ঋণখেলাপি ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদ
মু.এবি সিদ্দীক ভুঁইয়া:প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তব্যের একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা বলেন, বিনিয়োগ যদি আমরা একপাশে সরিয়েও রাখি, ব্যাংক ঋণ দেবে কোথা থেকে? ঋণখেলাপিদের এই সংসদে দাঁড়িয়ে বলতে হচ্ছে-বাংলাদেশে টোটাল মন্দ ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা। এর সঙ্গে যদি আপনি অবলোপন, পুনঃতফসিল করা এবং মামলার কারণে যে ঋণের টাকা আটকে আছে আদালতে অর্থাৎ পেন্ডিং মামলা হিসাবে যেটা এখনো খাতায় তোলা হয়নি, সেটা যদি আমরা যোগ করি-এই পরিমাণ দাঁড়াবে ১১ লাখ কোটি টাকায়। যেটা মোট ঋণের ৫৯.৭৩ শতাংশ।ঋণখেলাপি ইস্যুতে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যদের পালটাপালটি বক্তব্যে বৃহস্পতিবার উত্তপ্ত হয়ে উঠে জাতীয় সংসদের অধিবেশন। সরকারি দলের সদস্যরা বলেছেন, সংসদে কেউ ঋণখেলাপি নন।অন্যদিকে বিরোধী দল বলেছে, সার্বভৌম সংসদে ঋণখেলাপিদের ঋণখেলাপি বলতে না পারলে কোথায় বলবেন? জাতীয় সংসদে এই অনির্ধারিত বিতর্কের সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।স্বতন্ত্র সংসদ-সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যের জেরে এ বিতর্ক শুরু হয়।রুমিনের পর আরও কয়েকজন সদস্য বাজেট আলোচনায় অংশ নেন। একপর্যায়ে বিএনপির সংসদ-সদস্য একেএম ফজলুল হক মিলন পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বলেন, এই সংসদটা একটা ব্যতিক্রমধর্মী সংসদ।অনেক আন্দোলন,সংগ্রামের পর,ত্যাগের বিনিময়ে সর্বজন গ্রহণযোগ্য একটা অবাধ,সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে এই সংসদ গঠিত হয়েছে।আমরা অনেকেই অবচেতন মনে হোক, সচেতন মনে হোক-এমন কিছু কথা এই সংসদে উচ্চারণ করি,যা আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে।একটা কথা আছে,বেড়ায় যদি খেত খায়,সেই খেত টেকানো যায় না।তিনি বলেন,ঋণখেলাপি সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেন না।সেখানে ঋণখেলাপিদের সংসদ কী করে হয়?আমি অনুরোধ করব,আপনি এই শব্দটি এখান থেকে এক্সপাঞ্জ করেন।তখন ডেপুটি স্পিকার বলেন,বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে। এক্সপাঞ্জ হওয়ার মতো হলে এক্সপাঞ্জ করা হবে।
এরপর বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা নির্বাচনের আগেও ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। ঋণখেলাপিদের নমিনেশন দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের পরও আমি আমার প্রথম অধিবেশনের বক্তব্যে এখানে কত ঋণখেলাপি রয়েছেন, সে সংখ্যা আমি উল্লেখ করেছি। তাদের সম্মানে নাম প্রকাশ করিনি। এখন যে দল ঋণখেলাপিদের নমিনেশন দিয়ে তাদের সংসদে নিয়ে আসে, এটা তো তাদের দায়িত্ব। এখন যদি সংসদে এতগুলো ঋণখেলাপি থাকেন, তাহলে এই সংসদকে তো ঋণখেলাপিদের সংসদ বলবে। সরকারদলীয় লোক যারা টু-থার্ড মেজরিটি পেয়েছে, তারা ঋণখেলাপিদের সংসদে নিয়ে এসেছে। সাধারণ মানুষ এটা স্বাভাবিকভাবেই বলবে। আর আমরা সংসদকে সার্বভৌম বলছি, এখন এই সংসদে যদি আমরা ঋণখেলাপিদের ঋণখেলাপি বলতে না পারি, তাহলে আর কোথায় বলব? ফলে মাননীয় স্পিকার আপনার কাছে অনুরোধ থাকবে, যদি এ ধরনের শব্দ বলা হয়েও থাকে, সেটা আসলে এক্সপাঞ্জ হওয়ার মতো কোনো বক্তব্য নয়।
এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন,এখানে যারা আছেন, কেউই ঋণখেলাপি না। নির্বাচনি আইন রিপ্রেজেন্টেশন অব পিপলস অর্ডার এবং অন্যান্য বিধিমালা অনুসারে যারা ঋণখেলাপি আদালত কর্তৃক সাব্যস্ত হবে, ঘোষিত হবে, তারা নির্বাচনে অযোগ্য। তার মানে তারা ঋণগ্রস্ত হতে পারে। নট ঋণখেলাপি।তিনি বলেন,যাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে কারও কারও বিরুদ্ধে ব্যাংকের মামলা ছিল। অন্যান্য প্রাইভেট পক্ষের মামলা ছিল। সেগুলো আদালতে নিষ্পত্তি হয় এবং বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। তারা এখানে ইলেক্টেড হয়ে এসেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন আমরা কেন বলছি এটা ঋণখেলাপিদের সংসদ। কেউ কেউ ঋণগ্রস্ত হতে পারেন ব্যবসা-বাণিজ্য করতে গিয়ে।
পরবর্তী সময়ে নিজের বক্তব্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, টিআইবি সম্প্রতি বলেছে, এই সংসদের সদস্যদের কাছে এই দেশের ব্যাংকগুলোর পাওনা ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা। একটা তথ্য দিলাম। দুই হচ্ছে, আমি যেহেতু আইনজীবী, ইলেকশনের আগে সামান্য কিছু টাকা দিয়ে কীভাবে রিশিডিউলিং করা হয়, সেটা আমি খুব ভালো করেই জানি এবং সিআইবির নামটা আসার পর কীভাবে রিট পিটিশন দাখিল করে সিআইবির নামটা স্টে করে ইলেকশন করে আবারও সেই সুদ দেওয়া বন্ধ করা হয়, সেটাও আমরা ভালো বুঝি।