সব ভালো কাজে আমরা সহযোগিতা করব,খারাপ হলে বসে থাকব না,সমালোচনা করব
মোহাম্মাদ মুরাদ হোসেন:বর্তমান সংসদ গ্যালারিকেই ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ-উল্লেখ করে সারা বিশ্বের সব বাংলাদেশি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দিকে তাকিয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।একই সঙ্গে তিনি দল এবং আদর্শের ভিত্তিতে নয়,মেধা (মেরিট) এবং কমিটমেন্টের ভিত্তিতে সব নাগরিককে মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে
বিরোধীদলীয় নেতা এসব কথা বলেন।মানুষকে তার মতো করে মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দল এবং আদর্শের ভিত্তিতে নয়, মেরিট এবং কমিটমেন্টের ভিত্তিতে যাতে সব নাগরিককে মূল্যায়ন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বেই যাতে তা হয়। আজ সরকারি এবং বিরোধী দল এক হয়ে কমিটি হওয়ায় মানুষ আস্থা রেখেছে। সংকট কাটতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, সরকারি দলের অনেকে ৭২-এর সংবিধানকে সম্মান করেন। এটি করতে পারেন না। কারণ ৭২-এর সংবিধান পরিবর্তন করে গেছেন জিয়াউর রহমান। আর আমাদের এমনভাবে বলা হয়, যেন আমরা সংবিধান মানি না। কিন্তু যতক্ষণ এই সংবিধান আছে, পরিবর্তনের আন্দোলন করতে পারি, কিন্তু বিদ্রোহ করব না।
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন,আমরা বিরোধী দলকে প্রতিনিধিত্ব করতে আসিনি,২০ কোটি মানুষের কথা বলতে এসেছি। সব ভালো কাজে আমরা সহযোগিতা করব। খারাপ হলে বসে থাকব না, সমালোচনা করব। শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান কারও মুখের দিকে তাকিয়ে পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেননি। যেই মজলুম হবে, তার পক্ষে আমাদের থাকতে হবে। স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি হতে হবে। সীমাহীন বন্ধুর প্রয়োজন আছে, একজন প্রভুরও দরকার নেই। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারও চোখ রাঙানি আমরা সহ্য করব না। সরকার এই প্রকল্প শুরু করলে আমরা সরকারের পাশে থাকব। জামায়াত আমির বলেন, ৪৭ কে সম্মান করি। ওই সীমারেখাটাই বাংলাদেশের সীমানা। বরং কিছু নদী চলে গেছে প্রতিবেশীদের পেটে।
অনলাইন এবং অফলাইনে বিভিন্ন অপপ্রচারের বিষয়ে ব্যবস্থাগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিবারকে জড়িয়ে যারা অশ্লীলতা করেছেন, প্রধানমন্ত্রী তার বিচার চাননি, আমি বিচার চাইলাম। উনার মেয়ে মানে আমার মেয়ে। এই ইতর কারা, বের করে আনা হোক। নোংরা ধারা বন্ধ করা উচিত। অপরাধীকে খুঁজতে সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা করারও আশ্বাস দেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজ কোনো দলের হতে পারে না। এরা নাম ভাঙানো বর্ণচোরা। আমরা শপথ নিই আমরা এদের নির্মূল করব। নতুন ইতিহাস রচনা করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঐক্যের ডাক দেওয়ার আগে দা-কুড়াল ফেলে দিন। আর ইতিহাস নিয়ে পড়ে থাকলে, নিজেরা ইতিহাস রচনা করতে পারব না। যে অন্যের দোষের তালিকা করে, সে মহৎ হতে পারে না। যে নিজের দোষ খুঁজে পায়, সেই মহৎ।
বিরোধীদলীয় নেতা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের সব অপরাধের বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলে যতগুলো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, যতগুলো খুন-গুম হয়েছে, যত জায়গায় মানবতা লঙ্ঘিত হয়েছে, ধর্ষণ হয়েছে-এর প্রতিটি অপরাধের বিচার করতে হবে। সেই বিচার ওসমান হাদি পর্যন্ত আসতে হবে। কিন্তু বিচারের দিকে তাকিয়ে আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না। বিচারের অঙ্গনে কি সবুজ পতাকা উঠছে, না লাল পতাকা উঠছে, না কালো পতাকা উঠছে বুঝতে পারছি না। আমরা একটা সবুজ পতাকা দেখতে চাই।
ডা. শাফিকুর রহমান বলেন, জাতিকে আমরা হতাশ করব না। জাতির প্রত্যাশার আলোকে মজলুমের পাওনা তার কাছে পৌঁছে দেব। না হলে শহীদদের আত্মা, তাদের আপনজন গুমের শিকার লোকগুলো, তাদের আপনজন ধর্ষণের শিকার হয়েছে, যার চোখের পানিতে হয়তো একটা নালা নদী তৈরি হয়ে গেছে, তাদের আত্মার অভিশাপের ভার এই সংসদের বহন করা ঠিক হবে না।
শিক্ষাঙ্গনে নিরাপত্তা দাবি করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শিক্ষাঙ্গনগুলোকে সব ধরনের সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে যেন পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হয়। আমরা দেখতে চাই শিক্ষাঙ্গনে শিশু হয়ে ঢুকবে, পরিণত মানুষ হয়ে বের হবে। দক্ষ নাগরিক হয়ে, নৈতিকতাবোধসম্পন্ন নাগরিক হয়ে, দেশপ্রেম বুকে নিয়ে, দেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে বের হবে। আমরা সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেখতে চাই। দেশকে যদি আগাতে হয় তাহলে শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য এই দুইকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।
শফিকুর রহমান বলেন,আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি-উন্নতি আমি এগুলা বুঝি না। যে সরকার আসে এসেই বলে যে আগের চেয়ে এখন অবস্থা ভালো। বর্তমানে আমরা একটা নিরাপদ বাংলাদেশে বসবাস করতে চাই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করব বাংলাদেশের সব জায়গার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি একই ধরনের। কিন্তু যে জায়গাটা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ সেই জায়গায় যেন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আগেই নজর দেওয়া হয়।