ভেজাল ও লাইসেন্স ছাড়া ওষুধ উৎপাদন এবং সরকারি ওষুধ চুরির অপরাধে ১০ বছরের জেল
মোহাম্মাদ আবুবকর সিদ্দীক ভুঁইয়া :সংবাদ সম্মেলন করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ব্যাখ্যা তুলে ধরতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া ওষুধ আইন-২০২২-এর খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ভেজাল ও লাইসেন্স ছাড়া ওষুধ উৎপাদন এবং সরকারি ওষুধ চুরির অপরাধে ১০ বছরের জেল অথবা ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান আছে। এছাড়াও জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২-এর খসড়া ও ‘দ্য এস্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০২২’ খসড়াও অনুমোদন পায় এ সভায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ বৈঠক হয়।প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি বৈঠকে যোগ দেন। আর মন্ত্রীরা সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বৈঠকে অংশ নেন। পরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।
বৈঠকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ওপর জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে ব্রিফ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি বলেন, এরই মধ্যে জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও বিপিসির (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন) চেয়ারম্যান গণমাধ্যমে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলেছেন। সেটাই মন্ত্রিসভায় অবহিত করা হয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে কি দেশে কমবে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এগুলো নিয়ে তো উনারা বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন, আবারও ব্যাখ্যা দেবেন। এটা একটা টেকনিক্যাল বিষয়। স্বল্প পরিসরে আমি ব্যাখ্যা দিলে পালটা অনেক প্রশ্ন আসবে, উত্তরও হয়তো দেওয়া যাবে না। এজন্য জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে আবার ব্রিফ করতে বলা হয়েছে।জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) প্রশ্ন তুলেছে। এ বিষয়ে মন্ত্রিসভায় কথা হয়েছে কিনা-জানতে চাইলে খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়গুলোই আলোচনার পর জ্বালানি মন্ত্রণালয় বা বিপিসিকে বলা হয়েছে, যাতে তারা ইমিডিয়েটলি ক্লারিফাই (পরিষ্কার) করে। সরকার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এগুলো উনাদের (মন্ত্রণালয়) ব্রিফিংয়ে সব পরিষ্কার করবেন। ৫ আগস্ট শুক্রবার রাত ১২টার পর ডিজেল, পেট্রোল, কেরোসিন ও অকটেনের দাম বাড়ায় সরকার।
মন্ত্রিসভার অন্যান্য সিদ্ধান্তের বিষয় জানাতে গিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ঔষধ আইনের খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ওষুধ প্রশাসন কীভাবে গঠিত হবে, ওষুধ প্রশাসনের কার্যক্রম কী হবে, ওষুধ প্রশাসন মান কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে-এসব বিষয় খসড়ায় তুলে ধরা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ওষুধ উৎপাদন, বিক্রয়, মজুত, বিতরণ ইত্যাদির জন্য কীভাবে লাইসেন্স দেবে, ফি কত হবে, লাইসেন্স প্রাপ্তির যোগ্যতা কী থাকবে-এগুলো তারা ঠিক করবে বলে আইনে উল্লেখ রয়েছে। তিনি বলেন, যদি কেউ ভুলত্রুটি করে বা অন্যায় কিছু করে-তার বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে তাও বলা হয়েছে।আইনে সাজার বিষয় উল্লেখ করে ভেজাল ওষুধ সেবনে মানুষের মৃত্যুর অপরাধে সাজার বিধান আছে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেউ যদি ইচ্ছাকৃত এ ধরনের কাজ করে তাহলে পেনাল কোডের ৩০২ বা ৩০৪ ধারায় বিচার হবে। ওইসব ধারায় মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন ছাড়াই যদি কিছু করে তাহলে তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া যাবে। সরকারি ওষুধ, ফিজিশিয়ান স্যাম্পল ওষুধ কোনোভাবেই আর্থিক লেনদেনের মধ্যে আসতে পারবে না। লাইসেন্স ছাড়া কোনো ওষুধ আমদানি, মজুত ও বিক্রি করতে পারবে না। ঔষধ আইনে ড্রাগ অথরিটি সব ধরনের তদন্ত করবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক জেলা সদরে একটা করে আদালত থাকবে। এটা টেকনিক্যাল বিষয় হওয়ায় ড্রাগ অথরিটি তদন্ত করবে। তিনি জানান, ‘ড্রাগ অর্ডিন্যান্স ১৯৮২’, ১৯৪০ সালে ড্রাগ অ্যাক্ট ও ১৯৮৪ সালের ওষুধ নীতিমালার আলোকে এ আইনের খসড়া করা হয়েছে।বৈঠকে ট্রাইব্যুনাল গঠন না হওয়া পর্যন্ত এস্টেট অ্যাকুইজিশন আইনের মামলা নিষ্পত্তিতে বিচারক নিয়োগের বিষয়ে সংশোধনী এনে ‘দ্য এস্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০২২’ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সভায় জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২ এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে ২০টি অধ্যায় আছে। এটি রপ্তানিমুখী শিল্পের উন্নয়ন ও বহুমুখীকরণ, সেবা খাতের উন্নয়ন, আইসিটিভিত্তিক উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং বিদেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। বৈঠকে বাণিজ্যিক সম্প্রসারণে আন্তর্জাতিক বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে বিভিন্ন দেশে সফর সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অবহিত করা হয়।