রমজানেই ফ্যামিলি কার্ড অগ্রাধিকার হতদরিদ্র
মু.এবি সিদ্দীক ভুঁইয়া:ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দেশের হতদরিদ্র নারীদের নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে। চলতি রমজানেই কয়েকটি উপজেলায় এ কর্মসূচির পাইলট কার্যক্রম চালু হবে। পরে ধাপে ধাপে সব জেলা ও উপজেলায় এটি চালু হবে। ঈদের আগেই পাইলট ভিত্তিতে ফ্যামিলি কার্ড উন্মুক্ত করার চেষ্টা করব। সংখ্যা কি হবে, এ নিয়ে আমরা দু-এক দিনের মধ্যে পরিষ্কার জানতে পারব। আর এ কার্ডে অগ্রাধিকার পাবে হতদরিদ্র জনগোষ্ঠী।পাইলট প্রকল্প কবে থেকে শুরু হবে, কত টাকা করে দেওয়া হবে এবং এর আওতায় কোন কোন জেলা থাকবে-এমন প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নির্দিষ্ট কোনো জেলার নাম বলছি না। তবে আগে থেকেই কিছু এরিয়া আমাদের নির্দিষ্ট করা আছে। আগে একটা সার্ভে করা হয়েছে। বেশ কয়েকটা জেলার কিছু উপজেলা আগেই নির্দিষ্ট করা রয়েছে।অর্থাৎ পর্যায়ক্রমে ৫ কোটি পরিবার এ কার্ডের আওতায় আসবে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন-উর রশীদ। তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন নির্বাচনে আমাদের একটা কমিটমেন্ট ছিল ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার। আমরা কত দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই কার্ড চালু করতে পারি-এ বিষয়ে আজ আলোচনা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডে কি সুবিধা থাকবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নারীদের ক্যাশ টাকা দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন গরিব জনগোষ্ঠী বিশেষ করে নারীর কাছে ক্যাশ টাকাটা তাদের পরিবারের জন্য অনেক গুরুত্ব বহণ করে।’
ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘রাজনৈতিক বিবেচনায় ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে না। এই কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী থাকবে না। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হলেও চলমান ভাতাগুলো অব্যাহত থাকবে। কিভাবে ফ্যামিলি কার্ডে সুবিধা দেওয়া যায়, কত টাকা লাগতে পারে তা নির্ধারণে অর্থ সচিবকে প্রধান করে একটি কমিটি করা হয়েছে। আগামী ৩ দিনের মধ্যে কমিটি রিপোর্ট দেবে। এরপর আবার মিটিং করে ফ্যামিলি কার্ডের পাইলটিং কার্যক্রম শুরু হবে।’
এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘সুনির্দিষ্টভাবে কোন জেলায় কতজনকে দেওয়া হবে সেটা আমরা এখনো ঠিক করিনি। তবে বোধহয় কিছু এরিয়া আমাদের ফিক্সড করা আছে, আগে একটা সার্ভে করা আছে। ওই রিপোর্টটা আমার কাছে নেই, কয়েকটা জেলার কিছু উপজেলা আগেই নির্দিষ্ট করা আছে।’ ফ্যামিলি কার্ডের ভেতরে কি কি সুবিধা থাকবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ক্যাশ টাকা দেওয়া হবে, স্পেশালি মহিলাদের।’ এ বিষয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘রমজানে পাইলট আকারে চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড। নির্বাচনি ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ডের ইস্যু বিস্তারিত উল্লেখ আছে। এটা কার্যকর কীভাবে হবে, তা নিয়ে আজ আলোচনা হয়েছে।’
কত পরিবারকে দেওয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা কিন্তু সর্বজনীন। এতে কোনো রেস্ট্রিকশন থাকবে না। এজন্য একটি কমিটি করা হয়েছে। হয়তো শুরু হবে হতদরিদ্র থেকে। তারপর দরিদ্র। তারপর মধ্যবিত্ত-এভাবে এগোবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী চান, অন্তত পাইলট প্রজেক্ট হিসাবে ঈদের আগেই শুরু করতে। এইটুকু আমি জানি।’
ফ্যামিলি কার্ড প্রদানসংক্রান্ত কমিটি : অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সভাপতি করে ফ্যামিলি কার্ড প্রদানসংক্রান্ত ১৫ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি করা হয়েছে। কমিটিতে মহিলা ও শিশুবিষয়কমন্ত্রী, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী, মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, মাহদী আমিন ও রেহান আসিফ আসাদ; মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, অর্থ সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে সদস্য হিসাবে রাখা হয়েছে।
