বেড়েছে লঞ্চ ভাড়া,ঈদ এলেই সরকার নির্ধারিত হারে ভাড়া আদায়ের সিদ্ধান্ত - Alokitobarta
আজ : সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
ফেসবুকের কাঠগড়ায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা—অভিযোগের আগে প্রমাণ কোথায়? কুমিল্লার প্রতিটি উপজেলায় গঠিত হবে ধর্ষণ প্রতিরোধ মঞ্চের কমিটি এক শক্তিশালী সিন্ডিকেটের লুটপাটের ময়দানে পরিণত হয়েছে বিআরটিসি কোটি কোটি টাকা লোপাট চলছে দুদকে অভিয... বরিশালে ডাঃ তহুরার হাতে বলি হলো উদীয়মান উদ্যোক্তা নাজিয়া মাইশা পে ফিক্সেশনের পর তিন মাসের বকেয়া সমন্বয় রোহিঙ্গা ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ চাপের আহ্বান বাংলাদেশের ঢাকার সাবেক পুলিশ সুপারসহ ৬ কর্মকর্তা বরখাস্ত জীবনযাত্রায় চাপ,দেশজুড়ে বাজার-গণপরিবহণে অস্থিরতা নতুন রাস্তা কেটে নালা দ্বিগুণ ব্যয়ে ডাস্টবিন এক ঢিলে দুই পাখি শিকারের চেষ্টা ,সারা দেশ,রাজধানীসহ কড়া নজরদারি পুলিশের

বেড়েছে লঞ্চ ভাড়া,ঈদ এলেই সরকার নির্ধারিত হারে ভাড়া আদায়ের সিদ্ধান্ত


মোহাম্মাদ আবুবকর সিদ্দীক ভুঁইয়া :ঈদ এলেই সরকার নির্ধারিত হারে ভাড়া আদায়ের সিদ্ধান্ত নেন লঞ্চ মালিকরা। যে কারণে মাথাপিছু ৫০ থেকে ৩শ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া দিয়ে বাড়ি ফিরতে হয় মানুষকে।স্বাভাবিক সময়ে দেড়শ থেকে সর্বোচ্চ ৩শ টাকায় লঞ্চে যাতায়াত করে ঢাকা-বরিশাল রুটের ডেকযাত্রীরা। ঈদে তা বাড়িয়ে করা হয় সাড়ে ৩শ। প্রথম শ্রেণির ক্ষেত্রেও একইভাবে নেওয়া হয় বাড়তি ভাড়া।বিষয়টি নিয়ে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি আর সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ সত্ত্বেও লাভ হচ্ছে না। বরং লোকসানের কথা বলে অব্যাহত রাখা হচ্ছে বাড়তি ভাড়া আদায়। এদিকে ডেক শ্রেণি নিয়ে কোনো জটিলতা না থাকলেও মিলছে না প্রথম শ্রেণির টিকিট। সোমবার বিক্রি শুরুর প্রথম দিনেই দুপুর ১২টার পর আর কোনো টিকিট ছিল না লঞ্চ কোম্পানিগুলোর কাউন্টারে।যাত্রীদের অভিযোগ, ‘মুখ চিনে টিকিট দিচ্ছে মালিকরা। ফলে সাধারণ মানুষ তা পাচ্ছে না।’ মালিকরা অবশ্য এই অভিযোগ মানতে নারাজ। একেকটি লঞ্চে সর্বোচ্চ ২৫০টি প্রথম শ্রেণির আসন রয়েছে উল্লেখ করে তারা বলেন, ‘চাহিদা যেখানে হাজার হাজার সেখানে সবাই কেবিন পাবে না এটাই স্বাভাবিক।’ এদিকে ঈদে ঘরমুখো মানুষের কষ্ট লাঘবে ২৮ এপ্রিল থেকে স্পেশাল সার্ভিস চালানোর ঘোষণা দিয়েছে লঞ্চ মালিক সমিতি। ওইদিন থেকে ঢাকা-বরিশাল রুটের প্রায় সবগুলো লঞ্চ এই রুটে ডাবল ট্রিপ দেবে বলে জানিয়েছেন সমিতির নেতারা।

