকিৎসকও ছাড় পাচ্ছেন না মৃত্যুর হাত থেকে।এদিকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপে কার্যকর ফল আসছে না। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মন্ত্রী-এমপিরা অযথা হাসপাতাল পরিদর্শন ও অভিযানে ব্যস্ত। কিন্তু নেই সঠিক ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়। বিশেষ করে বর্ষার আগে সম্ভাব্য প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংস করা, বর্ষাকালে নিয়মিত নজরদারি এবং সংক্রমণ বাড়লে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার একটি নির্দিষ্ট কৌশল ও ব্যবস্থাপনা থাকা দরকার। শুধু মশার বিরুদ্ধে কীটনাশক প্রয়োগ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ মশার লার্ভার উৎস যদি থেকে যায় তাহলে অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন মশার জন্ম হতে পারে। তাই উৎস ধ্বংসের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ প্রফেসর ড. কবিরুল বাশার বলেন,ডেঙ্গু বৃদ্ধির কারণ আমরা ডেঙ্গুকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। যখন কোনো একটা ইনফেকশন শুরু হয় তখন যদি আমরা এটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি, তাহলে তো এটা বাড়বেই। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মশা নিধনের পরিবর্তে মশার উৎপাদন বা প্রজনন বন্ধ করা। পূর্ণবয়স্ক মশা মারা গেলে সাময়িকভাবে মশার ঘনত্ব কমে কিন্তু প্রজননস্থল অক্ষত থাকলে সেখানে আবার নতুন মশা জন্ম নেয়। তাই উৎপাদনশীল প্রজননস্থল শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ না করে শুধু পূর্ণবয়স্ক মশা নিধনের ওপর নির্ভর করা টেকসই সমাধান নয়। আগামী দুই মাসে রোগীর সংখ্যা আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি। পুরোনো ধারণা থেকে বের হয়ে প্রজননস্থলভিত্তিক সমন্বিত মশক ব্যবস্থাপনা, শক্তিশালী কীটতাত্ত্বিক নজরদারি, কার্যকর রোগ নজরদারি বাড়াতে হবে।

Top