বিস্ময়কর অগ্রগতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশের নারীরা
মোহাম্মাদ আবুবকর সিদ্দীক ভুঁইয়া:শিক্ষা, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, কর্মসংস্থান ও নেতৃত্বসহ প্রায় সব খাতেই বিস্ময়কর অগ্রগতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশের নারীরা। সংবিধান, আইন ও রাষ্ট্রীয় নীতিতে নারীদের প্রতি ইতিবাচক পদক্ষেপে স্বাধীনতার ৫০ বছরে এই এমন গতি অর্জিত হয়েছে। তবে নারী নির্যাতন ও তাদের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি কাটাতে পারলে স্বাধীনতার শতবর্ষের আগেই নারীরা পুরুষের সঙ্গে প্রকৃত অর্থেই সমানতালের প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আর এমন পরিস্থিতিতে আজ বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য-‘টেকসই আগামীর জন্য জেন্ডার সমতাই আজ অগ্রগণ্য।’দিবসটি উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক বাণীতে বলেছেন, জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিটি কাজে নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। স্বাধীনতা লাভের পর ৫০ বছরে বাংলাদেশের অন্যতম অর্জন হচ্ছে লিঙ্গবৈষম্য কমিয়ে নারীর ক্ষমতায়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে উল্ল্নেখযোগ্য সাফল্য লাভ। এরই ধারাবাহিকতায় এ দেশের উন্নয়নের ধারাকে টেকসই করার লক্ষ্যে সরকার তৃণমূল পর্যায় থেকে নারীর খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে।এছাড়া মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠন নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করছে।বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে কর্মক্ষেত্রে ১০০ জনের মধ্যে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল ৪ জনেরও কম। অর্থাৎ ৯৫ জন পুরুষের বিপরীতে ৪ জন নারী কাজ করতেন। বর্তমানে কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০ চল্লিশ শতাংশ। কর্মক্ষেত্রে নারীদের এই অগ্রগতিকে বিস্ময়কর-এমন অভিমত বিশ্লেষকদের। তারা বলছেন, নারী অগ্রগতির পথে অনেক বাধা আছে, সামনে আরও অনেক পথ পার হতে হবে। কিন্তু স্বাবলম্বী হতে বাংলাদেশের নারীরা অনেক শৃঙ্খল পার হয়ে আজকের পর্যায়ে পৌঁছেছেন। ২০৪১ সালের মধ্যে কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের ৫০:৫০ অংশগ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
বাংলা একাডেমির সভাপতি ও বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, বাল্যবিবাহ রোধ ও মাতৃমৃত্যু কমানোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়ন অনেক উন্নতি হয়েছে। অনেক নারী এখন উপার্জনক্ষম হয়েছেন। সংসারে তাদের সম্মান বেড়েছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিচ্ছে নারীরা। স্বাধীনতা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত এ সাহিত্যিক আরও বলেন, করোনার সময়ে বাল্য বিবাহ বেড়ে একটা বড় ক্ষতি হয়েছে, এ জায়গায় গুরুত্ব দিতে হবে। বাবা-মায়েদের উদ্দেশে বলব, বিয়ে দিলেই মেয়ে নিরাপদ হয়ে যায় না, মেয়েকে শিক্ষিত করে বিয়ে দিন, তাহলে সবদিকই নিরাপদ থাকবে।
বিসিএস উইমেন নেটওয়ার্কের মহাসচিব এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব সায়লা ফারজানা বলেন, ‘প্রশাসনে নারীদের কাজে সুযোগ অনেক বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। প্রশাসনের সঙ্গে চিকিৎসক, পুলিশ, শিক্ষকসহ সব ক্ষেত্রে নারীরা মাঠে ভালো করছেন।’ মাঠ প্রশাসনে ডিসির দায়িত্ব পালন করে আসা এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘মাঠে নারীরা খুব ভালোভাবে কাজ করছেন। সব জায়গায় প্রশংসাও পাওয়া যায়। কিন্তু উপরের পদের দিকে উঠতে গেলে নারীদের প্রাপ্য অনেক সুযোগ পায় না। এ বিষয়টাতে বাধা আছে বলে মনে হয়। মাঠে ভালো করলে নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও তারা ভালো দায়িত্ব পাওয়ার অধিকার জন্মায়।’ উল্লেখ্য, উপসচিব থেকে সচিব পর্র্যন্ত নারী কর্মকর্তার সংখ্যা মাত্র ১ শতাংশ।
বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে আইনের দৃষ্টিতে সব নাগরিক সমান বলে উল্লেখ করলেও সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদে নারীদের জন্য বিশেষ রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে। নারীদের এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এটি বিশেষ অবদান রেখে চলছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। সংবিধানের ২৮(৪) অনুচ্ছেদে নারীদের বিশেষ বিধান প্রণয়নের সুযোগ রাখা হয়েছে। এতে শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে নারীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে থাকে সরকার। এছাড়া সংবিধানের ৬৫(৩) অনুচ্ছেদ জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য ৫০ আসন সংরক্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। যা বাংলাদেশের নারীর ক্ষমতায়নে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে মনে করেন নারী অধিকারকর্মীরা। স্বাধীনতার পর জাতীয় সংসদে মাত্র ১৫টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। এর বাইরে স্থানীয় সরকারের প্রতিটি স্তরে ৩০ শতাংশ নারীদের নেতৃত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে। এর বাইরেও নির্বাচনে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার সুযোগ আছে নারীদের।