বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে ৮৭৫ কোটি ডলার - Alokitobarta
আজ : মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এখনো সক্রিয় বিআইডব্লিউটিএ গনভোট নিয়ে জাতির সাথে বেইমানি করলে বর্তমান সরকারের পরিনত হবে বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের মত বরিশালে হলুদ অটোরিকশার ইচ্ছামতো ভাড়া আদায়ে অতিষ্ঠ যাত্রীরা নলছিটির রানাপাশা ইলেন ভুট্টো সড়কে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ‘মশা মারতে শুধু সিটি করপোরেশনের ওপর ভরসা করলে বিপদ বাড়বে’ বেসরকারি খাত বেশ কয়েক বছর ধরে নানা সংকটে নিমজ্জিত দেশের ৯ জেলায় ঝড়ের পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কবার্তা মরহুম মাওলানা আবুল হাশেমের সহধর্মিনীর চিকিৎসার খোঁজ নিলেন জেলা জামায়াতের আমির দলীয় এমপিদের প্রতি জামায়াতের সতর্কবার্তা যোগসাজশে লুটপাট চোরে খাচ্ছে মিটার,৩০ পৌরসভায় পানি সরবরাহ প্রকল্প

বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে ৮৭৫ কোটি ডলার


মোহাম্মাদ মুরাদ হোসেন:দেশের বৈদেশিক ঋণ ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে। সে তুলনায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ছে কম। ফলে বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রে ঝুঁকির প্রবণতা বাড়ছে।রিজার্ভ বেড়েছে ৭০৮ কোটি ডলার। যদিও শতকরা হিসাবে বেশি বেড়েছে। ঋণের মধ্যে প্রায় ৭৬ শতাংশের সুদহার বাজারভিত্তিক।অর্থাৎ ঋণ পরিশোধের সময় ডলারের যে দর সুদের হার থাকবে সেই দরে ও হারে পরিশোধ করতে হবে। এতে এসব ঋণে ঝুঁকি বাড়ছে। এছাড়া মোট ঋণের মধ্যে বহুপাক্ষিক ও দ্বিপক্ষীয় ঋণই প্রায় ৫২ শতাংশ,এসব ঋণে কঠিন শর্ত রয়েছে।ফলে এসব ঋণের শর্ত বাস্তবায়ন করে খরচ করার ক্ষেত্রেও ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। গত এক বছরের ব্যবধানে দেশের বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে ৮৭৫ কোটি ডলার। শতকরা হিসাবে বৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

সোমবার প্রকাশিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, ২০২৪ সালের দেশের মোট বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ছিল ১০ হাজার ৪৭৭ কোটি ডলার। গত বছরের ডিসেম্বরে তা আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৩৫২ কোটি ডলার। আলোচ্য এক বছরের ব্যবধানে দেশের বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে ৮৭৫ কোটি ডলার। শতকরা হিসাবে বৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ। মোট ঋণের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ৮৭ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং স্বল্পমেয়াদি ঋণ ১২ দশমিক ৩৮ শতাংশ। মোট ঋণের স্বল্পমেয়াদি ঋণ কম হওয়ায় স্বস্তিদায়ক। ২০২৪ সালে সরকারি খাতের ঋণ ছিল ৮ হাজার ৫৩৪ কোটি ডলার। গত বছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৩৪৬ কোটি ডলার। আলোচ্য সময়ে বেড়েছে ৯ দশমিক ৫১ শতাংশ।

বেসরকারি খাতে ঋণ ২০২৪ সালে ছিল ১ হাজার ৯৪২ কোটি ডলার। গত বছরের শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮ কোটি ডলার। আলোচ্য সময়ে এ খাতে ঋণ বেড়েছে ৩ দশমিক ২৬ শতাংশ।

প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, দেশের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ যেমন বেড়েছে, তেমনি নতুন ঋণ গ্রহণের প্রবণতাও বেড়েছে। ফলে নতুন ঋণ নিয়ে আগের ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে। সরকারি খাতের ঋণের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে নেওয়া ৬৮ কোটি ডলার, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নেওয়া ৫৮৫ কোটি ডলার। বেসরকারি খাতের ঋণের বড় অংশই নেওয়া হয়েছে আমদানির বিপরীতে। বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নেওয়া হয়েছে ৮৯০ কোটি ডলার এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে ৯০ কোটি ডলার।

সূত্র জানায়, বিশেষ করে ডলার সংকটের কারণে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ২০২২ থেকে ২০২৩ সালে ব্যাপকভাবে বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করে। ওইসব ঋণের মেয়াদ এখন পূর্তি হচ্ছে। এছাড়া ডলার সংকটের কারণে ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সরকার অনেক ঋণ পরিশোধ করতে পারেনি। সেগুলোর মেয়াদ ওই সময়ে বাড়ানো হয়েছিল। এখন সেগুলোর মেয়াদ পূর্তি হচ্ছে। ফলে নিয়মিত ঋণের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের স্থগিত করা ঋণও এখন চড়া দামে ডলার কিনে ও বাড়তি সুদে পরিশোধ করতে হচ্ছে। এ কারণে নতুন করে যেসব বৈদেশিক ঋণ আসছে, তার বড় অংশই ব্যয় হচ্ছে আগের ঋণ পরিশোধ করতে।

Top