বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হলেন রিজভী - Alokitobarta
আজ : শুক্রবার, ২১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
বস্তাপ্রতি বাড়তি ৬০০ টাকা ,সরকারি দামে মিলছে না সার মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিকল্প থাকার পরও শিল্পের গ্যাস বিদ্যুতে কেন,শত শত কারখানা বন্ধের উপক্রম বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হলেন রিজভী মন্ত্রিসভায় রদবদল ও সম্প্রসারণের আভাস ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম সামনে রয়েছে বিএনপি,পেছনে আওয়ামী লীগ, প্রশাসন সিন্ডিকেট,নদীপাড়ের মানুষের কাছে এক আতঙ্কের নাম বালুমহাল ‎কাহালপুর ডা. মনসুর আহমদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হলেন রিয়াজুল ইসলাম সেহাংগল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বাইরে অবস্থান ও আড্ডা বন্ধে মতবিনিময় সভা বিদ্যুতে সরকারের প্রতি অসন্তুষ্ট ৮৯.৪%,গণভোট বাস্তবায়ন চান ৭০ শতাংশ,

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হলেন রিজভী


নুর নবী জনী :বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিএনপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় গঠনতন্ত্রের ৭(খ)৬ ধারা অনুযায়ী রিজভীকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসাবে মনোনীত করা হয়েছে। এ মনোনয়ন অবিলম্বে কার্যকর হবে।দীর্ঘদিন দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, কেন্দ্রীয় কার্যালয় পরিচালনা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় রিজভীকেই মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরি হিসাবে বেছে নিয়েছে বিএনপি। এর আগে ১৫ আগস্ট তাকে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব থেকে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়। বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পরপরই রিজভীকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়।এদিকে মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার পর থেকেই মহাসচিবের পদে কে আসছেন, তা নিয়ে গত কয়েকদিন বিএনপিতে আলোচনা চলছিল। দলের একাধিক সিনিয়র নেতার নাম আলোচনায় এলেও শেষ পর্যন্ত দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা রিজভীর ওপরই আস্থা রাখেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।দলটির নীতিনির্ধারক ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বলছেন, দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়কেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডে অভিজ্ঞতার জন্যই রিজভীকে মূল্যায়ন করেছে বিএনপি। এ বছরই দলের জাতীয় কাউন্সিল হওয়ার কথা। কাউন্সিলে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচিত হবে।

রিজভী বামপন্থি সংগঠন ‘বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন’-এর মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতিতে প্রবেশ করে পরে রাজশাহী সরকারি কলেজ শাখার সম্পাদক হন। পরে ছাত্রদল প্রতিষ্ঠা হলে তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগদান করেন এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পান। পরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮৪ সালে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে তিনি পঙ্গুত্ববরণ করেন। তখন ৭ বার কারাবরণ করেন তিনি। রিজভী ১৯৮৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন এবং ১৯৯০ সাল পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯২ সালে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮০ ও ৯০-এর দশকের প্রথমার্ধে ছাত্রদলের রাজনীতির উত্তাল ও সংকটময় সময়ে যেসব নাম রাজনৈতিক সমীকরণকে বদলে দিয়েছিল, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন রিজভী আহমেদ।২০১৬ সালে বিএনপির ষষ্ঠ সম্মেলনে তিনি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। ২০১৮ এবং ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। নব্বইয়ের দশকের পরবর্তী সময়ে নানা সংকট মোকাবিলা করলেও রিজভী আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।

তারেক রহমান লন্ডনে নির্বাসিত এবং বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর দলের দুঃসময়ে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে কার্যত নিজের কর্মস্থল ও আশ্রয়স্থলে পরিণত করেছিলেন রিজভী। ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত টানা ৭৮৭ দিন তিনি দলীয় কার্যালয়েই অবস্থান করেন। শীর্ষ নেতারা ওই সময় কারাগারে থাকায় দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখতে রিজভী সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর নয়াপল্টনে সংঘর্ষের পর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তালা দেয় পুলিশ। ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি রিজভীর নেতৃত্বেই তালা ভেঙে প্রবেশ করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। ২৮ অক্টোবরের পরবর্তী সময়ে দলের অনেক সিনিয়র নেতা যখন আত্মগোপনে, তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে রিজভী ঝটিকা মিছিল করে আলোচিত হন।

Top