ডিলারদের ঘরে কর্মকর্তাদের কীসের এত খাওয়াদাওয়া,সার সংকটে হয়রান কৃষক - Alokitobarta
আজ : বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
পুলিশের ঊর্ধ্বতন ১৭ কর্মকর্তাকে বদলি প্রতিমন্ত্রীর ‘পাল্টা প্রশ্ন’ তথ্য জানার অধিকারের প্রতি হুমকি মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) শিল্পে গ্যাস সংকট কাটছেই না,তেল কিনতে ৬৫০০ কোটি টাকা চায় পিডিবি নির্বাচনের পরিকল্পনা নভেম্বর ধরে আগানো হচ্ছে জ্যেষ্ঠতার তালিকায় ২৫৭ ‘অনিয়মিত’ প্রকৌশলী ! এলজিইডিতে বিধিবিধান অমান্যের প্রতিযোগিতা ডিলারদের ঘরে কর্মকর্তাদের কীসের এত খাওয়াদাওয়া,সার সংকটে হয়রান কৃষক অধ্যক্ষের স্বেচ্ছাচারীতায় শেবাচিম কেন্দ্রীয় মসজিদে দীর্ঘদিন যাবৎ ঝুলে আছে ইমাম-মুয়াজ্জিনের নিয়োগ সরকারের বর্তমান কাঠামো আড়াইতলা বা আড়াই স্তরবিশিষ্ট

ডিলারদের ঘরে কর্মকর্তাদের কীসের এত খাওয়াদাওয়া,সার সংকটে হয়রান কৃষক


মু.এবি সিদ্দীক ভুঁইয়া:সরকারি গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ সার অনুমোদন ছাড়াই বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।প্রশাসনের নানা পদক্ষেপের পরও সারের কালোবাজারি বন্ধ হচ্ছে না।সার সংকটে হয়রান কৃষক,ডিলারদের ঘরে কর্মকর্তাদের কীসের এত খাওয়াদাওয়া,দেশের বিভিন্ন জেলায় সার পেতে কৃষকদের প্রতিদিন হয়রানি হতে হচ্ছে।ডিলার পয়েন্টে সার মিলছে না,পাওয়া যাচ্ছে কীটনাশক ও খুচরা সার বিক্রেতাদের দোকানে।তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সারের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছে।

চট্টগ্রামে ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপি সার সরকারি নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না। ক্যাশ মেমো চাইলে সার দিতে চায় না। বাধ্য হয়ে বেশি দাম দিয়ে সার কিনতে হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতাদের ভাষ্য, ডিলারদের কাছে বেশি দামের বিষয়ে জানতে চাইলে বলা হয়, ‘ইচ্ছা হলে সার নেন, না হলে নিয়েন না।’ মাগুরায় কৃষকদের অভিযোগ, ৫০ কেজির চাহিদার বিপরীতে সার মিলছে ১০ কেজি। কুড়িগ্রামে ডিলাররা নামমাত্র কয়েকজন কৃষকের কাছে সার বিক্রি করে বাকি সার গোপনে এলাকার বাইরে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক কৃষক ক্ষোভ ঝাড়লেন, ‘কৃষি অফিসের লোকজন ডিলারদের ঘরে গেলে কিসের এত খাওয়াদাওয়া? কৃষি অফিস সঠিকভাবে মনিটরিং করলে কৃষকের সারের অভাব হতো না।

যশোরে কৃষি দপ্তরের লোকজন কৃষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ‘চাহিদা অনুযায়ী সার পেয়েছি’ বলে লিখিত নিচ্ছেন।কৃষি বিভাগের লোকজন কৃষকদের বুঝিয়েছেন, তারা যদি এই লিখিত না দেন পরে সার পেতে ঝামেলা হতে পারে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

রাজশাহীতে কাটেনি সংকট, অতিরিক্ত সার চেয়ে চিঠি : কৃষকের চাহিদা মেটাতে রাজশাহী জেলার জন্য অতিরিক্ত ৪ হাজার ৬০০ টন সার বরাদ্দ চেয়েছে জেলা সার বীজ মনিটরিং কমিটি। সোমবার কৃষি মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে জরুরি চিঠি পাঠিয়েছেন জেলা মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী

শহিদুল ইসলাম। তিনি স্বীকার করেছেন, সার পেতে কৃষকরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

