নিরব ঘাতক ! শত কোটি টাকার দুর্নীতির! বরপুত্র আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সিন্ডিকেটের অন্যতম মহা নায়ক বতর্মানে (সওজ)র প্রধান প্রকৌশলী - Alokitobarta
আজ : সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
নিরব ঘাতক ! শত কোটি টাকার দুর্নীতির! বরপুত্র আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সিন্ডিকেটের অন্যতম মহা নায়ক বতর্মানে ... নানান অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো: তারেক আনোয়ার জাহেদী বিরু... চিকিৎসায় আস্থা ফেরানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর রূপসা কেন্দ্রে গ্যাসের চুক্তি বাতিলের চিঠি ওনি দণ্ডপ্রাপ্ত,আসার সঙ্গে সঙ্গেই গ্রেফতার হবেন বস্ত্র খাতে নগদ সহায়তা বাড়ল চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় ১০ পদক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর ১২-২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারী পাবেন রেশন সুবিধা পদ না থাকায় স্থানীয় বিএনপির সঙ্গে বৈরিতা‘পরিচয় সংকটে’ বিএনপিতে যোগ দেওয়া হেভিওয়েটরা! প্রার্থী হতে পারবেন না এমপিওভুক্ত শিক্ষক

নিরব ঘাতক ! শত কোটি টাকার দুর্নীতির! বরপুত্র আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সিন্ডিকেটের অন্যতম মহা নায়ক বতর্মানে (সওজ)র প্রধান প্রকৌশলী


এবি সিদ্দীক ভুইয়া :নিরব ঘাতক ! শত কোটি টাকার দুর্নীতির! বরপুত্র আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সিন্ডিকেটের অন্যতম মহা নায়ক সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসান বর্তমানে বিএনপির মুখোশ পরে দুদকের নজর এড়ানোর ফন্দি ফিকির শুরু করেছেন।টেন্ডার ও ঠিকাদার সিন্ডিকেট, ঠিকাদারদের সাথে গোপন আঁতাত, অর্থপাচার এবং স্বজনপোষণের মাধ্যমে বিতর্কিত ব্যক্তিদের সুবিধা দেওয়া সহ নানান অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এরপরও সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী হিসাবে রয়েছেন বহাল তবিয়তে।

আলোচিত দুর্নীতিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দিকগুলো নিচে দেওয়া হলো:

টেন্ডার ও ঠিকাদার সিন্ডিকেট: তাঁর সময়ে সড়ক ও জনপথের বড় বড় কাজগুলো গুটিকয়েক নির্দিষ্ট ঠিকাদারের হাতে চলে যায়। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে একই ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ।

জালিয়াত ঠিকাদারদের প্রশ্রয়: ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (TIB)-এর গবেষণা অনুযায়ী, সড়ক বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে সওজের উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির প্রতিবেদন।

টেন্ডারে জালিয়াতি করে নিষেধাজ্ঞায় পড়া ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাঁদের কাছ থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন। পরে তাদের চাপ প্রয়োগের মুখে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে জালিয়াতি করে নিষেধাজ্ঞায় পড়া ৪৭ ঠিকাদার কে।

পদায়ন ও নিয়োগ বাণিজ্য: বিভিন্ন অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে বারবার উঠে এসেছে ।

অর্থপাচার ও রাজনৈতিক মদদ: অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও নেতাদের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে তিনি বিভিন্ন সুবিধা নিয়েছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে অর্থদাতা সওজের প্রধান প্রকৌশলী মঈনুল শাস্তির বদলে স্ব-পদে রয়েছেন বহাল ।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পরও তাঁর মতো বিতর্কিত কর্মকর্তাদের বহাল থাকা নিয়ে নানা মহলে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন কি করে সওজের প্রধান প্রকৌশলী এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন ।

এদিকে জানাযায়,সৈয়দ মঈনুল হাসান সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতরের অধীনে বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণকাজে সর্বনিম্ন ২৯ হাজার ২৩০ কোটি থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে গত বছরের ৯ অক্টোবর এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

এ ছাড়া সওজের উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণকাজে সার্বিক দুর্নীতির হার ২৩-৪০ শতাংশ বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

সরকারি এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে রয়েছেন প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসান। দুর্নীতির এমন প্রতিবেদন দেওয়ার এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মঈনুল হাসানের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি কোনও ব্যবস্থা। স্বপদে বহাল রয়েছেন প্রধান প্রকৌশলী। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

টিআইবি বলছে,সড়ক নির্মাণ বা উন্নয়ন সংক্রান্ত কাজে সার্বিকভাবে দুর্নীতির হার ২৩ থেকে ৪০ শতাংশ। ২৩ শতাংশ হলে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ে সড়ক ও মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণ বা উন্নয়নকাজে প্রাক্কলিত দুর্নীতির পরিমাণ ২৯ হাজার ২৩০ কোটি টাকা, আর ৪০ শতাংশ হলে দুর্নীতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৫০ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা।

