বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ বিতরণে শীর্ষে উঠে এসেছে শিল্প খাত
মোহাম্মাদ আবুবকর সিদ্দীক ভুঁইয়া:বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ বিতরণে শীর্ষে উঠে এসেছে শিল্প খাত। দ্বিতীয় অবস্থানে নেমেছে ব্যবসা ও বাণিজ্য খাত। আগে ব্যবসা ও বাণিজ্য খাত শীর্ষে ছিল। শিল্প খাত ছিল দ্বিতীয় অবস্থানে। অগ্রাধিকার দেওয়ায় শিল্প খাতে ঋণ বিতরণ বেড়েছে। একই সঙ্গে আমদানির বিকল্প পণ্য দেশে উৎপাদিত হওয়ায় বাণিজ্যিক আমদানি খাতে ঋণ বিতরণের হার কমছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন খাতে মোট ঋণ বিতরণ, ঋণের প্রবৃদ্ধি ও মোট ঋণের মধ্যে খাতওয়ারি বিতরণের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।সংশ্লিষ্টরা ঋণ বিতরণের এ পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসাবে দেখছেন। তারা বলেছেন, শিল্প খাতকে গুরুত্ব দিয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করায় দেশে শিল্পায়ন হচ্ছে। আমদানির বিকল্প পণ্য দেশেই উৎপাদন হচ্ছে। কর্মসংস্থান বাড়ছে। জিডিপিতে দেশীয় শিল্পের অবদান বাড়ছে। ফলে আমদানি খাতে বাণিজ্যিক ঋণ কমছে।প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতে মোট ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ১১ লাখ ৩৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে মৌলিক শিল্প খাতে বিতরণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৪০০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৪২ দশমিক ১৭ শতাংশ। এর মধ্যে মেয়াদি ঋণ দেওয়া হয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এটি মোট ঋণের ২১ দশমিক ৩৬ শতাংশ। চলতি মূলধন হিসাবে দেওয়া হয়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ২০ দশমিক ৮১ শতাংশ।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলমান শিল্প চালুর রাখার জন্য চলতি মূলধনের চেয়ে নতুন শিল্প স্থাপনে মেয়াদি ঋণ বেশি দেওয়া হয়েছে ৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এর মাধ্যমে নতুন শিল্প স্থাপনে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কেননা জিডিপির ৩৫ শতাংশই আসছে এখন শিল্প খাত থেকে। কৃষি খাত থেকে সাড়ে ১৩ শতাংশ। এককভাবে জিডিপির সবচেয়ে বেশি আসছে সেবা খাত থেকে সাড়ে ৫১ শতাংশ। টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সেবা খাতের চেয়ে শিল্প খাতে জিডিপির অবদান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসাবেই শিল্প খাতকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, মৌলিক শিল্পের বাইরে অন্যান্য ছোট শিল্প খাতে দেওয়া হয়েছে ২৪ হাজার ১০০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ২ দশমিক ১৩ শতাংশ। নির্মাণ খাতে দেওয়া হয়েছে ৯৯ হাজার ১০০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এ দুটি খাতকেও পরোক্ষ শিল্প হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
কৃষি খাতে ৫১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে, যা মোট ঋণের ৪ দশমিক ৫২ শতাংশ। এর মধ্যে শস্য খাতে ৪৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৪ দশমিক ০৯ শতাংশ। কৃষির অন্যান্য খাতে দেওয়া হয়েছে ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের শূন্য দশমিক ৪২ শতাংশ।গ্রাহকদের বিভিন্ন পণ্য কেনার বিপরীতে ভোক্তাঋণ হিসাবে দেওয়া হয়েছে ৮৮ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ। বিবিধ খাতে দেওয়া হয়েছে ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ। এসব ঋণও পরোক্ষভাবে শিল্প খাতকে সহায়তা করছে।এককভাবে ঋণ বিতরণে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্যবসা ও বাণিজ্য খাত। এ খাতে দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ ৮০ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ৩৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, করোনার কারণে গত দুই বছর ধরে ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে স্থবিরতা রয়েছে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ঋণ প্রবাহ বেড়েছে ভোক্তা খাতে অর্থাৎ ২২ দশমিক ৭৯ শতাংশ। কৃষি খাতে ১১ দশমিক ৬৯ শতাংশ, শিল্প খাতে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। শিল্প খাতের মধ্যে মেয়াদি ঋণ বেড়েছে ১২ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং চলতি মূলধন ঋণ বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। নির্মাণ খাতে বেড়েছে ৭ দশমিক ৭০ শতাংশ। অন্যান্য শিল্প ও পরিবহণ খাতে ঋণ প্রবাহ কমেছে ১০ শতাংশের বেশি।