ডাঃ অমিতাভ সরকারের কাছে বরিশালের তিনটি প্রতিষ্ঠান জিম্মি, বেসরকারি হাসপাতালে রোগী পাঠানোর অভিযোগ: কমিশন থেকে লেসের নামে প্রতারনা - Alokitobarta
আজ : সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডাঃ অমিতাভ সরকারের কাছে বরিশালের তিনটি প্রতিষ্ঠান জিম্মি, বেসরকারি হাসপাতালে রোগী পাঠানোর অভিযোগ: কমিশন থেকে লেসের নামে প্রতারনা


স্টাফ রিপোর্টার : ডাঃ অমিতাভ সরকার।নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞ।বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক।মস্তিষ্ক, স্ট্রোক, স্নায়ু, মেডিসিন এবং নিউরোমেডিসিন ডাক্তার মানেই তিনি।তার চিকিৎসা নিতে শত শত রোগী তিনটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে ভিড় লেগে থাকে। তার খ্যাতিকে তিনি কাজে লাগিয়ে জিম্মি করেছেন বেলভিউ হাসপাতাল ও মেডিকেল সার্ভিসেস, রাহাত আনোয়ার হাসপাতাল ও কেএমসি হাসপাতালকে।

হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে,ডাঃ অমিতাভ সরকার আওয়ামী লীগের ডাক্তারদের পেশাজীবী সংগঠন স্বাচিপের আজিবন সদস্য। স্বাচিপের ক্ষমতা,শশুর পরিবারের প্রভাবে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ১৭ বছরে পুর্নাঙ্গ নিউরো মেডিসিন বিভাগ গড়ে উঠেনি।নিজের আয় কমে যাওয়ার ভয়তে তিনি একচেটিয়াভাবে নিউরোমেডিসিনের রোগীদের নিয়ে বানিজ্য করেছেন। স্বাচিপের এই নেতা এখনো বহাল তবিয়তে থাকায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য সচেতন মহলে উঠেছে বিভিন্ন প্রশ্ন।

ডাঃ অমিতাভ সরকার চিকিৎসাসেবায় দক্ষ হলেও অসহায় রোগীরা হচ্ছেন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ। যেসব রোগীদের সিটি স্ক্যান ও এমআরআই এর প্রয়োজন নেই তাদেরও তিনি সিটি স্ক্যান ও এমআরআই পরীক্ষা দেন।প্রতিটি সিটি স্ক্যান ও প্রতিটি এমআরআই পরীক্ষা থেকে তিনি এক হাজার টাকা করে কমিশন নেন।অন্যান্য পরীক্ষা থেকে শতকরা ২৫ ভাগ টাকা নেন।এই ২৫ ভাগ থেকে রোগীর টেস্ট স্লিপে ১০ ভাগ টাকা লেস করেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ঐ তিন বেসরকারি হাসপাতালে তার ভর্তিকৃত রোগীদের বেড ভাড়া থেকে শতকরা ৭ থেকে ১২ ভাগ টাকা কমিশন নেন।এছাড়া প্রতি রাউন্ডে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা নেন।যতবার রাইন্ড ততবার ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা।এছাড়া তার বিরুদ্ধে সুস্থ্য রোগীদেরকেও ফিজিওথেরাপি দেয়ার পরামর্শ দেন।তার রেফারেন্সকৃত রোগী তার নির্দিষ্টি ফিজিওথেরাপি সেন্টারে গেলে প্রতি রোগী বাবদ তিনি শতকরা ২৫ ভাগ টাকা নেন।

ডাক্তার অমিতাভ সরকার সকালে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে বাসায় চলে যান নাস্তা খেতে।নাস্তা খেয়ে এসে কলেজে ক্লাশ নেন।এর পরেই শেরেবাংলা মেজিকেল কলেজ হাসপাতালে তার ওয়ার্ডে নামেমাত্র রাউন্ড দিয়ে চলে যান রাহাত আনোয়ার হাসপাতালে।সেখানে রোগী দেখেন এবং ভর্তিরত রোগীদের দেখে বেলস পার্কে বৈকালিক ভ্রমণ করেন। বেলস পার্ক থেকে চলে যান কেএমসি হাসপাতালে। সেখানে রোগী ও ভর্তিরত রোগীদের দেখেন। এরপরে চলে যান বেলভিউ হাসপাতালে। এই তিন প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে তিনশত থেকে চারশত রোগী দেখেন।

