চামড়া খাতে খেলাপি ঋণ ২ হাজার কোটি টাকা - Alokitobarta
আজ : রবিবার, ৩১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চামড়া খাতে খেলাপি ঋণ ২ হাজার কোটি টাকা


মোহাম্মাদ মুরাদ হোসেন :চামড়া খাতে বিতরণ করা ঋণের স্থিতি প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে গত জুন পর্যন্ত খেলাপিতে পরিণত হয়েছে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের বিশেষ ছাড় দেওয়া হলেও এ খাতের উদ্যোক্তারা তা নবায়ন করছেন না। ফলে খেলাপি থাকার কারণে এ বছর অনেক উদ্যোক্তা চামড়া কেনার জন্য নতুন ঋণ পাচ্ছেন না। চলতি বছরে এ খাতে ২২৮ কোটি ৫০ লাখ টাকার ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে গত রোববার ঈদের আগের শেষ ব্যাংকিং লেনদেনের দিন পর্যন্ত নামমাত্র ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।অর্থাৎ মোট ঋণের ১২ দশমিক ৫০ শতাংশই খেলাপি। এসব ঋণ আদায় হচ্ছে না। এছাড়া আরও প্রায় ৮০০ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ ব্যাংক আদায় করতে না পেরে অবলোপন বা রাইট অফ করা হয়েছে। এসব ঋণ আদায়ের সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ।

ব্যাংকগুলোর সূত্র জানায়, কাঁচা চামড়া কেনায় উদ্যোক্তাদের ঋণের জোগান দিতে এবারও কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিমালা শিথিল করেছে। এখন পর্যন্ত যেসব ঋণ নিয়মিত রয়েছে সেগুলোর শর্ত অনুযায়ী কিস্তির পুরো অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত মিথিল করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে কিস্তির কিছু অর্থ পরিশোধ কর্ওে উদ্যোক্তারা ঋণ পাবেন। অর্থাৎ পুরো অর্থ পরিশোধ করতে না পারলেও খেলাপি করা যাবে না।

তবে যারা আগে থেকে খেলাপি রয়েছে এবং নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কারণে খেলাপি হয়েছেন তাদের ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে খেলাপি ঋণ নবায়নের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বেশির ভাগ উদ্যোক্তাই গত রোববার পর্যন্ত খেলাপি ঋণ নবায়ন করার জন্য ডাউন পেমেন্টের অর্থ জমা দিতে পারেননি। ফলে এবার চামড়া খাতে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ঋণ বিতরণ নিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

গত বছর চামড়া খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৪৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে বিতরণ করা হয়েছিল ৬৫ কোটি টাকা। এসব ঋণের বড় অংশই আদায় হয়নি। খেলাপি হয়ে পড়েছে। যে কারণে আগের ঋণ গ্রহীতারা নতুন ঋণ পাচ্ছেন না।

সূত্র জানায়, চলতি বছর জনতা, অগ্রণী, রূপালী ব্যাংক চামড়া খাতে সবচেয়ে বেশি ঋণ দিতে উদ্যোগী ছিল। এ ছাড়া বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক সীমিত আকারে ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছিল। তবে খেলাপির কারণে বেশির ভাগই বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

চলতি বছর রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচটি ব্যাংকসহ কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক এ খাতে ঋণ বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এ লক্ষ্যে তারা বিশেষ পর্ষদ সভাও করেছে। কিন্তু খেলাপির কারণে অনেক গ্রাহককেই ঋণ দিতে পারেনি। তবে ঋণ বিতরণের সময় এখনো রয়ে গেছে। চামড়া খাতে অনুমোদন করা ঋণ তিনটি পর্যায়ে বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে প্রথম অংশ ঈদের আগে। এ অর্থ দিয়ে কাঁচা চামড়া কিনে উদ্যোক্তাকে গুদামে সংরক্ষণ করতে হয়। ব্যাংক এ তথ্য নিশ্চিত হয়ে ঋণের দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ ছাড় করে। তারপরও তৃতীয় কিস্তির অর্থ দেওয়া হয়। প্রথম কিস্তির সময় চলে গেলেও এখনো দ্বিতীয় ও তৃতীয় কিস্তিতে ঋণ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

Top