সরকারের সমালোচনা আর সাইবার অপরাধকে এক করে দেখা যাবে না - Alokitobarta
আজ : সোমবার, ১৯শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারের সমালোচনা আর সাইবার অপরাধকে এক করে দেখা যাবে না


নুর নবী জনী: সরকারের সমালোচনা বন্ধ করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত বিপদে পড়তে পারেন ক্ষমতাসীনরাই।ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়,তাই ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে আইন প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি ও মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সাইবার অপরাধ দমনের আইন প্রয়োজন, তবে সরকারের সমালোচনা আর সাইবার অপরাধকে এক করে দেখা যাবে না।রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কার্যালয়ে রোববার প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন নিয়ে গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। টিআইবি, ব্র্যাক, ব্লাস্ট, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদসহ ১৯টি সংগঠন যৌথভাবে এ বৈঠকের আয়োজন করে।

মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘দয়া করে আমাদের হাতটা আবার বাঁধবেন না। হাত বেঁধে দিলে আপনার ক্ষতি হবে। আপনার জন্য কিন্তু আমি আর লিখতে পারব না। আপনাকে একদিন আমাদের কাছে আবার আসতে হবে।’ তিনি বলেন, পৃথিবীতে ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। তাই আইন প্রণয়নের সময় ভবিষ্যতের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা উচিত। সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় আইন দরকার হলেও সরকারের সমালোচনাকে অপরাধ হিসাবে বিবেচনা করার সুযোগ থাকা উচিত নয়। গণতান্ত্রিক সমাজে সরকারের সমালোচনা হবেই। এ দুটি বিষয়কে আলাদা করা না গেলে বিপদ থেকেই যাবে।

প্রস্তাবিত আইনে কোনো ব্যক্তির অপরাধের জন্য সংবাদপত্র বা অনলাইন সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ার সুযোগ রাখা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নোয়াব সভাপতি। তিনি বলেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবের ঝুঁকি রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতাসীন দলের কোনো নেতার ফোনেই কাউকে গ্রেফতারের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। প্রস্তাবিত আইনে ‘ভুল তথ্যের’ সংজ্ঞা নিয়েও উদ্বেগ জানান মতিউর রহমান চৌধুরী। তার মতে, কোনো সংবাদ কারও পছন্দ না হলেই সেটিকে ভুল তথ্য কিংবা কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত সংবাদ বলে দাবি করা হতে পারে। কোনটি ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়ানো ভুল তথ্য, তা কে নির্ধারণ করবেন, সেটিও স্পষ্ট করা প্রয়োজন। সাংবাদিকদের বিচারের ক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে ক্ষমতা দেওয়ারও বিরোধিতা করেন তিনি। বলেন, ‘ভেজাল ওষুধ যারা তৈরি করেন, তাদের ধরার জন্য যে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে ব্যবহার করা হয়, সেই আদালতের কাছে আপনি সাংবাদিকের বিচারের ক্ষমতা দিচ্ছেন! এটা কী করে একটা গণতান্ত্রিক সমাজে চিন্তা করা যেতে পারে?’

প্রস্তাবিত আইন নিয়ে জেলায় জেলায় আলোচনা এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মতামত নেওয়ার আহ্বান জানান নোয়াব সভাপতি। আইন প্রণয়নের জন্য গঠিত কমিটিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। বৈঠকে স্বাগত বক্তব্যে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবিত আইনে কীভাবে ক্ষমতাকে আরও কুক্ষিগত করা যায় এবং বাকস্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, সেটিই প্রাধান্য পেয়েছে। আইনটি সরকারের জন্য বুমেরাং ও আত্মঘাতী হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের উচিত এই অবস্থান থেকে সরে আসা।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আইন করে ভুয়া তথ্য ও অপতথ্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সত্যিকার অর্থে এসব নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে কাজ করতে হবে। ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে এসব প্ল্যাটফর্ম বিপুল মুনাফা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্ল্যাটফর্মগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে আইন করে ভুল তথ্য নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা কার্যকর হবে না। তিনি বলেন, ভুয়া তথ্য ঠেকানোর নামে মানুষের অধিকারকে অপরাধ হিসাবে গণ্য করা যৌক্তিক নয়। গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, ডেইলি ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম, টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের বাংলাদেশ প্রধান ফৌজিয়া আফরোজ প্রমুখ। বৈঠকটি পরিচালনা করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।

Top