ডাক্তার অমিতাভ সরকারের রোগী বেশী হওয়ায় তার কাছে জিম্মি এই তিনটি প্রতিষ্ঠান।তিনি যা বলেন তাই করতে হয় ঐ তিন প্রতিষ্ঠানের।সম্প্রতি বেলবিউ হাসপাতালের বৈধ কমিটি তার কথায় ভেঙ্গে দেয়া হয়।তিনি বেলভিউর চেয়ারম্যান হতে চান। সুত্র জানায় তিনি ডাক্তার হিসেবে ভালো হলেও টাকা কামানোই এখন তার বড় নেশা। লোভ লালসার কারনেই ডাক্তার অমিতাভ সরকারের নিজ মেয়েকে নিঃসন্তান ভানুলাল দে এর নিকট রেজিষ্ট্রেশন করে দত্তক দিয়েছেন।এছাড়া বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির সৌজন্যে বিদেশ ভ্রমন করাও যেন তার নেশায় পরিনত হয়েছে।তার অতিলোভের কারনে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে রোগীরা।জিম্মি হয়েছে তিনটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাসহ শীর্ষ কর্তারা। বেলভিউ হাসপাতালের প্রতিটি শেয়ার দশ লাখ (লিখিত পাচঁ লাখ ও অলিখিত পাচঁ লাখ) টাকা হলেও তিনি পাচঁ লাখ টাকায় শেয়ার ক্রয় করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে ডাঃ অমিতাভের বিরুদ্ধে মস্তিষ্ক, স্ট্রোক, স্নায়ু, মেডিসিন এবং নিউরোমেডিসিনের রোগীদের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তার নিয়োগ দেয়া দালালদের মাধ্যমে তার নির্ধারিত বেসরকারি হাসপাতালে এবং চেম্বারে দেখা রোগীদের রাহাত আনোয়ার হাসপাতাল ও কেএমসি হাসপাতালে ভর্তির সুপারিশ প্রদান করেন।

ডাক্তার অমিতাভের কাছে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদেরকে প্রভাবিত করে বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানোর অভিযোগ দীর্ঘ দিনের ।

ডাক্তার অমিতাভ সরকারের বিরুদ্ধে করফাকিঁর মত গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।তার আয়কর নথি অডিটে গেলে বড় ধরনের করফাকিঁর বিষয়টি ধরা পরে। সম্প্রতি আয়কর বিভাগের সাথে এক মধ্যস্থতাকারী বিশ লাখ টাকার বিনিময়ে অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।তার আয়কর নথি পুনরায় অডিট করারও দাবী করা হয়।

সম্প্রতি মোঃ মাসুম নামে এক ব্যক্তি
ডাঃ অমিতাভ সরকারের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য সচিব ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)’র সভাপতির নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।সেই অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন,ডাঃ অমিতাভ সরকার অপ্রয়োজনীয় সিটি স্ক্যান,এমআরআইসহ অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা দিয়ে তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।অপরদিকে অসহায় ও দুঃস্থ্য রোগীরা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মত একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থেকে বেসরকারি স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ক্রয় করা,রোগীদের পরীক্ষা -নিরীক্ষার টাকা থেকে কমিশন নেয়া,ঔষধ কোম্পানীর থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহন,প্রাইভেট প্র্যাক্টিস করা যা অন্যায় ও সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর লঙন । আবেদনে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ডাক্তার অমিতাভ সরকারকে দ্রুত বদলী এবং সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

অভিযোগে আরো জানানো হয়, শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অফিস চলাকালীন সময় নির্ধারিত বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে অনৈতিকভাবে অর্থের বিনিময়ে সেবা প্রদান করা এমন অপেশাদার দায়িত্বহীন আচরণে সাধারণ রোগীরা সঠিক সরকারি চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বেসরকারি হাসপাতালে সরকারি অফিস সময়ে
প্রাইভেট প্র্যাক্টিস করায় এমন পরিস্থিতে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাধারণ মানুষের সেবা পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন সচেতন মহল।

Top