দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে - Alokitobarta
আজ : সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
দেশের ৪৭১ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু আমল নষ্ট করে যেসব কাজ বন্ধ কলকারখানা চালুসহ অর্থনীতি চাঙা করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে দেশজুড়ে মাদকের জাল দিনদিন আরও শক্তিশালী হচ্ছে,মাদকের বিস্তার কমছে না ২৫ কারণে ভয়ংকর অপরাধের পেছনে মাদকাসক্তি,কথায় ‘জিরো টলারেন্স’, বাস্তবে নেই রাব্বি-রাজার দাপটে তছনছ নিয়মনীতি,বিআইডব্লিউটিসিতে আধিপত্য বিস্তার এত শিশুমৃত্যুর দায় কার,হাম কেড়ে নিল পাঁচশ প্রাণ আলোচিত লতিফ হত্যায় জড়িত একজন আটক ডাঃ আশীষের অবহেলায় চিকিৎসক দম্পতির নবজাতকের মৃত্যুঃ তদন্ত কমিটি গঠন

দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে


জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক,আলোকিত বার্তা:দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে মন্তব্য করে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।তিনি বলেন,আমাদের সতর্ক হতে হবে।৫ আগস্ট যাদের বাংলাদেশের মানুষ এই দেশ থেকে বিতাড়িত করেছিল,এখন যারা অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইছে তাদের মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে।যেভাবে ৯৬ সালে করেছিল,যেভাবে ৮৬ সালে করেছিল।তাদের সঙ্গে নতুন কয়েকটি লেজও গজিয়েছে।সুন্দর ছোট ছোট লেজও গজিয়েছে।

শনিবার দুপুরে ত্রিশালের বৈলর এলাকার ‘ধরার খাল’ পুনঃখননের পর উপস্থিত নেতাকর্মীসহ গ্রামবাসীদের এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। একই দিন বিকালে ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে রামিসা হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, এই ধরনের শিশু নির্যাতন বা নারী নির্যাতন বর্তমান সরকার কোনোভাবেই মেনে নেবে না। বর্তমান সরকার রামিসার এই হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি ইনশাআল্লাহ আগামী এক মাসের মধ্যেই নিশ্চিত করবে। সেই সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড। যাতে করে ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি এভাবে শিশু বা নারী নির্যাতন করার সাহস না পায়। দুপুরের সমাবেশে তারেক রহমান আরও বলেন, যে কোনো অন্যায়কারীকে শাস্তি দিতে হলে, তার বিচার করতে হলে সরকারের কতগুলো নিয়ম-কানুন আছে। অথচ এই ঘটনাকে (রামিসা হত্যা) কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে কিছু সংখ্যক মানুষ একটা ঘোলাটে পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। রাস্তাঘাট বন্ধ করে দিচ্ছে, যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিচ্ছে, এখানে আগুন ধরাচ্ছে, ওখানে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। এই কাজগুলো যারা করে তারা আইনের শাসনকে বাধাগ্রস্ত করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন,অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন ক্ষমতায় ছিল সেই সময় আমরা দেখেছি দেশে কয়েকটি দুঃখজনক এরকম অন্যায় ঘটেছে। তখন আমি নিজে সেসব বাচ্চার মায়েদের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। আমাদের দলের চিকিৎসকরা গিয়ে চিকিৎসা দিয়েছেন। আইনজীবীরা আইনি সহায়তা করেছিলেন। আজকে যেই ব্যক্তিরা হইচই করছে, রাস্তা অবরোধ করছে, বড় বড় কথা বলছে, সেদিন কিন্তু তাদের আমরা মাঠে দেখিনি, সেদিন কিন্তু আমরা দেখিনি তারা অবরোধ করেছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, তাহলে কি আমরা ধরে নেব ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ যেহেতু বিএনপিকে ভোট দিয়ে সরকার গঠন করতে ক্ষমতা দিয়েছে, সেই জন্যই কোনো মহলের মনে জ্বালা হচ্ছে এবং এই জ্বালার কারণেই তারা এসব ষড়যন্ত্র করছে?

প্রধানমন্ত্রী বলেন,আজকে যারা দেশে এই অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, এতে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হবে এবং দেশের মানুষ বিপদে পড়বে। বাবার স্মৃতি ধরে রাখতে ৪৫ বছর পর ত্রিশালের বৈলর এলাকায় এই খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী। ১৯৭৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ত্রিশাল উপজেলার কানহর থেকে বৈলর পর্যন্ত ধরার খালটি খনন করতে এসেছিলেন। খালটির পুনঃখনন সম্পন্ন হলে এ এলাকার ২০ হাজার এবং জেলার ৪ লাখের বেশি মানুষ উপকৃত হবেন। প্রধানমন্ত্রী ওই খাল পারে একটি তাল গাছের চারা রোপণ করেন। ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন এমপির সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হক দুলু, প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসাইন। এসময় পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম, ওয়ারেছ আলী মামুন, আবু ওয়াহাব আকন্দ এমপি, আক্তারুজ্জামান বাচ্চু এমপি, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রোকনুজ্জামান সরকার রোকনসহ বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আগামী এক বছরকে ‘নজরুলবর্ষ’ ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর :আগামী এক বছরকে (২৫ মে, ২০২৬ থেকে ২৫ মে, ২০২৭) ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।শনিবার বিকালে ত্রিশালে নজরুলের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ ও কাজী নজরুল ইসলাম এক অবিভাজ্য সত্তা। তিনি আমাদের জাতীয় সত্তার সার্থক প্রতিনিধি, আমাদের জাতীয় চেতনার প্রতীক। আমাদের জাতীয়তাবাদের পথিকৃৎ। তিনি বলেন, একটি নিরাপদ মানবিক রাষ্ট্র এবং সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে আমাদের দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে। আমাদের জাতীয় জীবনে পুনরায় বাংলাদেশের আবহমানকালের ধর্মীয় সামাজিক সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পুনরুজ্জীবন ঘটানো জরুরি। এক্ষেত্রেও কবি নজরুলের জীবন ও কর্ম আমাদের জন্য প্রাসঙ্গিক।

ত্রিশালের দরিরামপুরের নজরুল একাডেমি মাঠের নজরুল মঞ্চে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকীর তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা, জেলা পরিষদ প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক লতিফুর রহমান শিবলী, ইনস্টিটিউটের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান কবিপৌত্রী খিলখিল কাজী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিখ মনজুর, ময়মনসিংহ-৭ আসনের সংসদ-সদস্য মাহবুবুর রহমান লিটন ও জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

দেশীয় প্রযুক্তির ইভি চালিয়ে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী :দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ইলেকট্রিক ভেহিকল (ইভি) চালিয়ে দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আনা বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের তৈরি কয়েকটি ইভি পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় একটি স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকল (এসইউভি) এবং একটি কাভার্ডভ্যান নিজে চালিয়ে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। পরে নির্মাতাদের প্রশংসা করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়, বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড দেশের প্রথম ইলেকট্রিক ভেহিকল নির্মাতা। গাড়িগুলো সম্পূর্ণ ব্যাটারিচালিত ও পরিবেশবান্ধব। গাড়িগুলোর দামও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে। এদিকে প্রধানমন্ত্রী তাদের আশ্বস্ত করেন, সব ধরনের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যদি বৈদ্যুতিক যান উৎপাদন করা যায় এবং এর মাধ্যমে দেশ উপকৃত হয়, তাহলে সরকার সহযোগিতা করবে।

প্রধানমন্ত্রীকে দেখানোর জন্য কার্যালয় প্রাঙ্গণে আনা হয় দুটি এসইউভি, একটি কাভার্ডভ্যান, একটি ট্রাক, একটি অটোরিকশা এবং দুটি মোটরসাইকেল। সকাল ১০টার দিকে কার্যালয়ে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী নিজ দপ্তরে প্রবেশের আগে গাড়িগুলো পরিদর্শন করেন। প্রথমে তিনি একটি এসইউভি চালান। এ সময় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের একজন প্রতিনিধি তার সঙ্গে ছিলেন এবং গাড়িটির বিভিন্ন প্রযুক্তিগত দিক তুলে ধরেন। পরে প্রধানমন্ত্রী একটি কাভার্ডভ্যানও চালিয়ে দেখেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান এ মান্নান হোসেন খান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মাসুদ কবিরকে নিয়ে নিজ দপ্তরে যান। সেখানে ইভি গাড়ির বাজারজাতকরণ ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে এ মান্নান হোসেন খান বলেন, গাড়িগুলো দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হলেও কিছু কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এসব কাঁচামালের ওপর শুল্ক সুবিধা পেলে অনেক কম খরচে গাড়ি বাজারে আনা সম্ভব হবে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) একেএম শামছুল ইসলাম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Top