ভবন ভাঙার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হবে ২৫ এপ্রিল বিজিএমইএ - Alokitobarta
আজ : সোমবার, ১৭ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ভবন ভাঙার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হবে ২৫ এপ্রিল বিজিএমইএ


আলোকিত বার্তা:গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম বলেছেন,ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে নয়, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিজিএমইএ ভবন ভাঙা হবে। তবে কী পদ্ধতিতে ভবনটি ভাঙা হবে,তা চূড়ান্ত করা হবে আগামী ২৫ এপ্রিল।তিনি বলেন,ভবন ভাঙায় আধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ দেশীয় প্রতিষ্ঠান যদি না পাওয়া যায় সেজন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে।সচিবালয়ে নিজ দফতরে বুধবার সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।মন্ত্রী বলেন,ভবন ভাঙার ক্ষেত্রে আগ্রহীদের কাছ থেকে দরপত্র আহবান করা হয়েছে। বুধবার বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়েছে। ২৪ এপ্রিলের মধ্যে আগ্রহীদেরকে তাদের প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা আশা করছি, ২৫ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে আমরা ওয়ার্ক অর্ডার দিয়ে দেব এবং সুপ্রিম কোর্টের একটা নির্দেশনা আছে, সেই নির্দেশনার আওতায় কোনোভাবেই টোটাল ভবন ভেঙে এবং সেখানে যা স্তুপ তা সরিয়ে ফেলা তিন মাসের ঊর্ধ্বে হবে না। জায়গাটা পরিষ্কার হয়ে যাবে তিন মাসের মধ্যে।গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অবৈধভাবে নির্মিত বিজিএমইএ ভবন ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আলোকে সেটাকে ভেঙে ফেলার কার্যক্রম নিয়েছি, মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিজিএমইএ ভবন ভেঙে ফেলার কার্যক্রম আমরা শুরু করেছি।তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ভবনটি আমরা দখলে নিয়েছি, ভবনে অন্য কারও প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছি। ভবনে সেবামূলক যেসব সংযোগ ছিল একেবারে প্রয়োজনীয় সংযোগ ছাড়া বিচ্ছিন্ন করেছি।

তিনি আরো বলেন, ভবনটি গুঁড়িয়ে দেয়ার পর যেখানে পড়বে আশপাশে যাতে কোনো দুর্ঘটনার মুখোমুখি না হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি, অর্থাৎ বিদ্যুতের লাইন অনেক দূরে সরিয়ে দেয়া, পানি ও গ্যাসের লাইন অনের দূর থেকে বিচ্ছিন্ন করাসহ একটা প্রস্তুতির প্রয়োজন আছে।র‌্যাংগস ভবন ভাঙতে গিয়ে বেশ প্রাণহানি হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এবারে আমাদের প্রস্তুতি বিজ্ঞানসম্মত, প্রযুক্তিসম্মত হবে, যাতে ভবনটি ভাঙতে গিয়ে কোনো ধরনের প্রাণহানি কিংবা কোনো রকম আনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতির মুখোমুখি না হই, সেই প্রস্তুতি নিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।অন্যান্য অবৈধভবন ভেঙে ফেলবেন কি না- জানতে চাইলে গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, আমরা ইতোমধ্যে বড় পরিকল্পনা নিয়েছি, ২৪টি টিম কাজ করছে ভবন পরিদর্শন করে রিপোর্ট দিতে। দু’টি তদন্ত কমিটি হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে একটি প্যাকেজ প্রোগ্রাম করবো।তিনি বলেন,অতীতে এডহক ভিত্তিতে হয়েছে, যে একটি ভবন ভেঙে দায়িত্ব শেষ। এবার তা নয়, যেগুলো ঝুঁকিপূর্ণ ভবন মনে করব, যেগুলো আনঅথরাইজড মনে করব, সেগুলোকে নিয়মিত পদ্ধতি ও প্রক্রিয়ার মধ্য থেকে সম্পন্ন করবে। আজ একটু করলাম, কালকে একটু করলাম, পথে থেমে গেলাম, এমন পরিস্থিতি ভেতর নয়। আমরা পরিপূর্ণ একটি কার্যক্রমে যাচ্ছি। আগামী সপ্তাহে সামগ্রিক অবস্থা নিয়ে বলতে পারব।তিনি আরো বলেন, আমরা দেশবাসীকে জানাতে চাই, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। যারা বেআইনি ইমারত বা স্থাপনা নির্মাণ করবেন তাদের সবাইকে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসতে চাই, যাতে কেউ দর্প করে বলতে না পারে আমি ইমারত নির্মাণ করে ফেলেছি এখন আর কিছু করার নেই।১৯৯৮ সালে সরকারের কাছ থেকে জমি বরাদ্দ নিয়ে হাতিরঝিলে বিজিএমইএ ভবন নির্মাণ শুরু করেছিলেন দেশের রফতানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা, যার কাজ শেষ হয় ২০০৭ সালে।

২০১১ সালের ৩ এপ্রিল হাইকোর্ট এক রায়ে বিজিএমইএর বর্তমান ভবনটিকে ‘হাতিরঝিল প্রকল্পে একটি ক্যানসারের মতো’ উল্লেখ করে রায় প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেন। এর বিরুদ্ধে বিজিএমইএ লিভ টু আপিল করে, যা ২০১৬ সালের ২ জুন আপিল বিভাগে খারিজ হয়।রায়ে বলা হয়,ভবনটি নিজ খরচে অবিলম্বে ভাঙতে আবেদনকারীকে (বিজিএমইএ) নির্দেশ দেয়া যাচ্ছে। এতে ব্যর্থ হলে রায়ের কপি হাতে পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে রাজউককে ভবনটি ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেয়া হলো। পরে ভবন ছাড়তে উচ্চ আদালতের কাছে সময় চায় বিজিএমইএ। প্রথমে ছয় মাস এবং পরে সাত মাস সময়ও পায় তারা। সর্বশেষ গত বছর নতুন করে এক বছর সময় পায় সংগঠনটি। সে সময় তারা মুচলেকা দেয়, ভবিষ্যতে আর সময় চাওয়া হবে না।কারওয়ান বাজারে বিজিএমইএর বর্তমান ভবনটি দুটি বেসমেন্টসহ ১৬ তলা। বিজিএমইএ ব্যবহার করে চারটি তলা। বাকি জায়গা দুটি ব্যাংকসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। তবে আইনি জটিলতার কারণে তাদের মালিকানা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। ভবনের ওপরের দুই তলা নিয়ে বিলাসবহুল ‘অ্যাপারেল ক্লাব’ করা হয়েছে। সেখানে সংগঠনের সদস্যদের জন্য সুইমিং পুল, ব্যায়ামাগার, রেস্টুরেন্ট ও সভাকক্ষ আছে। বড় আকারের একটি মিলনায়তনও আছে।

Top
%d bloggers like this: