অতীতে জামায়াত ভুল পথে হেঁটেছে, এখনো তাই ,সংসদে সরকারি দলের সদস্যরা - Alokitobarta
আজ : শুক্রবার, ১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অতীতে জামায়াত ভুল পথে হেঁটেছে, এখনো তাই ,সংসদে সরকারি দলের সদস্যরা


জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক,আলোকিত বার্তা:ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদ-সদস্যরা বিরোধী দল জামায়াতের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন।তারা অভিযোগ করেছেন,দলটি (জামায়াত) অতীত থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না।প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে জামায়াত ভুল পথে হেঁটেছে,এখনো সেই ভুল করে যাচ্ছে।স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠক শুরু হয়।মাঝে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালও অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। জামায়াতে ইসলামী কার্যত নিজেদের ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ হিসাবে মেনে নিয়েছে মন্তব্য করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সংশোধিত জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইনে বীর মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের এ দেশের দোসর তৎকালীন মুসলিম লীগ, তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী, তৎকালীন নেজামে ইসলামী এবং আলবদর, আলশামস বাহিনী,রাজাকারদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের যেসব দামাল ছেলেরা যারা সংগ্রাম করেছেন।’ এই বিল পাশ হওয়ার সময় জামায়াতে ইসলামী কার্যত বিরোধিতা করেনি।এর জবাবে বিরোধী দল জামায়াতের সংসদ-সদস্যরা বলেছেন,বিএনপি জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল।এই অতীত তারা ভুলে গেছে।দীর্ঘদিন তাদের কাছে জামায়াত প্রিয় ছিল,হঠাৎ করে তাদের কাছে জামায়াত খারাপ হয়ে গেছে।বুধবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে দুপক্ষের সংসদ-সদস্যরা একে অপরের দিকে তির ছোড়েন।

৭১-এর পাপ জাতি কোনোদিন ভুলবে না-উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, সত্য কখনো গোপন থাকে না এবং ইতিহাসের বড় পাপগুলো কখনো মুছে যায় না।কিছু পাপ আছে যার কোনো ক্ষমা হয় না।সত্য হলো,এই জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পাপের ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৭১ সালে।৫৪ বছর পরেও জাতি তা ভুলে যায়নি। আজকের দিনে কিছু কিছু পাপের কথা উঠলেই কোথাও কোথাও বিশেষ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।আমরা দেখেছি,কারও কারও শরীরে জ্বালা ধরে।কিন্তু কেউ কেউ শুনতে না চাইলেও আমরা কি পাপের কথা ভুলে যাব।চাইলে কি সব ভোলা যায়।পাপ কখনো মুছে যায় না।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দীর্ঘ ১৭ বছরের সংগ্রামের প্রশংসা করে সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী রবিউল আলম বলেন, তার নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে একটি সফল গণ-অভ্যুত্থান সম্পন্ন হয়েছে।আজকের এই সংসদ কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তির করুণার দান নয়,এটি জনগণের সংসদ।১৭ বছরে আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন।মন্ত্রী বলেন,১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক দল,যাদের জনগণ কখনো ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসায়নি,তাদের যন্ত্রণা থাকতে পারে।নির্বাচনের আগে যাদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাইতে হয়,তারা রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ। জনগণ বিভ্রান্ত হয়নি বলেই ২৬-এর নির্বাচনে বিএনপিকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর উদ্দেশে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো.সাখাওয়াত হোসেন বলেন,ভালোভাবে আচরণ করে যাচ্ছি, ভদ্রতার সঙ্গে, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে। বেশি বাড়াবাড়ি না করার জন্য অনুরোধ করব। যখন বেশি বাড়াবাড়ি করে তখন বলতে ইচ্ছা করে-তোরা রাজাকার, তোরা আলশামস, তোরা আলবদর।তিনি বলেন,আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা,আমি ৭১ দেখেছি, বর্ডারে যুদ্ধ করেছি বিলোনিয়া সীমান্তে। আজকে যারা ৭১ কে ২৪-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে চায়, খাটো করে দেখতে চায়, তাদের একটি কথাই বলতে চাই,ভালোভাবে আচরণ করে যাচ্ছি,ভদ্রতার সঙ্গে, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে। .

বিরোধী দলের প্রশ্ন-বিএনপি কীভাবে মুক্তিযুদ্ধের দল : ১৯৭৮ সালে জন্ম নেওয়া বিএনপি কীভাবে মুক্তিযুদ্ধের দল-এমন প্রশ্ন তুলে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ-সদস্য ও দলের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলা হয়। বিএনপি দাবি করে তারা মুক্তিযুদ্ধের দল। অথচ বিএনপি প্রতিষ্ঠা হয়েছে ১৯৭৮ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর, আর মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে ৭১ সালে। মুক্তিযুদ্ধের দল কীভাবে বিএনপি হতে পারে। তাহলে এটা কীভাবে আমি মূল্যায়ন করব? বিএনপিতে মুক্তিযোদ্ধা আছে, এটা আপনি বলতে পারেন। তদ্রূপ জামায়াতে ইসলামীতেও মুক্তিযোদ্ধা আছে। তিনি বলেন, ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা দল বিএনপি কীভাবে ফ্যাসিস্টের দোসর রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানায়। তাহলে কী আমরা ধরে নেব যে আপনারা কোনো ব্যক্তি, কোনো দল অথবা কোনো শক্তিকে খুশি করতে চান। শুধু তাই নয়, আমি অত্যন্ত বেদনার সঙ্গে বলতে চাই, বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল, তাদের নেত্রীরা রাজপথে আন্দোলন করেছেন এবং তাদের অনেক ভূমিকা আছে। কিন্তু আশ্চর্য হয়ে দেখলাম যে, তাদের সংরক্ষিত নারী আসনে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার মহিলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদককে মনোনয়ন দিয়েছেন। কিন্তু কেন? এটা কি আপনাদের দৈন্যের কারণ।

নাকি আপনারা কোনো শক্তিকে খুশি করতে চান, তাদের সহযোগিতায় ক্ষমতায় থাকতে চান। সে প্রশ্নের জবাব আপনারা দেবেন। এ প্রশ্ন জনগণের সামনে আছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন,এই বিশ্ব তৈরি করার সময় রাব্বুল আলামিন যাকে সবচেয়ে বড় সম্মান দিয়েছেন তিনি হলেন আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ(সা.)।তাকেই বেহেশতের টিকিটের এখতিয়ার দেননি। বেহেশতের টিকিটের এখতিয়ার একমাত্র রাব্বুল আলামিনের কাছে।আর উনারা (জামায়াত) সেই বেহেশতের টিকিট বিক্রি করেছেন!

মুক্তিযুদ্ধের বয়ানের মতো জুলাই আন্দোলনকে কতিপয় স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী কুক্ষিগত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন,আমরা যে লড়াইটা করেছি,যে সংগ্রামটা করেছি, এই সংগ্রামের পেছনে কত মানুষের অবদান,কত মানুষের ত্যাগ সেটি আমাদের তরুণ বন্ধুরা হয়তো জানে না।তারা হয়তো মনে করেছে ফুটবলের ৯০ মিনিটের খেলায় হয়তো চান্সে কেউ পাঁচ মিনিটে গোল দিয়ে দিয়েছে।তারা ভেবেছে আমরাই সেরা খেলোয়াড়।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন,এই মহান সংসদে দাঁড়িয়ে আমরা যে শপথ নিয়েছি,তা পূরণ করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।জনপ্রতিনিধিদের মূল দায়বদ্ধতা জনগণের কাছেই,তাই কাজের মাধ্যমেই তাদের কাছে মাথা উঁচু করে ফিরে যেতে চাই।

সরকার পতনের হুমকি দিলে রাজপথেই তার জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন,আপনারা (বিরোধী দল) যদি আমাদের পতন করার হুমকি দেন, তাহলে বিরোধী দলের অবস্থান থেকে আপনাদেরই পতন ঘটানো হবে ইনশাআল্লাহ।আমরা জনগণের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত হয়ে এই সংসদে এসেছি।আমাদের যদি কেউ হুমকি-ধমকি দিয়ে মনে করে সরকার পতন করবে,তবে আমি সংসদ নেতার উদ্দেশে বলতে চাই,আপনি খালি হুকুম দেবেন,বিগত দিনে আপনার নির্দেশে যেভাবে রাজপথে থেকে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা ও খুনি হাসিনার পতন করেছি,একইভাবে এবারও আমরা রাজপথে অবস্থান নেব।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিজ জেলার শহীদদের স্মরণ করে সরকারদলীয় হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন,আমি তাদের মাকে কথা দিয়েছি রাষ্ট্রপতির চেয়ারকে সম্মান করতে হবে।ওই চেয়ারকে ধন্যবাদ দিচ্ছি।কিন্তু রাষ্ট্রপতি ব্যক্তি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে আমি ধন্যবাদ জানাতে পারলাম না বলে দুঃখিত।তিনি বলেন,সংসদ ভবনে লুকিয়ে আছে শুনে প্রত্যেকটি রুম ভেঙে ফেলা হয়েছিল।কোটি কোটি টাকা এ সংসদ ভবনে পেয়েছিল।গণভবনের ইট নিয়ে গিয়েছিল। এটা বিএনপির লোকেরা নেয়নি,জামায়াতের লোকেরা নেয়নি।এটা জুলাই শহীদের মায়েরা নেয়নি,এটা বাংলাদেশের রিকশাওয়ালা, শ্রমিক-জনতা সবার ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ছিল।

বগুড়া-৫ আসনের সরকারদলীয় সংসদ-সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বলেন,বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বরাদ্দ নিশ্চিত করা হলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর হবে।ইসলামী ব্যাংকসংক্রান্ত চলমান ইস্যু নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে এ বিষয়ে একটি শক্তিশালী সংসদীয় কমিটি গঠনের দাবি জানান।

Top