অনিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল বন্ধ রাখার নির্দেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে বেশ কিছু নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে আপিলের আবেদন জমা দিয়েছেন বনেক - Alokitobarta
আজ : রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
প্রতিবাদ শিরোনামে প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি’ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ বরিশাল ইইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরূদ্ধে নিজেই ঠিকাদারী করার অভিযোগ নেত্রকোণায় গুলি করে সাংবাদিক হত্যা, বাংলাদেশ অনলাইন সংবাদপত্র ও সাংবাদিক ইউনিয়নের নিন্দা ও উদ্বেগ ... নেত্রকোণায় গুলি করে সাংবাদিক হত্যা, ঢাকা মেট্রোপলিটন প্রেস ক্লাব র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ নেত্রকোণায় গুলি করে সাংবাদিক হত্যা, সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদের নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ বিআরটিসি শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন এর নাম ও প্যাড ব্যবহার করে নেতৃত্বের পরিচয় প্রদান এবং কর্তৃপক্ষের ... বরিশাল পুলিশ হাসপাতালে নার্সিং ইনচার্জের বিরুদ্ধে রোগীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ বরিশাল ভাটারখাল বিদ্যালয়ের কমিটি গঠন জামিল হোসেনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত সুনাম ক্ষুণ... দক্ষিণ বঙ্গের সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান পরিবহন সাকুরা ! দেখলেই জনমনে আতঙ্ক

অনিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল বন্ধ রাখার নির্দেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে বেশ কিছু নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে আপিলের আবেদন জমা দিয়েছেন বনেক


আলোকিত বার্তা:অনিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল বন্ধ রাখার নির্দেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে বেশ কিছু নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে আপিলের আবেদন জমা দিয়েছেন বনেক।গত ১৪ই সেপ্টেম্বর অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল ৭ দিনের মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। ১৪ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এদিন আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন দুই রিটকারী আইনজীবী জারিন রহমান ও রাশিদা চৌধুরী নীলু। আদেশে বলা হয়, ৯২টি প্রতিষ্ঠান ব্যতিত অননুমোদিত ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন সব নিউজ পোর্টাল বন্ধ করতে হবে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে বিটিআরসি চেয়ারম্যান ও প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যানকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়।এদিকে,অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধের নির্দেশের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন জমা দিয়েছে বাংলাদেশ অনলাইন সংবাদপত্র সম্পাদক পরিষদ (বনেক)। বনেকের পক্ষে এই আপিল আবেদন করেন সংগঠনটির সাংগাঠনিক সম্পাদক সোহেল রেজা ও সাধারণ সদস্য শরিফুল ইসলাম শাকিল। আপিল আবেদনে হাইকোর্টের রায়কে সম্মান প্রদর্শনপূর্বক অনিবন্ধিত ও চলমান নিবন্ধন প্রকিয়ায় যেসকল অনলাইন রয়েছে সেগুলোকে নিবন্ধনের সুযোগ প্রদানের কথা উল্লেখ করা হয়। বনেকের এই আপিল আবেদন করা দুই সদস্যের পক্ষে উচ্চ আদালতে ফাইল জমা দিয়েছেন ব্যারিষ্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিক। তিনি আপিল আবেদনের ফাইল জমার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এবিষয় কথা হয় সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম তিনি জানান,দেশে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টালের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষের। অনলাইন ভিত্তিক নিউজ পোর্টালগুলোর অন্যতম আয়ের উৎস হচ্ছে ফেসবুক ও গুগুল বিজ্ঞাপন, যা রেমিট্যান্স হিসেবে বাংলাদেশে আসে।প্রতিমাসে ফেসবুক ও গুগুল বিজ্ঞাপন থেকে আনুমানিক প্রায় ১০ লাখ মার্কিন ডলার আয় করে এসব নিউজ পোর্টাল। যা দেশে রেমিট্যান্স বৃদ্ধি এবং অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করে। বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারীতে যখন দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত বন্ধ ছিল এবং প্রবাসীরা কর্মহীন হয়ে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারছিলনা তখনও রেমিট্যান্স আয় অব্যাহত রাখে এসব অনলাইন নিউজ পোর্টাল।দেশের বিরুদ্ধে যেসব নিউজ পোর্টাল বিভিন্ন প্রপগান্ডা ছড়ানো সহ মিথ্যা, অসত্য, গুজব, বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন করছে এবং যেসব নিউজ পোর্টালের নিজস্ব কোন অস্থিত্ব নাই। অথ্যাৎ জনবল নেই, অফিস নেই সেসব ভুঁইফোর অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধ করে দেওয়া হোক বলেও জানান তিনি।আপিল আবেদনের বিষয় কথা হয় সংগঠনটির সভাপতি খায়রুল আলম রফিক বলেন,তথ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যে জানিয়েছে অনলাইন নিউজ পোর্টালের রেজিষ্ট্রেশন কার্যক্রম একটি চলমান প্রক্রিয়া।অনিবন্ধিত অনেকগুলো নিউজপোর্টাল ৩ ধাপে যাচাই বাছাই শেষ হয়েছে।যেগুলোতে ইতিমধ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং বিনিয়োগও রয়েছে। যেহেতু অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিবন্ধন একটি চলমান প্রক্রিয়া সে ক্ষেত্রে যেগুলো যাচাই বাছাই হয়েছে সেগুলো যাতে বন্ধ না হয় এবং দ্রুত নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া নতুন করে যাতে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা যায় সেই প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য আমাদের এই আপিল আবেদন।উল্লেখ্য, বিটিআরসি চেয়ারম্যান ও প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যানকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতেও বলে উচ্চ আদালত। বাংলাদেশে গণমাধ্যম চালু করতে হলে সরকারের পূর্বানুমতি নিতে হলেও অনলাইনভিত্তিক গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি উপেক্ষিত হয়ে আসছিল।ডিজিটাল প্রযুক্তির বিকাশের পর ২০০৯ সাল থেকে এই ধরনের নিউজপোর্টাল চালু হতে থাকে। শত শত নিউজপোর্টাল চালু হওয়ার পর বিষয়টি গণমাধ্যম খাতে বিশৃঙ্খলাও তৈরি করে। কারণ, বহু পোর্টাল সাংবাদিকতার নীতিমালায় গুরুত্ব না দিয়ে যা ইচ্ছা তাই প্রচার করেছে এবং নানা সময় বিশৃঙ্খলারও কারণ হয়েছে সেগুলো।নানা অভিযোগে বিটিআরসি এর আগেও নানা সময় এক শরও বেশি অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধ করেছে। গুজব ছড়ানোর অভিযোগে ২০১৯ সালে ১০টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধ করে দেয়া হয়। ২০১৮ সালে বন্ধ করে দেয়া হয় ৫৮টি। পরে এগুলোর বেশ কিছু আবার চালু করা হয়। এরও আগে ২০১৬ সালের আগস্টে একসঙ্গে বন্ধ করে দেয়া হয় ৩৫টি পোর্টাল।আওয়ামী লীগ সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষে অনলাইনভিত্তিক নিউজপোর্টালগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হয়। ২০১৫ সাল থেকে অনলাইন সংবাদমাধ্যমকে নীতিমালার আওতায় আনার উদ্যোগ শুরু করে। আর নিবন্ধনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হয় বর্তমান সরকারের আমলে। নিবন্ধনের জন্য ছয় হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। আবেদনের বাইরেও রয়েছে বহু পোর্টাল।

Top