বিশিষ্ট নারী অধিকারকর্মী খুশী কবির বলেন, সবচেয়ে বড় অর্জন মনে হয় উদ্যোক্তা নারীদের সৃষ্ট মানসিকতা। তিনি বলেন, পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ও বিভিন্ন ধর্মীয় কুসংস্কারের বাধাকে জয় করে এসব নারী নিজেদের পায়ে নিজের যেমন দাঁড়িয়েছে, অন্যদেরকে পথ দেখিয়েছে। এই বিষয়টাই বড় শক্তি, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নারীদের আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।’ এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পুরুষতান্ত্রিক সমাজ, রাষ্ট্র ও ধর্মের বিভিন্ন বাধা নারী অগ্রগতির সামনের দিনের বড় চ্যালেঞ্জ, যা আগেও ছিল, এখনো আছে। তিনি বলেন, পুরুষতান্ত্রিক বলতে আমরা বর্তমান সিস্টেমটাকে বোঝাই। সব পুরুষ নারী অগ্রগতির বিপক্ষে নন। অনেক সফল নারীর পেছনের গল্পে পিতা, ভাই এবং স্বামীদের অবদান আছে।
রাজনীতিতে নারী : বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোতেও নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। প্রায় চার দশক যাবৎ বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় দুটি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুজন নারী। জাতীয় সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন একজন নারী। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ পর্যন্ত চারবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সভাপতিমণ্ডলীর শীর্ষ তিনজনই নারী। অর্থাৎ সভাপতি শেখ হাসিনা ছাড়াও সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, বেগম মতিয়া চৌধুরী দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, আন্তর্জাতিক সম্পাদক, অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদকসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদেও নারী নেতারা দায়িত্ব পালন করছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভাতেও পাঁচজন নারী সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন ডা. দীপু মনি, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান, মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হয়েছেন হাবিবুন নাহার। বর্তমানে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতার পদটিও নারীর দখলে।
জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ। একই সঙ্গে তিনি সংসদের প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা। এর বাইরেও দলটির গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা নারীদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির আহ্বায়ক শেরিফা কাদের এমপি প্রমুখ।বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তিনবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। এ দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক তাজমেরী এসএ ইসলাম, অধ্যাপক শাহিদা রফিক, সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, শ্যামা ওবায়েদ, স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরীন সুলতানা, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী প্রমুখ দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রশাসন : সরকারি চাকরির নানান ক্ষেত্রে নারীদের সুযোগ ও অংশগ্রহণের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে মাঠ প্রশাসনে নারী কর্মকর্তাদের সাফল্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে দেশের প্রায় পাঁচশ উপজেলার মধ্যে ১৩৮টি উপজেলায় নারী ইউএনও দায়িত্ব পালন করছেন। ভূমি প্রশাসনে এসি ল্যান্ড হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন ১৪৬ জন নারী। ডিসি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন ৮ জন। প্রশাসনের শীর্ষ পদ অর্থাৎ সচিব ও সচিব মর্যাদার পদে রয়েছেন ৯ জন নারী কর্মকর্তা। এর বাইরে সহকারী সচিব, সিনিয়র সহকারী সচিব, উপসচিব, যুসগ্মসচিব ও অতিরিক্ত সচিব মিলিয়ে প্রশাসনে মোট নারী কর্মকর্তার সংখ্যা ১ হাজার ৫৩২ জন।