মঙ্গলবার কৃষকরা জানিয়েছেন, সারের কালোবাজারি সরকার বন্ধ করতে পারছে না। সরকারি মূল্যের দেড়গুণ বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, সার নিয়ে এই অব্যবস্থাপনার মূলে মনিটরিংয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত কৃষি কর্মকর্তারা। অসাধু ডিলারদের সঙ্গে তাদের দেওয়া-নেওয়ার সম্পর্ক চলছে।

চলতি মাসে ১২ হাজার ২৬৯ টন ইউরিয়াসহ বিভিন্ন সার বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু কৃষকদের চাহিদার তুলনায় কিছুটা কম। এ কারণে অতিরিক্ত ৪ হাজার ৬০০ টন সারের বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। চিঠি কৃষি মন্ত্রণালয় ছাড়াও বিসিআইসি (কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন) ও ডিএপিতে (কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর) চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এদিকে রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলে সার সংকট দেখিয়ে খুচরা ব্যবসায়ীরা কৃষকদের কাছ থেকে বেশি দাম নিচ্ছে। ইতোমধ্যে রাজশাহীর ১১টি স্থানে অভিযান করে হাজার বস্তা অবৈধভাবে মজুত করা সার জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসব অভিযানে অসাধু ব্যবসায়ীদের সাড়ে তিন লাখ টাকা জরিমানা হয়েছে।

এছাড়া পুঠিয়ায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের অনিয়ম ও গাফিলতির কারণে উপজেলাজুড়ে টিএসপি ও ডিএপি সারের কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছে।

দিনাজপুরে ৩২৮ টন সার উধাও, গুদামরক্ষক আটক : দিনাজপুরে বিএডিসির (কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন) গুদাম থেকে প্রায় ৩২৮ টন (৬৫৫৮ বস্তা) সার উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব সারের মধ্যে ডিএপি সার ২২৭.৪৫ টন ও এমওপি সার ১০০.৪৫ টন। এই ঘটনায় গুদামরক্ষ মো. আক্তারুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ। এ ব্যাপারে বিএডিসি দিনাজপুরের সহকারী পরিচালক (সার) মো. খুরশীদ আলম সোমবার রাতে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন। দিনাজপুর সদরের নশিপুর বিএডিসির গুদামে ওই ঘটনা ঘটেছে। পরে অভিযান চালিয়ে ওই রক্ষককে আটক করা হয়।

সুন্দরগঞ্জে জরিমানা, সাদুল্লাপুরে ৭২ বস্তা সার জব্দ : নিয়মবহির্ভূতভাবে সার মজুত রাখার দায়ে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে গতকাল ‘কুঞ্জ ট্রেডার্স’ নামে এক খুচরা সার ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। মীরগঞ্জ বাজারের প্রতিষ্ঠানটির মালিক কৃষ্ণ চন্দ্র দাসকে এ জরিমানা করা হয়। সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, অবৈধ সার মজুত, কালোবাজারির বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। অন্যদিকে গতকাল সাদুল্লাপুরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহীন সরকারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৭২ বস্তা সার জব্দ করেছে প্রশাসন। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা হয়েছে। জব্দ সারের দাম ৫৬ হাজার ৭০০ টাকার মতো।

ফটিকছড়িতে চড়া দামে সার বিক্রি : চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে আমন মৌসুমে ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপি সার সরকারি নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। তবে খুচরা বিক্রেতারা সরকারি মূল্যের চেয়ে বস্তাপ্রতি ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি নিচ্ছেন। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, ডিলারদের কাছ থেকেই তাদের বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, ৫০ কেজির এক বস্তা টিএসপি সারের সরকারি মূল্য ১ হাজার ৩৫০ টাকা হলেও তা ২ হাজার ২৫০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই ভাবে ডিএপি ও ইউরিয়ার দামও চড়া।

ফটিকছড়ি উত্তরের বাগানবাজার এলাকার কৃষক আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘দোকানে সরকারি মূল্যতালিকা ঝোলানো আছে। তারপরও বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে। ক্যাশ মেমো চাইলে সার দিতে চায় না। বাধ্য হয়ে বেশি দাম দিয়ে সার কিনতে হচ্ছে।’ কয়েকজন খুচরা বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কৃষকদের অভিযোগ সত্য। ডিলার পয়েন্ট থেকেই বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। ডিলাররা বলছে, ইচ্ছা হলে সার নেন, না হলে নিয়েন না।’