এই কমিটি ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে একটি উপযুক্ত ডিজাইন প্রণয়ন ও সুবিধাভোগী নির্বাচন পদ্ধতি প্রণয়ন করবে। ৮ বিভাগের প্রতিটি বিভাগের একটি উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড প্রবর্তনের ব্যবস্থা করবে। নারীদের জন্য বিদ্যমান অন্য কোনো কর্মসূচিকে ভিত্তি করে হিসাব করা যায় কিনা তা পর্যালোচনা করবে। সুবিধাভোগীদের ডেটাবেজ প্রণয়নের লক্ষ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ন্যাশনাল হাউজহোল্ড ডেটাবেজ আন্তঃসংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে ডিজিটাল এমআইএস প্রণয়নের সুপারিশ প্রণয়ন করবে। ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ বিষয়ে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রণয়ন করবে কমিটি।
জাতীয় পর্যায়ে নদী-খাল-জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি শুরু শিগগিরই : এদিন সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং জাতীয় পর্যায়ে নদী-খাল-জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি বিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়। সভা শেষে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি সাংবাদিকদের জানান, জাতীয় পর্যায়ে নদী-খাল-জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি শিগগিরই শুরু হবে এবং সর্বোচ্চ ১৮০ দিনের মধ্যে এটি দৃশ্যমান হবে।
তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জীবদ্দশায় এ কর্মসূচিকে (খাল খনন) বাংলাদেশে একটা মহা-বিপ্লবে পরিণত করেছিলেন। তো দীর্ঘদিন থেকে খাল খনন নেই। এ কারণে কোথাও জলাবদ্ধতা আবার কোথাও পানি নেই, সেচের ব্যবস্থা নেই। তাই আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে বারবার একথাটা উল্লেখ করেছেন যে, খাল খনন ও পুনঃখনন প্রক্রিয় পুনরায় চালু করা হবে-যাতে দেশের মানুষ উপকৃত হন।এ্যানি আরও বলেন, ‘আমরা মিটিং করেছি। এ নিয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় আবার বসবে। আলোচনা করবে এবং পরবর্তী সপ্তাহে সিদ্ধান্ত হবে। কীভাবে খাল খনন কর্মসূচিকে বিপ্লব আকারে নিয়ে সফল হতে পারি, সেই সিদ্ধান্তে আমরা পৌঁছাব। আর আমাদের কার্যক্রম ১৮০ দিন যেটা, সেই কার্যক্রম শুরু হবে।’
মে থেকে ৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করার কার্যক্রম শুরু : আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠক শেষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু জানান, মে মাস থেকে ৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করার কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের ইশতেহারে একটা জিনিস হয়তো আপনারা দেখছেন যে, প্রতিবছর ৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা কবে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এ কাজ করা হবে। চারা কোথায় পাওয়া যাবে, মিনিস্ট্রি অব এনভায়রনমেন্ট ফরেস্টে আছে, মিনিস্ট্রি অব অ্যাগ্রিকালচারে আছে। এছাড়াও প্রাইভেট সেক্টরে যদি পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে এ বছর আমরা কত বৃক্ষরোপণ করতে পারব জানি না। কম-বেশি হতে পারে, তবে আমাদের লক্ষ্য প্রতিবছর ৫ কোটি বৃক্ষরোপণ।কত দিনের মধ্যে এ কার্যক্রম শুরু করা হবে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘মে মাসের মধ্যে শুরু হবে। জুলাইয়ের পরে তো আর লাগানো যায় না। এ বছর ৫ কোটি চারা হয়তো পাওয়া যাবে না, কারণ আগে চারা উৎপাদন করা হয়নি। সব খোঁজ করে যা পাওয়া যায় সবই আমরা লাগাব।
তিন বাহিনীর প্রধানের সাক্ষাৎ : এদিন সকালে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিজ দপ্তরে এই সাক্ষাৎ হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. একেএম শামছুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকালে সচিবালয়ে পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি ও মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার।
শনিবারও অফিস করবেন প্রধানমন্ত্রী : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এখন থেকে শনিবারও অফিস করবেন। প্রশাসনে গতি আনার লক্ষ্যে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।