দেশের ৪৭১ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু - Alokitobarta
আজ : রবিবার, ৪ঠা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
নিয়ন্ত্রণহীন চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার,নিষ্ক্রিয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গায়ে হাত তোলার দাবি, কিন্তু ঘটনাস্থলে নেই ক্যামেরা,মামলার এজাহার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে যোগ দেয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়েছে ৬ টাকার বিদ্যুৎ ১২ টাকায় ব্যয় ৩১টি কারিগরিভাবে নষ্ট,৬০ শতাংশ মেডিকেল অক্সিজেন প্ল্যান্ট অচল রোগীর পথ্য এখন বিলাসপণ্য শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার রাজনীতিতে নতুন উদ্বেগ,বিএনপি-জামায়াত দ্বন্দ্ব বিআরটিসির ডিজিএম আশরাফুল আলমের খুঁটির জোর কোথায় : প্রধানমন্ত্রী ও দুদকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে কর্মক...

দেশের ৪৭১ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু


মোহাম্মাদ মুরাদ হোসেন: জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে দেশের ৪৭১ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এর অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে ৬৩ জন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন সময় শিক্ষক নিয়োগে জমা দেওয়া সনদ যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে এসব অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। তদন্তে কয়েকজন শিক্ষকের সনদ জাল, ভুয়া বা তথ্য গোপনের মাধ্যমে অর্জিত বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে।এরপরই তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।শনিবার (২৩ মে) মাউশি পৃথকভাবে এ কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) এসব শিক্ষকের সনদ জাল বা ভুয়া বলে চিহ্নিত করেছিল। এর ভিত্তিতে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তালিকাসহ সুপারিশ পাঠায় ডিআইএ।পরে মন্ত্রণালয় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে চিঠি দেয়। এখন মাউশি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।প্রথম ধাপে নোটিশ পাওয়া শিক্ষকদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে চাকরি স্থগিত, সাময়িক বরখাস্ত কিংবা চাকরিচ্যুতিসহ কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন,শিক্ষকতা একটি মর্যাদাপূর্ণ পেশা। জাল সনদ ব্যবহার করে এ পেশায় প্রবেশ করা শুধু আইনগত অপরাধ নয়,এটি শিক্ষাব্যবস্থার জন্যও বড় ধরনের হুমকি। তাই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এক কর্মকর্তা বলেন,যাচাই-বাছাই শেষে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।কোনো নিরপরাধ শিক্ষক যেন হয়রানির শিকার না হন,সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক রয়েছেন।বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড, জেলা শিক্ষা অফিস ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে এ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও জাল সনদের অভিযোগ থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা খুব কমই দেখা গেছে। এবার বড় পরিসরে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক বার্তা দেবে বলে মনে করছেন তারা।এদিকে কয়েকটি শিক্ষক সংগঠন বলছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া যেন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Top