ফুসফুসের অন্যতম শত্রু হলো দূষিত বায়ু - Alokitobarta
আজ : বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুসফুসের অন্যতম শত্রু হলো দূষিত বায়ু


ডা.মুন্সী মুবিনুল হক : আজ বিশ্ব ফুসফুস দিবস। ফুসফুসের অন্যতম শত্রু হলো দূষিত বায়ু। বায়ুদূষণ হলো বায়ুমণ্ডলে এমন সব পদার্থের উপস্থিতির কারণে হওয়া দূষণ, যা মানুষ এবং অন্যান্য জীবের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এটি মূলত রাসায়নিক ক্রিয়াকলাপ, শারীরিক বা জৈব মাধ্যম দ্বারা গঠিত ভেতরের বা বাইরের পরিবেশের একপ্রকার দূষণ, যা বায়ুমণ্ডলের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যগুলোকে পরিবর্তন করে দেয়।জলবায়ু পরিবর্তনে যখন সারা বিশ্ব সতর্ক অবস্থান নিয়ে কাজ করছে, তখনই বিশ্বে বায়ুদূষণে শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে ঢাকা। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বিশ্বের বায়ুমান যাচাইবিষয়ক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের বায়ুমান সূচকে দেখা যায়, গত সোমবার সকালে বিশ্বের ১২০টি শহরের মধ্যে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ছিল বায়ুদূষণের শীর্ষে। এ সময় ঢাকার বাতাসে দূষণের মাত্রা ছিল ২৭৮। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে ছিল যথাক্রমে পাকিস্তানের লাহোর ও ভারতের দিল্লি। এ দুটি শহরের দূষণের মাত্রা ছিল যথাক্রমে ১৭৭ ও ১৬৭।

বায়ুদূষণের কারণে যেসব রোগ হতে পারে : বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি প্রজন্ম যদি দীর্ঘ সময় বায়ুদূষণের মধ্যে কাটিয়ে দেয়, তাহলে এর মারাত্মক প্রভাব পড়ে পরবর্তী প্রজন্মের ওপর। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় বায়ুতে ক্ষতিকর বস্তুকণার পরিমাণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বেঁধে দেওয়া সীমার ১০ গুণেরও বেশি।দীর্ঘদিন দূষিত বাতাসের মধ্যে থাকলে যেসব রোগ হতে পারে, তার মধ্যে রয়েছে-হৃদরোগ, কাশি, নিউমোনিয়াসহ ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগ, ফুসফুসের সংক্রমণ, ফুসফুসের ক্যানসার, ডায়াবেটিস, অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্টজনিত নানা রোগ, স্ট্রোক, চোখে ছানি পড়া, শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের সমস্যা।

বায়ুদূষণ যেভাবে কমানো যেতে পারে : বায়ুদূষণ কমাতে আমাদের প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনে আমাদের করণীয় সম্পর্কে জানতে হবে। জলবায়ু পরির্বতন ও বায়ুদূষণ রোধে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আরও যেসব কাজ করা যেতে পারে তা হলো-পরিকল্পিতভাবে কারখানাগুলোর ধোঁয়া কমিয়ে আনা; কারখানাগুলো শহরের বাইরে নিয়ে যাওয়া; যানজটের সমাধান; উন্নত জ্বালানি ব্যবহার করা; এয়ার কন্ডিশনার কম ব্যবহার করা; বাড়িঘর ও আবাসিক এলাকাগুলো পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা, যেখানে উদ্যান ও পুকুর থাকবে; নির্মাণকাজগুলো নিয়ন্ত্রিতভাবে করা, যাতে সেটি দূষণের কারণ না হয়; স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে এমন পদার্থের বায়ুমণ্ডলে নির্গমন কমাতে বা নির্মূল করতে প্রচুর বনায়ন করা।আরও আমাদের যা করতে হবে তা হলো-মানুষকে ছাদবাগানে উৎসাহিত করা, জলাধার সংরক্ষণ ও একইসঙ্গে নির্মল বায়ু আইনের বাস্তবায়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণে বাজেটের ওপর গুরুত্ব দেওয়া।

ডা. মুন্সী মুবিনুল হক

মেডিকেল অফিসার সিভিল সার্জন বরিশাল।

আলোকিত বার্তার নির্বাহী সম্পাদক।

ই-মেইল : munshimobin63@gmail.com

ব্যাচ (বিসিএস) : ৩৩

Top