বিচার বিভাগ : সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে এর আগেও একাধিক নারী বিচারক দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে আপিল বিভাগে একমাত্র নারী বিচারপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন কৃষ্ণা দেবনাথ। হাইকোর্ট বিভাগে অন্তত ৭ জন নারী বিচারপতি আছেন। তারা হলেন বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী, ফারাহ মাহবুব, নাঈমা হায়দার, কাশেফা হোসেন, ফাতেমা নজীব ও কাজী জিনাত হক।
এছাড়া নিম্ন আদালতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী বিচারক দায়িত্ব পালন করছেন। এদের মধ্যে জেলা জজ ও জেলা জজ মর্যাদায় থাকা নারী বিচারক আছেন ৪৮ জন। নিম্ন আদালতে মোট নারী বিচারকের সংখ্যা ৫৪৭ জন।
পুলিশ : পুলিশের শীর্ষ পর্যায়েও নারীরা সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। ডিআইজি পদে দুজন ও অতিরিক্ত ডিআইজি পদে তিনজন নারী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশ সুপার পদমর্যাদায় আছেন ৮০, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ১২১ ও সহকারী পুলিশ সুপার পদে কাজ করছেন ৯০ জন কর্মকর্তা। সব মিলিয়ে পুলিশের বিভিন্ন পদে ১৫ হাজারের বেশি নারী কর্মরত আছেন।
গার্মেন্ট খাত : বাংলাদেশের অর্থনীতির বড় ভিত্তি গার্মেন্ট খাতে নারী কর্মীরা মুখ্য ভূমিকা রাখছে। এই খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে শ্রম দিচ্ছেন। এদের মধ্যে নারী শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৮৩ শতাংশ।
এর বাইরে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাংকসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন খাতে নারীদের অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়ছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে ১ হাজার নারী সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বর্তমান আইন ও নীতি সহায়তা বজায় থাকলে আগামী ২০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ খাতের নেতৃত্ব নারীদের হাতে যাবে।
করোনাকালে নির্যাতন বেড়েছে : করোনার সময় দেশের প্রায় সবকিছু যখন স্থবির ছিল তখন ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে। সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের তথ্যের সমন্বয়ে তৈরি করা ২০২০-২১ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় গেল অর্থবছরে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে ১ হাজার ৩৮০টি ও নারী নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে ১ হাজার ৯০৭টি। গত ২২ নভেম্বর মন্ত্রিসভায় উপস্থাপিত প্রতিবেদনে এমন চিত্র মিলেছে। মন্ত্রিসভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ধর্ষণ মামলা ছিল ৫ হাজার ৮৪২টি, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে সেটা বেড়ে হয়েছে ৭ হাজার ২২২টি। এ দুই অর্থবছরে যথাক্রমে নারী নির্যাতন ১২ হাজার ৬৬০টি থেকে বেড়ে হয়েছে ১৪ হাজার ৫৬৭টি।
নারীদের সুরক্ষা দিতে ২০১১ সালে নারী নীতি প্রণয়ন হয়েছে। ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে ২০২০ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সংশোধন আনা হয়। তারপরও নারী নির্যাতন বেড়ে চলেছে। উন্নয়ন সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসাব অনুসারে, ২০২০ সালে ধর্ষণের ঘটনা ছিল ১ হাজার ৬২৭টি, ২০১৯ সালে ১ হাজার ৪১৩টি এবং ২০১৮ সালে ৭৩২টি। অর্থাৎ ২০১৮ সালের তুলনায় ২০২০ সালে ধর্ষণের ঘটনা দ্বিগুণের বেশি বেড়ে গেছে।ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫ এর সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) শ ম আব্দুল আওয়াল বকুল বলেন, মামলার মূল শক্তি পুলিশের তদন্ত। অনেক ক্ষেত্রে তদন্তে নয়ছয় হয়। টাকা ও ক্ষমতার কারণে অনেক জায়গায় মামলাও হয় না। উলটো উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষদের কেউ কেউ উভয়ের সম্মতিতে লিভটুগেদার করেন। যখন বনিবনা হয় না তখন মেয়ে পক্ষ মামলা করলে সেই মামলাও টেকানো যায় না। এর বাইরে সাক্ষী হাজির করে এসব মামলা প্রমাণে অনেক বাধা আছে।সুপ্রিমকোর্টের অ্যাডভোকেট ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ আরিফ খান বলেন, কড়া আইন থাকলেও তা প্রয়োগের ক্ষেত্রে দুর্বলতা অনেক বেশি। যে কারণে এ সংক্রান্ত অপরাধের বিচারে বড় দৃষ্টান্ত স্থাপন হচ্ছে না। এতে নারী ধর্ষণ ও অন্যান্য নির্যাতন না কমে বরং বেড়ে যাচ্ছে। এক প্রশ্নের উত্তরে আরিফ খান বলেন, সংবিধান আইন ও নীতির দিক থেকে নারীদের অগ্রগতির ক্ষেত্রে বাধা তেমন নেই। কিন্তু সামাজিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির দেওয়ালটা এখনো অনেক উঁচু। তিনি বলেন, এই দুটি জায়গায় উন্নতি করতে পারলে বাংলাদেশের নারীদের উন্নতি বিশ্বে বড় চমক হিসাবে আবির্ভূত হবে।