বিদ্যুতের বড় ধরনের গ্রিড বিপর্যয়
স্টাফ রিপোর্টার :বিদ্যুতের বড় ধরনের গ্রিড বিপর্যয় ঘটেছে মঙ্গলবার। এদিন দুপুরে গ্রিডে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও বরিশাল এলাকা বিদ্যুৎহীন থাকে প্রায় দুই ঘণ্টা। যার কারণে গভীর রাত পর্যন্ত সারা দেশে তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং ছিল। তবে কী কারণে এই বড় বিপর্যয় ঘটেছে তার কোনো কারণ এখনো খুঁজে পায়নি পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ-পিজিসিবি, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবি ও বিদ্যুৎ বিভাগ। এ ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আরেকটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী। বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, সরকার বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগকে তদন্ত করতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কেন এই বিপর্যয় ঘটেছে তা বলা যাচ্ছে না।এর ফলে দেশের বৃহৎ প্রায় ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়। দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যায় ৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। দুপুর ২টার পর গ্রিড পুনরায় চালু হলেও রাত ৮টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জায়গার বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি চালু করা যায়নি। ২০১৮ সালে দেশে সবচেয়ে বড় ‘ব্ল্যাক আউট’ বা গ্রিড বিপর্যয় ঘটেছিল। এরপর মঙ্গলবার বড় গ্রিড বিপর্যয় হলেও দ্বৈত সার্কিট লাইনের কারণে অনেক এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়নি।তবে পিজিসিবি এবং পিডিবির কর্মকর্তারা জানান, সম্ভবত প্রথম মেঘনাঘাট-হরিপুর ও ভুলতা লাইনে কোনো সমস্যার কারণে দুপুর সাড়ে ১২টার পর বিপর্যয় দেখা দেয়। এটি চলে দুপুর ২টা ৪২ মিনিট পর্যন্ত। পিজিসিবি জানায়, দুপুরে চালুর পর কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি। তবে এর মধ্যে এই গ্রিডের (৪০০ কেভি) সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সংযুক্ত মেঘনাঘাট ৭০০ মেগাওয়াট জেনা বিদ্যুৎকেন্দ্র, সামিট ৩৩৫ মেগাওয়াট, চট্টগ্রামের এসএস পাওয়ার (১৩২০ মেগাওয়াট), পটুয়াখালীর আরএনপিএল (১৩২০ মেগাওয়াট), সামিট বিবিয়ানা ৩৩৫ ও বিবিয়ানা ৪০০ মেগাওয়াট, সিরাজগঞ্জ ৪০০ মেগাওয়াট, আশুগঞ্জ কেন্দ্রসহ কয়েকটি কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়। রাত ৮টায় এই কেন্দ্রগুলোর মধ্যে আরএনপিএলের একটি এবং বিবিয়ানার একটি ইউনিট চালু করা সম্ভব হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাতের মধ্যে সব কেন্দ্র চালুর চেষ্টা চলছে।
কী কারণে গ্রিড বিপর্যয় : বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, লগ সিট নিয়ে কোন গ্রিড লাইন আগে ট্রিপ বা বন্ধ হয়েছে এটা জানার চেষ্টা চলছে। তবে সবার আগে মেঘনাঘাট এলাকার গ্রিড লাইন ওভার লোডেড হওয়ায় ট্রিপ বা বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এটি এখনো নিশ্চিত নন কেউ। পিজিসিবির কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন,মেঘনাঘাটের পর আশুগঞ্জ, সিলেট, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন গ্রিড লাইন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেই গ্রিডের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১০টির বেশি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়। তবে দ্বৈত সার্কিট লাইনের কারণে সারা দেশের সব গ্রিড ২০১৮ সালের মতো বন্ধ হয়ে যায়নি। সে বছর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্ল্যাক আউট হয়েছিল। বিভিন্ন এলাকায় একদিনের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।
মঙ্গলবারের ঘটনা তদন্তে পিজিসিবির প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ এবাদুল্লাহ হায়দার আলীর নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। এর বাইরে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে আরও একটি কমিটি গঠন করা হবে।