দুর্নীতির এমন প্রতিবেদনের পরও সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসান বহাল থাকার বিষয়ে এক বিএনপির নেতা নাম না প্রকাশ সত্ত্বে বলেন,সওজের প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে নয়,বরং সরকারি দলের নেতা হিসেবে নড়াইলে দাপট আছে সৈয়দ মঈনুলের। তিনি অর্থশালী মানুষ, তার বহুবিধ ব্যবসা আছে এখানে। তার দফতরের দুর্নীতি নিয়ে টিআইবি প্রতিবেদন দেওয়ার পরও এখনও মঈনুলের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়া আশ্চর্যজনক।

বিএনপির নেতা নাম না প্রকাশের সত্ত্বে বলেন, ‘সৈয়দ মঈনুলের পুরো পরিবার আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এখানে আওয়ামী রাজনীতির মূল অর্থদাতা মঈনুল। সওজ অধিদফতরে দুর্নীতি করে এসব টাকার মালিক হয়েছেন। তার ভাই টাকার বিনিময়ে জেলা পরিষদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। দুর্নীতি করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তার ভাইও।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সৈয়দ মঈনুল হাসানের বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন ১৮তম বিসিএসে নিয়োগ পান। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২৫ জানুয়ারি ১৯৯৯ সালে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। তিনি কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সদস্য। আইইবি-২০২২-২৩-এর নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদে (সবুর-মঞ্জুর প্যানেল) বিনাভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে গঠিত সড়ক কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মঈনুল হাসানের চাচাতো ভাই শামসুল আলম কচি লোহাগড়া উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি এবং নড়াইল জেলা পরিষদের আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সদস্য।

তার নিজ এলাকায় একাধিক ব‍্যক্তি নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, আওয়ামী লীগের সময় সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। আওয়ামী লীগের রাজনীত সাথে জড়িত ছিলেন তার পরিবার।তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ সেটা সত্য। তিনি নামে বেনামে সম্পদ গড়েছেন।বিদেশেও তার সম্পদ রয়েছে। একথা গুলো তাদের নিজ এলাকায় বিভিন্ন ব‍্যক্তির কাছ থেকে জানাযায়। আওয়ামী লীগে বড় নেতাদের সাথে বতর্মানে ও কথা হয় বলেন জানান তারা।

নাম না প্রকাশ করার সত্ত্বে একজন কর্মকর্তা বলেন,সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসানের আসার সাথে সাথে যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন তারা সবাই ভালো স্থানে বদলি হয়েছেন টাকার বিনিময়ে তদবিরের মাধ্যমে ।

অভিযোগের বিষয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসানের
সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কথা বলতে রাজি হননি। এমনকি তার ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে অভিযোগের বিষয়গুলো লিখে মেসেজ পাঠানো হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।

এ বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড.ইফতেখারুজ্জামান বলেন,সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের বসে তারা সেখানে বসেই অবৈধভাবে অর্থ নিচ্ছে রক্ষক যখন বক্ষকের ভুমিকায় ।অবৈধভাবে টাকা উত্তোলন এটি কোন ছোট্ট অপরাধ নয়।দুর্নীতি কখনো ছোট বড় নয় দুর্নীতি তো দুর্নীতিই সেটি যেমনই হোক। ছোট বড় দুর্নীতিতো দুর্নীতিই জন্ম দেয়। দুদক আগের চেয়ে ভালো কাজ করছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। দুদকের দুর্নীতির বিষয়ে আর বিশদ অনুসন্ধান প্রয়োজন। কেননা যে তুলনায় দুর্নীতির অভিযোগ আসে সেই তুলনায় দুদক অনুসন্ধান করতে পারে না। যদি সকল দুর্নীতি দুদক অনুসন্ধান করতে পারতো তাহলে দুর্নীতি অনেকাংশে কমে আসত। তবে আমরা আশাবাদী দুর্নীতিবাজদের শিকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব সেটি একদিন হবেই।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক কর্মকর্তা
বলেন,আমরা অনেক দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করছি। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে বসে দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পরেছেন কিছু বড় কর্মকর্তা। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসানের বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে দেখতে হবে।দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে কি না ।অভিযোগ পেলে সেটা তদন্তের মাধ্যমে আইন আনুগব‍‍্যবস্থা গ্রহন করা হবে। যারাই অপরাধ করুক না কেন আমাদের অনুসন্ধানে যদি কোনোভাবে প্রমাণিত হয়।তবে আমরা তাদের বিরুদ্ধে মামলা করব এবং প্রয়োজনীয় যত ব্যবস্থা আছে তা নেব। কোনো দুর্নীতিবাজকে ছাড় দেওয়া হবে না।

Top