পুলিশ ও মাঠ প্রশাসন ঢেলে সাজানো শুরু করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার
মোহাম্মাদ আবুবকর সিদ্দীক ভুঁইয়া:ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আর মাত্র আড়াই মাস। ফলে নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশ ও মাঠ প্রশাসন ঢেলে সাজানো শুরু করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।লটারির মাধ্যমে এসপি নিয়োগের এ ঘটনা দেশের ইতিহাসে এই প্রথম এবং এটি একটি অনন্য নজির হিসাবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া পুলিশের ৩৩ কর্মকর্তাকে উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) হিসাবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। দুই ডিআইজি ও ১৩ এসপিকে বদলি করা হয়েছে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে। বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা পৃথক ৫টি প্রজ্ঞাপনে এসব পরিবর্তনের কথা জানানো হয়। নির্বাচনকালীন দায়িত্বে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে এবারই প্রথম ম্যানুয়াল লটারির মাধ্যমে ৬৪ জেলায় নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এসব প্রজ্ঞাপনগুলোতে স্বাক্ষর করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. মাহবুবুর রহমান। অন্যদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদে রদবদল এনেছে সরকার। বুধবার প্রথম ধাপে ১৬৬ উপজেলায় সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের নতুন ইউএনও নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। আটটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই ইউএনওদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসাবে ন্যস্ত করা কর্মকর্তাদের তাদের নিজ অধিক্ষেত্রে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে দায়িত্ব পালনের জন্য দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮ এর সেকশন-১৪৪ এর ক্ষমতা অর্পণ করা হলো।
নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বদলি করা কর্মস্থলে যোগদান করবেন, অন্যথায় ৩০ নভেম্বর বিকালে বর্তমান কর্মস্থল (প্রশিক্ষণ/কর্মস্থল) থেকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) বলে গণ্য হবেন। বদলি করা কর্মকর্তার দপ্তর/কর্মস্থল ইতোমধ্যে পরিবর্তন হলে কর্মরত দপ্তরের নাম/ঠিকানা উল্লেখ করে তিনি যোগদানপত্র দাখিল করবেন বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বদলি-পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশ অনুযায়ী যোগ্য কর্মকর্তাদের তালিকা কমিটির হাতে দেওয়া হয় এবং লটারির মাধ্যমে জেলাওয়ারি পদায়ন চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় লটারি করে এসপি নির্বাচন করা হয়। এসপি ও থানার ওসিদের বদলি, পদোন্নতি ও নিয়োগ-বদলিকে কেন্দ্র করে গত কয়েক যুগ ধরে নানা অভিযোগ চলছিল। এমপি-মন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের নেতারা নিজেদের সুবিধার জন্য এসপি বদলির তদবির করতেন। কেউ কেউ ডিও লেটার দিতেন। বিভিন্ন সরকারের সময়ে প্রভাবশালী অনেকের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও ছিল। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনের আগে লটারির মাধ্যমে এসপি নিয়োগের ঘটনাকে পর্যবেক্ষকরা ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন। আগামীতে ওসি বদলিও লটারির মাধ্যমে করা হবে।