মোট ২৬টি লঞ্চের রয়েছে ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচলের বৈধ অনুমতি। যদিও সবগুলো প্রতিদিন চলে না। ছুটির দিন আর যাত্রীর চাপ বুঝে এই রুটে লঞ্চ চালান মালিকরা। এমনো দেখা গেছে যে, উভয় প্রান্ত মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৮টি লঞ্চে চলছে যাত্রী পরিবহণ। মূলত লোকসান এড়িয়ে লাভের অঙ্কে থাকতেই এভাবে চালানো হয় লঞ্চ। স্বাভাবিক সময়ে যখন চাপ কম থাকে তখন যাত্রী টানতে ভাড়া কমিয়ে দেন লঞ্চগুলো।দেড়শ-দু’শ টাকায়ও তখন আনা-নেওয়া হয় ডেক শ্রেণির যাত্রী। ৩শ টাকার বেশি কখনোই ভাড়া নেওয়া হয় না ডেকে। কিন্তু ঈদ এলেই চোখ উলটে ফেলেন মালিকরা। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষকে জিম্মি করে শুরু হয় পুরো মাত্রায় ভাড়া আদায়। সরকারের বেঁধে দেওয়া রেট অনুযায়ী এই রুটে ডেক শ্রেণির যাত্রী ভাড়া মাথাপিছু ৩৬৭ টাকা। এর ৪ গুণ বেশি ভাড়া নেওয়া যাবে প্রথম শ্রেণির প্রতিটি আসনের ক্ষেত্রে।সেই হিসাবে প্রথম শ্রেণির কেবিনে প্রতিটি আসনের বিপরীতে সর্বোচ্চ ভাড়া আদায় করা যাবে ১৪৬৮ টাকা। বছরজুড়ে লোকসান ঠেকিয়ে লাভ আর প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ডেকে ১৫০ থেকে ৩শ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয় ভাড়া। ১৪শ টাকা নেওয়া হয় সিঙ্গেল কেবিনে।ঈদ এলেই ডেকে সাড়ে ৩শ টাকা হারে শুরু হয় ভাড়া আদায়। বাড়ানো হয় কেবিনের ভাড়াও। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে সিঙ্গেল কেবিন ১৪শ এবং ডাবল কেবিনে ২৫শ টাকা ভাড়া নেয় মালিকরা সেখানে ঈদে বাড়তি নেওয়া হয় ১শ থেকে ৩শ টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে ঢাকা-বরিশাল রুটের লঞ্চগুলোতে যেসব অগ্রিম টিকিট দেওয়া হচ্ছে তার প্রতিটির ক্ষেত্রেই এভাবে আদায় হচ্ছে বাড়তি ভাড়া।

ঈদ এলেই সরকারি রেটে ভাড়া আদায় বিষয়ে জানতে চাইলে সুন্দরবন নেভিগেশনের পরিচালক আকতার হোসেন আকেজ বলেন, ‘আমরা তো অন্যায় কিছু করছি না। সারা বছর কম ভাড়ায় যাত্রী টানি। ঈদের সময়ই কেবল আদায় হয় সরকারি রেটে। তাছাড়া ঈদে তো আমাদেরও বাড়তি খরচ রয়েছে। ডাবল ট্রিপ দেওয়া প্রশ্নে খালি লঞ্চ চালিয়ে যেতে হয় ঢাকায়। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-বোনাসের বিষয় রয়েছে। ঢালাও অভিযোগ দিলে তো চলবে না।’ বরিশাল নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ‘মানছি তারা অন্যায় কিছু করছে না। কিন্তু বিবেক আর মানবিকতা বলেও তো কিছু রয়েছে। গার্মেন্টের একজন কর্মচারী ঈদে বেতন-বোনাস মিলিয়ে সর্বোচ্চ হয়তো ১২ হাজার টাকা পেল। তার সংসারে যদি ৫ জন মানুষ থাকে তাহলে লঞ্চের আসা-যাওয়াই বাড়তি ৫শ টাকা শেষ। অনেকে আছে সারা বছর যেভাবে ভাড়া দিয়ে যাওয়া-আসা করে সেভাবেই হিসাব করে ঈদের বাজেট। লঞ্চ মালিকরা যদি বেশি লাভের হিসাব না কষে ঈদ উপলক্ষ্যে ভাড়া কমিয়ে দিত তাহলে তাদের বড় মনের পরিচয় মিলত।’

ঈদযাত্রা প্রশ্নে ডেক শ্রেণির যাত্রীদের টিকিট নিয়ে কোনো জটিলতা না থাকলেও মিলছে না প্রথম শ্রেণির আসন। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে যাত্রীদের কাছ থেকে প্রথম শ্রেণির আসনের চাহিদা চায় লঞ্চ মালিকরা। সে অনুযায়ী লঞ্চ কোম্পানিগুলোর কাউন্টারে ঠিকানা আর ফোন নম্বরসহ পৌঁছে দেওয়া হয় চাহিদার স্লিপ। টানা ২ সপ্তাহ ধরে চাহিদা নেওয়ার পর গত সোমবার থেকে শুরু হয় কেবিন বিক্রি। সোমবারই দুপুরের পর বহু যাত্রী অভিযোগ করেন চাহিদা অনুযায়ী আসন না পাওয়ার। মিজানুর রহমান নামে এক যাত্রী বলেন, ‘২৯ এপ্রিল ঢাকা থেকে বরিশালে যাওয়ার ৩টি ডাবল কেবিনের চাহিদা দিয়েছিলাম। কাউন্টার থেকে একটি কেবিন দেওয়া হয়েছে।’ আরেক যাত্রী ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাবাসসুম রাওনি অভিযোগ করে বলেন, ‘লঞ্চ মালিকরা মুখ চিনে টিকিট দিচ্ছে। সাধারণ যাত্রীদের চাহিদার প্রতি তাদের কোনো খেয়ালই নেই।’ অভিযোগ সম্পর্কে জানতে যোগাযোগ করা হলে সুরভী নেভিগেশনের পরিচালক রেজিন উল কবির বলেন, ‘আমার লঞ্চে প্রথম শ্রেণির আসন রয়েছে ২২৫টি। চাহিদা ১ হাজার। এখন আপনিই বলুন বাকি ৭৭৫ জনকে আমি কোথা থেকে কেবিন দেব?’ সালমা শিপিং করপোরেশনের এজিএম মো. রিয়াজুল করিম বেলাল বলেন, ‘২১৫টি কেবিনের মধ্যে ২০টি রাখতে হয় প্রশাসন, পুলিশসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য। বাকি ১৯৫টি কেবিনের বিপরীতে চাহিদা আছে কম করে হলেও ১২শ। কেবিন তো আর আমরা তৈরি করে দিতে পারব না। চাহিদার বিপরীতে লঞ্চগুলোর কেবিনের সংখ্যা কম বলেই এই সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।’

কেন্দ্রীয় লঞ্চ মালিক সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্ট, বরিশাল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদুর রহমান রিন্টু বলেন,ঈদে ঢাকা-বরিশাল রুটে আমাদের ২৬টি লঞ্চ এবং একটি ওয়াটার বাস চলবে। এর সবগুলোই প্রয়োজন অনুযায়ী ২৮ এপ্রিল থেকে দেবে ডাবল ট্রিপ। প্রয়োজনে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা লঞ্চ চালাব আমরা। যাতে ঈদে কেউ ঢাকায় আটকে না থাকে। এটা ঠিক যে, সবার চাহিদা মতো কেবিন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু আমরা মনে করি আরাম-আয়েশ নয়, নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোটাই আসল কথা। সেটাই নিশ্চিত করার চেষ্টা চালাব আমরা।

Top