বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বস্তির বার্তা
স্টাফ রিপোর্টার :দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে।গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি তরল জ্বালানি, সৌরবিদ্যুৎ, জলবিদ্যুৎ এবং আমদানি করা বিদ্যুতের সমন্বয়ে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বজায় রয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই চিত্র জ্বালানির বিভিন্ন উৎস কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখার প্রচেষ্টাকে তুলে ধরছে।বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্যমতে, গতকাল বুধবার দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৪৭ মেগাওয়াটে।গতকালের বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৪ হাজার ৭৪৮ মেগাওয়াট এবং কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ৪ হাজার ২৯৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। এ ছাড়া তরল জ্বালানিভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ১ হাজার ১৫৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে। অর্থাৎ, গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র মিলেই উৎপাদনে বড় ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি অন্যান্য উৎসের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ায় সরবরাহের ভিত্তি আরও বিস্তৃত হয়েছে।
সৌরবিদ্যুৎ থেকে এ সময়ে ৭২০ মেগাওয়াট এবং জলবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১৩৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। বায়ুভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল শূন্য মেগাওয়াট। নবায়নযোগ্য জ্বালানির মধ্যে সৌরবিদ্যুতের অবদান দিনের বেলায় জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখা যাচ্ছে।আমদানি করা বিদ্যুৎও দেশের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। ভেড়ামারা এইচভিডিসি সংযোগের মাধ্যমে ভারত থেকে ৯০৪ মেগাওয়াট, ত্রিপুরা থেকে ৫২ মেগাওয়াট এবং আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১ হাজার ২৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়েছে। সব মিলিয়ে এসব উৎস থেকে বিদ্যুৎ পাওয়ায় দেশের নিজস্ব উৎপাদনের পাশাপাশি আন্তদেশীয় বিদ্যুৎ সংযোগও জাতীয় গ্রিডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ওই সময়ে নেপাল থেকে কোনো বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যায়নি।
জ্বালানি সরবরাহের চিত্রেও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সরবরাহ অব্যাহত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। পেট্রোবাংলার সর্বশেষ দৈনিক গ্যাস উৎপাদন ও বিতরণ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে মোট গ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহের পরিমাণ ছিল দৈনিক ২ হাজার ৫৪৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন হয়েছে ১ হাজার ৫৮৯ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পুনর্গ্যাসীকরণের মাধ্যমে সরবরাহ হয়েছে ৯৫৩ দশমিক ৯ মিলিয়ন ঘনফুট। দেশীয় গ্যাসের পাশাপাশি আমদানিকৃত এলএনজি কাজে লাগিয়ে সরবরাহ বজায় রাখার এই ব্যবস্থা বিদ্যুৎ খাতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে একাধিক জ্বালানির ব্যবহার দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনাকে বহুমুখী করার গুরুত্বও তুলে ধরছে। গ্যাস ও কয়লা থেকে বড় অংশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি তরল জ্বালানি এবং সৌরবিদ্যুতের অবদান জাতীয় গ্রিডের সরবরাহে সহায়ক হচ্ছে। অন্যদিকে, ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির মাধ্যমে চাহিদা পূরণে অতিরিক্ত একটি উৎস ব্যবহার করা যাচ্ছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের ক্ষেত্রে দেশীয় সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা, দুইয়ের সমন্বয় দেখা যাচ্ছে।জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৩ হাজার মেগাওয়াট অতিক্রম করা দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত। গ্যাস সরবরাহ, কয়লাভিত্তিক উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং আন্তদেশীয় বিদ্যুৎ আমদানিকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানো গেলে সরবরাহের ধারাবাহিকতা রক্ষায় সহায়ক হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই অগ্রগতি ধরে রাখতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধি, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর নির্ভরযোগ্য পরিচালনা, জ্বালানির সাশ্রয়ী সংস্থান এবং সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। উৎপাদনের পাশাপাশি প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করাই হবে এই অগ্রগতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের মাপকাঠি।