কর্মকর্তারা জানান, জেলার পুলিশ সুপার নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রথমে অতীতে এসপি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন এমন কর্মকর্তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। এরপর পুলিশ ক্যাডারের ২৫, ২৭ ও ২৮তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে একটি ফিট লিস্ট প্রস্তুত করা হয়। সেই তালিকায় থাকা কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে ম্যানুয়াল লটারির মাধ্যমে ৬৪ জনকে নির্বাচন করা হয়। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৬৪ জেলায় নতুন এসপি, ঢাকা বিভাগ : দিনাজপুরের এসপি হিসাবে বদলির আদেশপ্রাপ্ত মো. মিজানুর রহমানকে ঢাকা জেলার এসপি, ঢাকায় পুলিশ সদর দপ্তরের এসপি মো. হাবীবুল্লাহকে গোপালগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জের এসপি মুহম্মদ শামসুল আলম সরকারকে টাঙ্গাইল, নরসিংদীর এসপি মো. মেনহাজুল আলমকে মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুরের এসপি মো. নজরুল ইসলামকে ফরিদপুর, পঞ্চগড়ের এসপি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীকে নারায়ণগঞ্জ, রাঙামাটির এসপি এসএম ফরহাদ হোসেনকে কিশোরগঞ্জ, নোয়াখালীর এসপি মো. আব্দুল্লাহ আল ফারুককে নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এসপি এহতেশামুল হককে মাদারীপুর, ঝিনাইদহের এসপি মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদকে রাজবাড়ী, যশোরের এসপি রওনক জাহানকে শরীয়তপুর, বরিশালের এসপি মো. শরিফ উদ্দীনকে গাজীপুর ও গাইবান্ধার এসপি হিসাবে বদলির আদেশপ্রাপ্ত মোহাম্মদ সারওয়ার আলমকে মানিকগঞ্জ জেলার এসপি হিসাবে বদলি করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগ : কুমিল্লার এসপি মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খানকে চট্টগ্রাম, চাঁদপুরের এসপি মুহম্মদ আব্দুর রকিবকে রাঙামাটি, ঢাকা জেলার এসপি মো. আনিসুজ্জামানকে কুমিল্লা, ডিএমপির ডিসি (পুলিশ অধিদপ্তরে এআইজি হিসাবে বদলির আদেশপ্রাপ্ত) মো. শফিকুল ইসলামকে ফেনীর এসপি, নেত্রকোনার এসপি মির্জা সায়েম মাহমুদকে খাগড়াছড়ি, গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) উপকমিশনার মো. রবিউল হাসানকে চাঁদপুর, ডিএমপির ডিসি শাহ মো. আব্দুর রউফকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এসপি, খুলনার এসপি টিএম মোশাররফ হোসেনকে নোয়াখালী, পিবিআইয়ের এসপি মো. আবদুর রহমানকে বান্দরবান, পাবনার এসপি হিসাবে বদলির আদেশপ্রাপ্ত এএনএম সাজেদুর রহমানকে কক্সবাজার ও সিআইডির এসপি মো. আবু তারেককে লক্ষ্মীপুর জেলার এসপি হিসাবে বদলি করা হয়েছে।
রাজশাহী বিভাগ : মাদারীপুরের এসপি মোহাম্মদ নাঈমুল হাছানকে রাজশাহী, নাটোরের এসপি মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামকে নওগাঁ, জয়পুরহাটের এসপি মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাবকে নাটোর, পিবিআইয়ের এসপি মো. শাহাদাত হোসেনকে বগুড়া জেলার এসপি, চট্টগ্রামের এসপি মো. সাইফুল ইসলাম সানতুকে সিরাজগঞ্জ, হবিগঞ্জের এসপি হিসাবে বদলির আদেশপ্রাপ্ত গৌতম কুমার বিশ্বাসকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মাগুরার এসপি মিনা মাহমুদাকে জয়পুরহাট ও পটুয়াখালীর এসপি মো. আনোয়ার জাহিদকে পাবনা জেলার এসপি হিসাবে বদলি করা হয়েছে।
