সমন্বিত প্রচেষ্টায় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব - Alokitobarta
আজ : সোমবার, ৩রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
গৌরনদী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের ওপর হামলা, জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের নিন্দা লাকুটিয়া খাল খনন প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা লোপাট করার চেষ্টা! সাংবাদিক তথ্য চাইলেই সরকারি বরাদ্দের ... অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব সরকার-ব্যবসায়ীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সারা দেশে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি পুলিশের ইইউর ১৫ দেশে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব তারেক রহমানের দেশে ভীতির রাজত্ব দেখতে পাচ্ছি প্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষকের যোগদান ২৯ অক্টোবর, পদায়নের পর প্রশিক্ষণ প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বুঝিয়ে বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের দিকে নেয়া হচ্ছে অন্ধকূপে আটকে রাখার আয়নাঘর

সমন্বিত প্রচেষ্টায় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব


নিজস্ব প্রতিবেদক :সরকার ও ব্যবসায়ীরা একসঙ্গে কাজ করলে আগামী চার-পাঁচ বছরে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য। কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। তবে আমরা একসঙ্গে কাজ করলে সব সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
শনিবার দুপুরে বেসরকারি খাতের শীর্ষ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে চার ঘণ্টাব্যাপী এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে এ মতবিনিময়ের আয়োজন করে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্য জানিয়েছেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতির বিদ্যমান সমস্যাগুলো সরকার যেমন উপলব্ধি করছে, তেমনি ব্যবসায়ীরাও তা অনুধাবন করছেন। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এ বিষয়ে সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, সরকারের বয়স এখনো ছয় মাস হয়নি। এর মধ্যেই আমরা কয়েক দফা বৈঠক করেছি। প্রথমে আপনাদের সঙ্গে বসেছি, পরে ফোরামের সঙ্গেও আলোচনা করেছি। সেক্টরভিত্তিক সমস্যাগুলো নিয়েও আমরা কাজ করছি।

আগের বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীরা যেসব সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন, তার অনেকগুলোরই সমাধান হয়েছে। আজকের বৈঠকেও নতুন কিছু সমস্যার কথা উঠে এসেছে। সেগুলো নিয়েও সরকার কাজ করবে। তিনি জানান, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে আবারও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক হবে। প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়, আমরা যত বেশি বসতে পারব, তত বেশি আপনাদের সমস্যাগুলো জানতে পারব এবং সেগুলোর সমাধান করতে পারব।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান বেরিয়ে আসে। দীর্ঘ সময় ধরে খোলামেলা আলোচনা হলে কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়। এ ধরনের সংলাপ অব্যাহত থাকলে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।বৈঠকে ব্যবসা সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও নতুন শিল্পায়নের পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। উদ্যোক্তারা সহজ শর্তে ঋণ, নীতিগত সহায়তা ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে তারা চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতিতেও সন্তোষ প্রকাশ করেন।সভায় জানানো হয়, আগের বৈঠকে আলোচিত ২৮টি সমস্যার মধ্যে ২১টির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাকি সাতটি বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ সময় ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের রপ্তানি আয় ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার রূপরেখা তুলে ধরেন ব্যবসায়ীরা। রপ্তানি বাড়াতে কূটনৈতিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেয় সরকার।

বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহণমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিবিএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএ জাব্বার, প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, যমুনা গ্রপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শামীম ইসলাম, এপেক্স ফুডওয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, বে ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউর রহমান, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সিইও আহসান খান চৌধুরী, ইনসেপ্টা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মুক্তাদির, রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান, র‌্যাংকস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহানা রউফ চৌধুরী, এসিআই পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আরিফ দৌলা, আবুল খায়ের গ্রুপের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবু সাঈদ চৌধুরী, সালমা গ্রুপের ফাউন্ডার অ্যান্ড ম্যানেজিং ডিরেক্টর চৌধুরী মোহাম্মদ হানিফ শোয়েব, ওয়ালটনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএম মাহবুবুল আলম প্রমুখ।

আরও পড়ুন...
Top