গৌরীপুরে বেশি দামে সার বিক্রি : রোপা-আমনের শুরুতেই ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সারের ঘাটতি ও অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। সিধলা ইউনিয়নের গোবরা গ্রামের কৃষক আব্দুল সোবহান জানান, এখন ধানের চারা বড় হয়ে গেছে। সার দরকার। দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) কাওছার আহমেদ খান জানান, বর্তমানে ৬৫৪ টন সার মজুত আছে।

মাগুরায় টিএসপি ও এমওপি সারের সংকট : মাগুরায় টিএসপি এবং ডিএপি সারের সংকট দেখা দিয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, ডিলারের কাছে গিয়ে সার পাওয়া যাচ্ছে না। যেখানে ৫০ কেজি দরকার সেখানে ১০ কেজি করে দিচ্ছে তারা। এতে আবাদ ব্যাহত হচ্ছে। সদরের কুশবাড়িয়া গ্রামের কৃষক আলাউদ্দিন বলেন, আমার চার বস্তা টিএসপি দরকার। ডিলারের কাছ থেকে পাচ্ছি না। মঘি গ্রামের কৃষক আশরাফুল মল্লিক বলেন, ১০ বিঘা জমিতে ধানের আবাদ করেছি। আমার দরকার টিএসপি এবং ডিএপি। কিন্তু ডিলার মাত্র ১০ কেজি করে দিয়েছেন। তাতে প্রয়োজন মিটছে না। মঘি বাজারের বিসিআইসি ডিলার নিমাই পালের দাবি, তার কাছে পর্যাপ্ত ইউরিয়া আছে। কিন্তু ডিএপি এবং টিএসপি সারের চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়ে ১০ কেজি করে প্রত্যেক কৃষককে দেওয়া হচ্ছে। এই দুটি সারের সংকটের কথা কৃষি কর্মকর্তাদের জানানো হলেও কোনো সমাধান হয়নি।

চিলমারীতে কর্মকর্তাদের সঙ্গে ডিলারদের যোগসাজশ : কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপি সারের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ডিলাররা নিয়মবহির্ভূতভাবে নামমাত্র কয়েকজন কৃষকের কাছে সার বিক্রি করে বাকি সার গোপনে এলাকার বাইরে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ মিলেছে। কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে এসব করা হচ্ছে। স্থানীয় খুচরা সার বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম ও বকুল মিয়া বলেন, ন্যায্যমূল্যে সার দিচ্ছে না ডিলাররা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, ‘কৃষি অফিসের লোকজন ডিলারদের ঘরে গেলে কিসের এত খাওয়া-দাওয়া? কৃষি অফিস সঠিকভাবে মনিটরিং করলে কৃষকের সারের অভাব হতো না। ’

পাত্রখাতা এলাকার কৃষক জয়নাল আবেদনী, রনজু মিয়া ও লিয়াকত আলী জানান, জোড়গাছ বাজারে গয়ছল হক ডিলারের নিকট সার নিতে গেলে ‘সার নাই’ বলে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। সোমবার বিকালে দেলোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি সার নিতে গেলে তাকেও ফিরিয়ে দেন ডিলার আজাদুল ইসলাম।

যশোরে চাহিদামতো সার মিলছে না : যশোরে কৃষকরা চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছে না। মণিরামপুর উপজেলার বেড়েলা গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ শাহিন ৫ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছেন। তিনি জানান, সারের দাম বেশি। প্রতি বস্তা ইউরিয়া ১৬শ টাকা, টিএসপি ১৮শ টাকা এবং ডিএপি ১৪শ টাকায় কিনতে হয়েছে। ডিলাররা বলছেন, চাহিদামতো সার তারাও তুলতে পারেননি। অন্যদিকে চৌগাচায় ৩৭ বস্তাভর্তি একটি আলমসাধু গাড়ি আটক করা হয়েছে।

কৃষকদের দাবি, আগের মতো সার খোলামেলা বিক্রি করুক সরকার। প্রয়োজন মতো সার দিতে না পারলে, ফলনও ভালো হবে না। বিঘায় ২০ মনের পরিবর্তে ১২-১৩ মন সর্বোচ্চ উৎপাদন হতে পারে।

চৌগাছার কয়েকজন কৃষক সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন,কৃষি দপ্তরের লোকজন কৃষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের কাছ থেকে‘চাহিদা অনুযায়ী সার পেয়েছেন’লিখিত নিয়েছেন।এটা না করলে সার না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। চৌগাছা উপজেলা কৃষি অফিসার মোশাব্বির হোসেন বলেন,কারা কত পরিমাণ সার পেয়েছেন সেই ভাউচার লিখে নেওয়া হয়েছে।

Top