খুলনা বিভাগ : সিলেটের এসপি মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানকে খুলনা, কিশোরগঞ্জের এসপি মোহাম্মদ হাছান চৌধুরীকে বাগেরহাট, নারায়ণগঞ্জের এসপি মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনকে কুষ্টিয়া, জামালপুরের এসপি সৈয়দ রফিকুল ইসলামকে যশোর, খাগড়াছড়ির এসপি মো. আরেফিন জুয়েলকে সাতক্ষীরা, ফেনীর এসপি মো. হাবিবুর রহমানকে মাগুরা, বগুড়ায় ৪ এপিবিএনের এসপি মো. মাহফুজ আফজালকে ঝিনাইদহের এসপি, ঝালকাঠির এসপি উজ্জ্বল কুমার রায়কে মেহেরপুর, সাতক্ষীরার এসপি মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামকে চুয়াডাঙ্গা ও বরগুনার এসপি মোহাম্মদ আল মামুন শিকদারকে নড়াইল জেলার এসপি হিসাবে বদলি করা হয়েছে।
বরিশাল বিভাগ : রাজশাহীর এসপি ফারজানা ইসলামকে বরিশাল, পিবিআইয়ের এসপি মো. আবু ইউসুফকে পটুয়াখালী, বান্দরবানের এসপি মো. শহিদুল্লাহ কাওছারকে ভোলা, গোপালগঞ্জের এসপি মো. মিজানুর রহমানকে ঝালকাঠি, মেহেরপুরের এসপি মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকীকে পিরোজপুর ও পিবিআইয়ের এসপি মো. কুদরত ই খুদাকে বরগুনা জেলার এসপি হিসাবে বদলি করা হয়েছে।
সিলেট বিভাগ : ময়মনসিংহের এসপি কাজী আখতার উল আলমকে সিলেট, মানিকগঞ্জের এসপিকে মোছা. ইয়াছমিন খাতুনকে হবিগঞ্জ, পিবিআইয়ের এসপি আবু বসার মোহাম্মদ জাকির হোসেনকে সুনামগঞ্জ ও নীলফামারীর এসপি হিসাবে বদলির আদেশপ্রাপ্ত মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনকে মৌলভীবাজার জেলার এসপি হিসাবে বদলি করা হয়েছে।
রংপুর বিভাগ : ফরিদপুর জেলার এসপি হিসাবে বদলির আদেশপ্রাপ্ত মো. মারুফাত হুসাইনকে রংপুর, বাগেরহাটের এসপি মো. আসাদুজ্জামানকে লালমনিরহাট, নড়াইলের এসপি মো. রবিউল ইসলামকে পঞ্চগড়, বগুড়ার ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের এসপি মো. বেলাল হোসেনকে ঠাকুরগাঁও, বগুড়ার এসপি মো. জেদান আল মুসাকে দিনাজপুর, এসপিবিএনের এসপি মো. জসিম উদ্দীনকে গাইবান্ধা, ডিএমপির ডিসি খন্দকার ফজলে রাব্বিকে কুড়িগ্রাম ও ঠাকুরগাঁওয়ের এসপি শেখ জাহিদুল ইসলামকে নীলফামারী জেলার এসপি হিসাবে বদলি করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ বিভাগ : টাঙ্গাইলের এসপি মো. মিজানুর রহমানকে ময়মনসিংহ, গাজীপুরের এসপি ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেককে জামালপুর, রাজবাড়ীর এসপি মো. কামরুল ইসলামকে শেরপুর ও লালমনিরহাটের এসপি মো. তরিকুল ইসলামকে নেত্রকোনা জেলার এসপি হিসাবে বদলি করা হয়েছে।
ডিআইজি হলেন ৩৩ কর্মকর্তা : কমান্ড্যান্ট, আরআরএফ, ঢাকার আলী আকবর খান, অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের মো. শাহরিয়ার, এসবি, ঢাকার মো. আবদুল্লাহ আল মামুন, এসবির ড. মোহাম্মদ আব্দুল কাদের, সিআইডির মো. একরামুল হাবীব, অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের মো. মাসুম বিল্লাহ তালুকদার, এসবি ঢাকার মো. নজমুল হোসেন, পুলিশ অধিদপ্তরের মো. আশিক সাঈদ, ডিএমপির মো. আনিছুর রহমান, পুলিশ অধিদপ্তরের সারোয়ার মোর্শেদ শামীম, সিআইডির ড. মো. আল-মামুনুল আনছারী, ঢাকা রেঞ্জের মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ, কেএমপি, খুলনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ, এসবি, ঢাকার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, এসবি, ঢাকার মু. মাহবুবুর রশীদ, হাইওয়ে পুলিশ, ঢাকার মো. শামসুল আলম, ৯ এপিবিএন, চট্টগ্রামের মোহাম্মদ শামসুল হক এপিবিএন, ঢাকার মো. নজরুল ইসলাম, ডিএমপির সানা শামীনুর রহমান জিএমপির মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, পুলিশ অধিদপ্তরের মো. আতিকুর রহমান, ঢাকা রেঞ্জের মো. মোস্তাফিজুর রহমান, পিএসটিএস, বেতবুনিয়া, রাঙামাটির ড. মো. আব্দুস সোবাহান, এসবি, ঢাকার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, ডিএমপির মোহাম্মদ ওসমান গণি, পিবিআই, ঢাকার মো. ওয়ালিদ হোসেন, পুলিশ অধিদপ্তরের মিয়া মাসুদ করিম, আরআরএফ, চট্টগ্রামের মোহাম্মদ হাসান বারী নূর, এসবি, ঢাকার একেএম মোশাররফ হোসেন মিয়াজী, সিএমপির মো. হুমায়ুন কবির, আরআরএফ ও খুলনার নওরোজ হাসান তালুকদার। এছাড়াও সুপারনিউমারারি ডিআইজি হিসাবে পদোন্নতি পেয়েছেন দুই কর্মকর্তা। তারা হলেন, ডিএমপির মোহাম্মদ এনামুল হক ও আরআরএফ, সিলেটের মো. হুমায়ুন কবীর।
বিভিন্ন ইউনিটে বদলি হওয়া ১৩ এসপি : বদলি হওয়া কর্মকর্তারা হলেন, মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার এমকেএইচ জাহাঙ্গীর হোসেনকে এসবিতে, রংপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু সাইমকে ডিএমপিতে, সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার তোফায়েল আহম্মেদকে খুলনা রেঞ্জে, শেরপুরের পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলামকে পিবিআইতে, কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুর রহমানকে রংপুরের আরপিএমপিতে, পিরোজপুরের পুলিশ সুপার খাঁন মুহাম্মদ আবু নাসেরকে এপিবিএনে ও সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. ফারুক হোসেনকে আরএমপিতে বদলি করা হয়েছে। নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাফিউল সানোয়ারকে পিবিআইতে, লক্ষ্মীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. আকতার হোসেনকে পিবিআইতে, কক্সবাজার জেলার পুলিশ সুপার মো. সাইফউদ্দীন শাহীনকে সিআইডিতে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিমকে ডিএমপিতে, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানকে এসবিতে এবং ভোলা জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হককে পিবিআইতে বদলি করা হয়েছে।
এছাড়াও আরও দুই কর্মকর্তাকে পৃথক কর্মস্থলে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে আরএমপির পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানকে পুলিশ অধিদপ্তরে ও ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিআইজি) মো. জিল্লুর রহমানকে আরএমপিতে।
১৬৬ উপজেলায় নতুন ইউএনও যারা : শিবগঞ্জ-আশিক আহমেদ, জয়পুরহাট সদর-উম্মে মুসলিমা, নলডাঙ্গা-মো. নূরুল আমিন, উল্লাপাড়া-এ.টি.এম আরিফ, ঈশ্বরদী-মো. আরিফুর রহমান, দুর্গাপুর-মাশতুরা আমিনা, নাচোল-মো. গোলাম রব্বানী সরদার, পাবনা সদর-তামারা তাসবিহা, রায়গঞ্জ-আবদুল খালেক পাটোয়ারী, বেড়া-রুনাল্ট চাকমা, গোদাগাড়ী-মো. নাজমুস সাদাত রত্ন, সিংড়া-আব্দুল্লাহ আল রিফাত, শেরপুর-এম. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ আহমেদ, কুমারখালী-ফারজানা আখতার, খোকসা-মো. মাহমাদুল হাসান, মুজিবনগর-সাইফুল হুদা, চুয়াডাঙ্গা সদর-রিফাত আরা, দামুড়হুদা-মো. উবায়দুর রহমান সাহেল, যশোর সদর-সাফফাত আরা সাঈদ, শার্শা-ফজলে ওয়াহিদ, মনিরামপুর-মো. সম্রাট হোসেন, মাগুরা সদর-মেহেরুন্নাহার, শ্রীপুর-মোহাম্মদ সালেক মূহিদ, শৈলকুপা- মো. মাহফুজুর রহমান, চৌগাছা- তানভীর আহমদ, তেরখাদা- এ.বি.