‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্যের জেরে আইজিপির অপসারণ দাবি এনসিপির
স্টাফ রিপোর্টার :সরকারের অনুমতি পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনে পুলিশ ক্রসফায়ার করবে’পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের এমন বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে তার অপসারণ দাবি করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।বিবৃতিতে বলা হয়, পুলিশপ্রধানের এ ধরনের বক্তব্য শুধু আইনের শাসন ও সংবিধানের পরিপন্থী নয়, বরং মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধকে পুনরায় বৈধতা দেওয়ার বিপজ্জনক অপচেষ্টা। সরকারের অনুমোদন বা অনুমতি দিয়েও কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া যায় না।দলটির দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া ফারজানা দিনার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।
এনসিপি বলেছে,বিএনপি তাদের ৩১ দফা কর্মসূচিতে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধের অঙ্গীকার করেছিল। কিন্তু দলটির সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া আইজিপির এমন বক্তব্য সেই অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে অযোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ারও নজির।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ১৫ বছরের বেশি সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের যে ভয়াবহ সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তার অবসানের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। তৎকালীন বিরোধী দলগুলোর শত শত নেতাকর্মীর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ক্ষমতার অপব্যবহারের ইতিহাস এখনো দেশবাসীর সামনে স্পষ্ট।
আইজিপির অপসারণ দাবি করে বিবৃতিতে বলা হয়, অতীতের স্বৈরাচারী শাসনামল থেকে শিক্ষা না নিয়ে পুলিশের শীর্ষ পর্যায় থেকে এ ধরনের উসকানিমূলক ও বেআইনি বক্তব্য দেওয়া চরম ধৃষ্টতার শামিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতা আড়াল করতে ক্রসফায়ারের ভয় দেখানো প্রাতিষ্ঠানিক দেউলিয়াত্বের পরিচয়।এ ধরনের বক্তব্য মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের বেআইনিভাবে বল প্রয়োগে উৎসাহিত করতে পারে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের নতুন পথ উন্মুক্ত করতে পারে বলেও বিবৃতিতে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে এনসিপি।