জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে - Alokitobarta
আজ : শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
ছুটির দিনেও কর্মচাঞ্চল্য সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল, নেই অস্থিরতার ছাপ বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় চাকরি, আজ থেকে আবেদন ক্ষমতার শীর্ষে বসে দমন-পীড়ন ঈদুল ফিতরে ৫ আজহায় ৬ ও পূজায় ২ দিন ছুটি,২০২৭ সালের তালিকা নির্মাণে দুর্নীতি তদন্তে দুদককে সুপারিশ শ্রমিকদের নতুন মজুরি দুই মাসের মধ্যে ষড়যন্ত্রের রূপরেখা তৈরি করেছে আওয়ামী লীগ নেতারা, ছক কষেছে পোশাক খাতে অস্থিরতা তৈরি করে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ-সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদ পোস্তগোলা ব্রিজের নিচে বালুর বস্তা রেখে ব্যবসার অভিযোগ, নীরব বিআইডব্লিউটিএ! ঔষধ প্রশাসনের মহাপরিচালক জনাব আলমগীর হোসেন কে জড়িয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছে তার প্রতিবাদ জানিয়েছে বা...

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে


মোহাম্মাদ আবুবকর সিদ্দীক ভুঁইয়া :জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ওই নির্বাচনে একটি ব্যালটে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং অন্য ব্যালটে গণভোট নেওয়া হবে।এ মক ভোটিং পরিদর্শন করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন তফসিল ঘোষণার কথা জানান। এ লক্ষ্যে শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে প্রাথমিক মহড়া করেছে ইসি।এদিকে ছোট পরিসরে মক ভোটিং আয়োজন করতে ইসির কর্মকর্তাদের গলদ্ঘর্ম হতে দেখা গেছে। ছিল নানা অব্যবস্থাপনাও। সকালে প্রথম ঘণ্টায় ভালোভাবে ভোটগ্রহণ হলেও খুব ধীরে ভোট হয়েছে। অনেকে ভোটার নম্বর খুঁজতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন, কেউবা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন দীর্ঘ সময়।

মক ভোটিংয়ে গলদ্ঘর্ম ও অব্যবস্থাপনা : ৫১০ জন ভোটার নিয়ে মক ভোটিংয়ের আয়োজন করে ইসি। এতে নিয়ম একই কক্ষে দুটি গোপন বুথ (যেখানে ব্যালট পেপারে সিল মারা হয়) রাখা হয়। ভোটারদের দুটি ব্যালট পেপার দেওয়া হয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপারে ছয় প্রার্থীর নাম ও প্রতীক ছিল। আর গণভোটের ব্যালট পেপারে চারটি প্রশ্ন উল্লেখ ছিল। নিচে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়ার পৃথক ঘর ছিল। এ নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭০.৪ শতাংশ। সরেজমিন দেখা যায়, সকালে প্রথম ঘণ্টায় ভালোভাবে ভোটগ্রহণ হলেও খুব ধীরে ভোট হয়েছে। অনেকে ভোটার নম্বর খুঁজতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন, কেউবা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন অনেকক্ষণ। এছাড়াও নানা অব্যবস্থাপনা ছিল।

এসব বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সিইসি বলেন, এখন আমরা কষ্ট দিতে চাই না। এখন তো একটা এডিশনাল রেসপনসিবিলিটি আসছে রেফারেন্ডাম। আমাদের ভোটকক্ষ, সেন্টার যদি বাড়াতে হয়-আমরা বাড়াব। যদি দেখা যায় বুথ বাড়ালে চলে, তাহলে সেটা করব।

সংসদ ও গণভোট দিতে গিয়ে ভোটার স্লিপসহ নানা কারণে সময় লাগছে, এ বিষয়ে সিইসি বলেন, আমাদের পরিকল্পনায় যত ধরনের গ্যাপ আছে, যে ঘাটতিগুলো আছে, সেগুলো আমরা আজ (কাল) প্র্যাক্টিক্যাল অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে মিটআপ করে ফেলব।

গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তি এড়াতে প্রচারণা : গণভোট নিয়ে ইসি প্রচার চালাবে বলে জানান সিইসি। তিনি বলেন, আমরা গণভোট নিয়ে প্রচার এখনো ওভাবে শুরু করিনি। সরকার ও ইলেকশন কমিশন মিলে ব্যাপক প্রচার চালাবে গণভোট নিয়ে। তিনি জানান, এখন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রচার চালানোর জন্য, আমরাও আছি সঙ্গে। গণমাধ্যমেরও দায়িত্ব রয়েছে।

ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট হবে সাদা কাগজের ব্যালটে। আর গণভোটের ব্যালট পেপার হবে গোলাপি রঙের। শনিবার মক ভোটিংয়ে গণভোটের জন্য গোলাপি রঙের ব্যালট পেপার ব্যবহার করে ইসি। এদিন জাতীয় সংসদ ও গণভোটের ভোট দিতে একজন ভোটারের দেড় মিনিটের বেশি সময় লেগেছে।

ওই মক ভোটিং অনুষ্ঠানে সিইসির কাছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার বিষয়ে জানতে চান সাংবাদিকরা। এর জবাবে সিইসি বলেন, আমরা আশা করছি, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল হবে। ইতোমধ্যে ভোটের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা জানাতে চাই, মোটামুটিভাবে প্রিপারেশন আমাদের আছে। সবাই মিলে যে ওয়াদা জাতিকে দিয়েছি, সেটা আমরা ইনশাআল্লাহ ডেলিভার করব। তফসিলের পর প্রয়োজন হলে প্রশাসনে রদবদলের উদ্যোগ নেবেন বলেও জানান তিনি। এ সময় নির্বাচন কমিশনাররা, ইসি সচিব, ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সিইসি বলেন, মক ভোটিং যেরকম হলো, সেইভাবে একটা ইলেকশন উপহার দিতে চাই। এমন স্বচ্ছভাবে ভোট করতে চাই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে উন্নতি হবে এবং নির্বাচনের অনকূলে থাকবে।

গণভোটের বিষয়ে সিইসি বলেন, এখন আমাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসাবে একটা রেফারেন্ডম (গণভোট) এসছে। এই গণভোট (জাতীয় নির্বাচনের) একসঙ্গে করতে হবে আমাদের। গণভোট যদি একসঙ্গে করতে হয়, তাহলে আমাদের টাইম ম্যানেজমেন্টের একটা বিষয় আছে। আজকের এই অ্যাসেসমেন্টের ভিত্তিতে তা আমরা ঠিক করব। বিদ্যমান ৪২ হাজার ৫০০-এর বেশি ভোটকেন্দ্র আমাদের জন্য পর্যাপ্ত কি না, নাকি ভোটকক্ষ বাড়াতে হবে? ভোটকক্ষ, লোকবল বাড়ানোসহ কী ধরনের অ্যারেঞ্জমেন্ট করতে হতে পারে, এই প্র্যাকটিক্যাল অ্যাসেসমেন্ট আজ (গতকাল) আমরা করতে যাচ্ছি।

Top