এম. সারোয়ার রাব্বী, পাইকগাছা- ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী, বাগেরহাট- মোসাঃ আতিয়া খাতুন, শরণখোলা- মো. জাহিদ হাসান, কালিয়া- মো. জিন্নাতুল ইসলাম, তালা- তারেক হাসান, আশাশুনি- মো. সাইদুজ্জামান হিমু, কালিগঞ্জ- নাজমুন লায়েল, বটিয়াঘাটা- থান্দার কামরুজ্জামান, পাংশা- মো. রিফাতুল হক, কালুখালী মো. মেজবাহ উদ্দিন, ফরিদপুর সদর- মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া, মধুখালী- রওশনা জাহান, সদরপুর- শরীফ শাওন, আলফাডাঙ্গা- রিফাত নুর মৌসুমী, বোয়ালমারী- এস.এম. রকিবুল হাসান, নগরকান্দা- মো. আব্দুল্লাহ্-আল-নোমান সরকার, ভাঙ্গা- আব্দুল্লাহ-আবু-জাহের, চরভদ্রাসন- জালাল উদ্দিন, সাভার- মো. সাইফুল ইসলাম, ধামরাই- সালমান হাবীব, নারায়ণগঞ্জ- এসএম ফয়েজ উদ্দিন, সোনারগাঁ- শাহ্ মো. জুবায়ের, আড়াইহাজার- মো. আসাদুর রহমান, কালিয়াকৈর- এ.এইচ.এম. ফখরুল হোসাইন, শিবালয়- মনিষা রানী কর্মকার, ডামুড্যা- মো. সালাহউদ্দিন আইয়ূবী, জাজিরা- মো. তাহমিদুল ইসলাম, লৌহজং- ফারজানা ববি মিতু, গজারিয়া- মো. মাহমুদুল হাসান, টঙ্গীবাড়ী- সুরাইয়া মমতাজ, মিঠামইন- এস. এম. আব্দুল্লাহ-বিন-সফিক, পাকুন্দিয়া- লায়লা ইয়াসমিন, ভৈরব- কে.এম. মামুনুর রশীদ, বেলাবো- কুরশিয়া আক্তার, নাগরপুর মো. এরফান উদ্দিন, টুঙ্গীপাড়া- জহিরুল আলম, কাশিয়ানী- মো. শাহিন মিয়া, বালাগঞ্জ- মো. মেহেদী হাসান, চুনারুঘাট- মো. জিয়াউর রহমান, আজমিরীগঞ্জ- এস.এম. রেজাউল করিম, কমলগঞ্জ- নাছরিন সুলতানা, জকিগঞ্জ- মাসুদুর রহমান, কানাইঘাট- মো. মেহেদী হাসান শাকিল, জৈন্তাপুর- মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, গোলাপগঞ্জ- আবিদা সিফাত, হবিগঞ্জ সদর- ফাতেমা তুজ জোহরা সানিয়া, লাখাই- সৈয়দ মুরাদ ইসলাম, শায়েস্তাগঞ্জ- তানিয়া আক্তার, বিশ্বম্ভরপুর- আবদুল মতিন খান, বিশ্বনাথ- উম্মে কুলসুম রুবি, জুড়ী- মো. মারুফ দস্তেগীর, ময়মনসিংহ সদর- জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি, ত্রিশাল- আরাফাত সিদ্দিকী, তারাকান্দা- মো. আমিনুল ইসলাম, মুক্তাগাছা- কৃষ্ণ চন্দ্র, ভালুকা- মো. ফিরোজ হোসেন, জামালপুর সদর- নাজনীন আখতার, ইসলামপুর- নাজমুল হুসাইন, মেলান্দহ- জিন্নাতুল আরা, মাদারগঞ্জ- সুমন চৌধুরী, কেন্দুয়া- মো. রিফাতুল ইসলাম, বারহাট্টা- মোছা. জিনিয়া জামান, মদন- বেদবতী মিস্ত্রী, বকশীগঞ্জ- মো. আবদুল হাই, সরিষাবাড়ী- মো. তাসনিমুজ্জামান, দেওয়ানগঞ্জ- মুরাদ হোসেন, মুলাদী মো. গোলাম সরওয়ার, বরিশাল সদর- মানজুরা মুশাররফ, কাউখালী- মুহ. সাদ্দাম হোসেন, আমতলী- মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী, বেতাগী- মো. আসাদুজ্জামান, তালতলী- মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, বরগুনা সদর- মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক, মনপুরা- মো. আবু মুছা, দৌলতখান- আব্দুল্লাহ্ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী, তজুমদ্দিন- মো. রেজাউল ইসলাম, চরফ্যাশন- মো. লোকমান হোসেন, বোরহানউদ্দিন- মনোরঞ্জন বর্মন, পটুয়াখালী সদর- রওজাতুন জান্নাত, মির্জাগঞ্জ- মোছা. মলিহা খানম, রাঙ্গাবালী- মো. নাহিদ ভূঞা, দুমকি- মোছা. ফরিদা সুলতানা, বাউফল- সালেহ আহমেদ, দশমিনা- মো. সাইফুল ইসলাম, ঝালকাঠি সদর- সেগুফ্তা মেহ্নাজ, নলছিটি- মো. জোবায়ের হাবিব, কাঁঠালিয়া- মো. মকবুল হোসেন, সাদুল্লাপুর- মাহমুদুল হাসান, কাউনিয়া- পাপিয়া সুলতানা, তারাগঞ্জ- মো. মোনাববর হোসেন, পীরগাছা- দেবশীষ বসাক, বদরগঞ্জ- আঞ্জুমান সুলতানা, গঙ্গাচড়া- মোছা. জেসমিন আক্তার, মিঠাপুকুর- মো. পারভেজ, সুন্দরগঞ্জ- ঈফফাত জাহান তুলি, ফুলছড়ি- মো. মোস্তাফিজুর রহমান, সাঘাটা- মো. আশরাফুল কবীর, উলিপুর- মাহামুদুল হাসান, রৌমারী- আলাউদ্দিন, ফুলবাড়ী- দিলারা আকতার, চর রাজিবপুর- এ.