ইসরায়েলি হামলায় একদিনে কমপক্ষে আরও ১০৬ ফিলিস্তিনি নিহত - Alokitobarta
আজ : মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলি হামলায় একদিনে কমপক্ষে আরও ১০৬ ফিলিস্তিনি নিহত


আলোকিত বার্তা:ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি হামলায় একদিনে কমপক্ষে আরও ১০৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে আবারও ভয়াবহ মাত্রায় হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েল। গাজার অসহায় জনগণের ওপর এই অবিরাম বর্বরতায় প্রাণ হারাচ্ছেন শত শত ফিলিস্তিনি। গাজা উপত্যকায় গত কয়েকদিন ধরে ইসরায়েলের ধারাবাহিক বিমান হামলা নতুন করে রক্তাক্ত করেছে অবরুদ্ধ এই জনপদকে।সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (৮ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তুরস্কভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলু জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে আরও ১০৬ জন ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছেন প্রায় ৪০০ জন। গত ১৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের এই নতুন হামলা অভিযানে এখনও পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ২ হাজার ৬৫০ জনের বেশি মানুষ। এই হামলা এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন জানুয়ারি মাসে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে কিছুটা শান্তি ফিরে এসেছিল গাজায়। কিন্তু হামাসের সঙ্গে সেনা প্রত্যাহার নিয়ে মতবিরোধ দেখিয়ে ইসরায়েল আবারও শুরু করে বোমাবর্ষণ।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ইসরায়েলের এই গণহত্যামূলক আগ্রাসনে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ হাজার ৭৬০ জনে। আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ১৯ হাজার ২৬৪ জন। অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন, যাদের কাছে পৌঁছাতে পারছে না উদ্ধারকারীরা। এরই মধ্যে গাজার বড় একটি অংশে মানবিক বিপর্যয় চরম আকার ধারণ করেছে। প্রায় প্রতিটি হাসপাতাল, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলার কারণে গাজার অন্তত ৮৫ শতাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছেন, যাদের অধিকাংশ এখন শরণার্থী শিবির কিংবা উন্মুক্ত জায়গায় অমানবিক পরিবেশে জীবন যাপন করছেন।ইসরায়েলের এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কিছু প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও তা কার্যকর কোনো পদক্ষেপে রূপ নেয়নি। গত বছরের নভেম্বরেই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজায় যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যার মামলা চলছে। কিন্তু তবুও থেমে নেই ইসরায়েলি আগ্রাসন; বরং যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে আবারও নতুন মাত্রায় হত্যা অভিযান চালানো হচ্ছে।গাজার নিরস্ত্র জনগণের ওপর এই একতরফা আক্রমণ বিশ্ব বিবেককে চরমভাবে নাড়া দিলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ এখনো দেখা যায়নি। শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষের মৃত্যু এই যুদ্ধকে আর কেবল রাজনৈতিক সংঘর্ষ রাখেনি—এটি পরিণত হয়েছে মানবতার চরম বিপর্যয়ে। তথ্যসূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

Top