৬৫ আসনে বিএনপির ৭৩ বিদ্রোহী - Alokitobarta
আজ : মঙ্গলবার, ১০ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৬৫ আসনে বিএনপির ৭৩ বিদ্রোহী


মোহাম্মাদ মুরাদ হোসেন:ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছিল বিএনপি।মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন পর্যন্ত বহিষ্কার,সতর্কতা এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সমঝোতা-আলোচনা চালিয়ে যায় দলটি। এরপরও ৬৫টি আসনে দলের ৭৩ নেতা (অনেকেই বহিষ্কৃত)বিদ্রোহী(স্বতন্ত্র)প্রার্থী হিসাবে ভোটের মাঠে থেকে গেছেন। ফলে বহু আসনে নিজ দলের নেতাদের সঙ্গেই ভোটের লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে বিএনপিকে,যা নির্বাচন ঘিরে দলটির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।এমন পরিস্থিতিতে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হওয়ায় আরও ৫৯ নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। বুধবার রাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এর আগে রুমিন ফারহানা, হাসান মামুন, সাইফুল ইসলাম ফিরোজসহ ১২ জন বিদ্রোহী প্রার্থীকে বহিষ্কার করেছিল বিএনপি।প্রতিবেদন, ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খরব-

রাজশাহী : বিভাগের ৩৯টি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ১০ জন। তারা হলেন-রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে লন্ডন প্রবাসী জিয়া পরিষদের নেতা রেজাউল করিম ও পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির নেতা ইসফা খায়রুল হক শিমুল, নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর-পোরশা-সপাহার) বিএনপির সাবেক সংসদ-সদস্য ডা. সালেক চৌধুরী, নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছি) যুবদল নেতা পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী, নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির, নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু ও লালপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. মো. ইয়ামিন আরশাদ, নাটোর-৩ (সিংড়া) জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক দাউদার মাহমুদ, পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক সংসদ-সদস্য কেএম আনোয়ারুল ইসলাম এবং পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে জেলার সাবেক যুগ্মসম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু।

বরিশাল : বিভাগের ২১টি নির্বাচনি এলাকার ৩টিতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন-পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-রাঙ্গাবালী) হাসান মামুন, পিরোজপুর-২ (ভান্ডারিয়া-কাউখালী-নেসারাবাদ) বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মাহমুদ হোসাইন ভিপি মাহমুদ এবং বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) সাবেক সংসদ-সদস্য জহিরুদ্দিন স্বপনের বিরুদ্ধে লড়ছেন ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান।

রংপুর : বিভাগের ৩৩টি সংসদীয় আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ৫ জন। তারা হলেন-দিনাজপুর-২ (বিরল-বোঁচাগঞ্জ) জেলা বিএনপির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আ ন ম বজলুর রশীদ, দিনাজপুর-৫ (ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর) কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য এজেডএম রেজওয়ানুল হক ও পার্বতীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য এসএম জাকারিয়া বাচ্চু, গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) জেলা বিএনপির সহসভাপতি নাহিদুজ্জামান নিশাত এবং নীলফামারী-৪ রিয়াদ আরাফান সরকার রানা।

ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও মুন্সীগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জ-১ জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মোহাম্মাদ দুলাল হোসেন, নারায়ণগঞ্জ-২ সদস্য মো. আতাউর রহমান খান আঙ্গুর, নারায়ণগঞ্জ-৩ জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম, টাঙ্গাইল-১ জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মাদ আলী, টাঙ্গাইল-৩ লুৎফর রহমান খান আজাদ, টাঙ্গাইল-৫ অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, নরসিংদী-৫ মো. জামাল আহমেদ চৌধুরী, মুন্সীগঞ্জ-১ মো. মুমিন আলী এবং মুন্সীগঞ্জ-৩ মো. মহিউদ্দিন।

খুলনা ও যশোর : যশোর-৫ আসনে মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদ মো. ইকবাল হোসেন; নড়াইল-১ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম; নড়াইল-৩ জিয়া পরিষদের সাবেক নেতা বিএম বাকির হোসেনের ভাই বিএম নাগিব, কর্নেল (অব.) সাজ্জাদ হোসেন ও বিএনপির সাবেক সংসদ-সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ সাহার ছেলে সুকেশ চন্দ্র সাহা; সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ) ডা. শহিদুল আলম; বাগেরহাট-১ (ফকিরহাট, চিতলমারী ও মোল্লাহাট) মো. মাসুদ রানা; বাগেরহাট-১, ২ ও ৩ সাবেক জেলা সভাপতি এমএএইচ সেলিম; বাগেরহাট-৪ জেলা বিএনপির সদস্য কাজী খায়রুজ্জামান শিপন এবং ঝিনাইদহ-৪ আসনে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম ফিরোজ।

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশকি) আসনে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মিজানুল হক চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক লেয়াকত আলী ও উপজেলা বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম রাহী। এছাড়া খাগড়াছড়িতে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে মাঠে রয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সমীরণ দেওয়ান, নোয়াখালী-২ জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মফিজুর রহমান, নোয়াখালী-৬ সাবেক সংসদ-সদস্য প্রকৌশলী ফজলুল আজীম এবং জেলা বিএনপির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার তানবীর উদ্দীন রাজীব।

ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ : ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে মোহাম্মদ সালমান ওমর, ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) শাহ শহীদ সারোয়ার, ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আহাম্মদ তায়েবুর রহমান, ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়ীয়া) ব্রিগেডিয়ার (অব.) মো. সাইফুল ইসলাম, ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) মুহাম্মদ আনোয়ার সাদাত, ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আবু বকর সিদ্দিকুর রহমান, ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম, কিশোরগঞ্জ-১ রেজাউল করিম চুন্নু, কিশোরগঞ্জ-৫ শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল, নেত্রকোনা-৩ মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া এবং শেরপুর-৩ মো. আমিনুল ইসলাম বাদশাহ।

ফরিদপুর ও মাদারীপুর : মাদারীপুর-১ লাভলু সিদ্দিকী ও কামাল জামাল নুরুউদ্দিন মোল্লা, মাদারীপুর-২ মিল্টন বৈদ্য, রাজবাড়ী-২ নাসিরুল হক সাবু, গোপালগঞ্জ-২ এমএস খান মঞ্জু ও সিরাজুল ইসলাম সিরাজ এবং গোপালগঞ্জ-৩ অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান হাবিব।

সিলেট : সুনামগঞ্জ-৩ আনোয়ার হোসেন ও সুনামগঞ্জ-৪ দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন। সিলেট-৫ মামুনুর রশীদ, মৌলভীবাজার-৪ মহসিন মিয়া মধু এবং হবিগঞ্জ-১ শেখ সুজাত মিয়া।

কুমিল্লা : কুমিল্লা-২ ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মতিন, কুমিল্লা-৭ আতিকুল আলম শাওন, চাঁদপুর-৪ এমএ হান্নান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান মামুন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ কাজী নাজমুল হোসেন তাপস এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ কৃষিবিদ সাইদুজ্জামান কামাল।

Top