এফ. এম শামীম, নাগেশ্বরী- শারমিন জাহান লুনা, ভুরুঙ্গামারী- শাহাদাৎ হোসেন, পাটগ্রাম- সানজিদা আক্তার, ফুলবাড়ী- আহমেদ হাছান, বিরামপুর- তাহমিনা সুলতানা নীলা, বিরল- জিমরান মোহাম্মদ সায়েক, হাকিমপুর- অশোক বিক্রম চাকমা, ঘোড়াঘাট- রুবানা তানজিন, হরিপুর- মো. রায়হানুল ইসলাম, পীরগঞ্জ- মো. তাছবীর হোসেন, ফটিকছড়ি- সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম, চৌদ্দগ্রাম- মো. আল এমরান খাঁন, সুবর্ণচর- আকিব ওসমান, বিজয়নগর- হাছিবুর রহমান, বোয়ালখালী- মেহেদী হাসান ফারুক, রাঙ্গুনিয়া- মো. রাহাত বিন কুতুব, কক্সবাজার সদর- তানজিলা তাসনিম, পেকুয়া- মাহবুব আলম মাহবুব, রামু- মো. ফজলে রাব্বানী চৌধুরী, চকরিয়া- শাহীন দেলোয়ার, মহেশখালী- ইমরান-মাহমুদ-ডালিম, ঈদগাঁও- মীর কামরুজ্জামান কবির, টেকনাফ- মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম, নানিয়ারচর- মঞ্জুরুল মোর্শেদ, বিলাইছড়ি- হাসনাত জাহান খান, রাজস্থলী- সেলিনা আক্তার, ছাগলনাইয়া- ফারহানা পৃথা, পরশুরাম- তাহমিনা সারমিন, লালমাই- উম্মে তাহমিনা মিতু, নাঙ্গলকোট- লিজা আক্তার বিথী, হোমনা- মো. শহিদুল ইসলাম, কচুয়া- মাহমুদুল হাসান রাসেল, মতলব দক্ষিণ- কে. এম. ইশমাম, বেগমগঞ্জ- মো. কায়েসুর রহমান, কোম্পানীগঞ্জ- মো. মাসুদুর রহমান, রামগতি- নিলুফা ইয়াসমিন নিপা, নবীনগর- মো. আশরাফ আলী, রুমা- মো. এমদাদুল হক শরীফ, বরুড়া- আসাদুজ্জামান রনি।
এদিকে বুধবার সচিবালয়ে এক পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, আমরা তিনটা ক্রাইটেরিয়া নির্ধারণ করছি; এ-ক্যাটাগরি, বি-ক্যাটাগরি, সি-ক্যাটাগরি। এটা জেলার আয়তনের ভিত্তিতে করা হয়নি, আমরা করেছি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। ওই জেলাগুলো নির্ধারণ করে, তারপর আমরা ঠিক করেছি এসপিদের কারে কারে দেব। আমাদের টোটাল এসপি ছিল মনে হয় ৬৪ জেলায়। ৬৪ জেলা থেকে আমরা ১৮ জনকে উঠিয়ে এনেছি। ১৮ জনের জায়গায় আবার আমরা নতুন কর্মকর্তা দিয়েছি। লটারি করে যারটা যেই জেলায়, যার কপাল আছে ওই জেলায় পড়ছে।
এক প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, প্রথমে আমরা মেধাবী এসপিদের বেছে নিয়েছি। মেধাবীরা কেউ বাদ পড়েননি। পরে মেধাবীদের মধ্যে কে কোন জেলায় যাবেন সেটা লটারির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও নির্বাচনের আগে লটারির মাধ্যমেই সারা দেশে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পদে রদবদল করা হবে বলেও এ সময় জানান তিনি।
এদিকে পুলিশের ৩৩ কর্মকর্তাকে একযোগে উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত আলাদা দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। একটি প্রজ্ঞাপনে ৩১ জনকে এবং অন্যটিতে দুজনকে সুপারনিউমারারি ডিআইজি হিসাবে পদোন্নতি দেওয়ার তথ্য জানানো হয়।
একই দিনে পৃথক আরেকটি আদেশে বিভিন্ন জেলার ১৩ জন পুলিশ সুপারকে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে বদলি করা হয়েছে। এসব ইউনিটের মধ্যে রয়েছে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), খুলনা রেঞ্জ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। এছাড়াও অপর একটি প্রজ্ঞাপনে দুই ডিআইজিকে পুলিশ অধিদপ্তর ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশে (আরএমপি) বদলি করা হয়।