নেতিবাচক প্রভাব ৫৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা
আলোকিত বার্তা:করোনাভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলার জন্য শিল্প খাতে বড় দুটি প্রণোদনা প্যাকেজের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হয়েছে। এর আওতায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ঋণ বিতরণের জন্য আরও ৫৩ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংককে জোগান দেওয়া হবে। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বরাদ্দ তহবিলেও পর্যাপ্ত অর্থ রয়েছে। সেখান থেকেও অর্থ দেওয়া হবে।এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সম্প্রতি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে আলাদাভাবে দুটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে চলতি অর্থবছরের জন্য প্রতিটি ব্যাংককে এসব খাতের জন্য আলাদা আলাদা লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ওই লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে ঋণ বিতরণ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, বড় শিল্প ও সেবা খাতে ঋণ দিতে ৩৩ হাজার কোটি টাকা এবং কুটির, অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ঋণ দেওয়ার জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের ৩০ জুনের মধ্যে এসব অর্থ বিতরণ করতে হবে। করোনার ক্ষতি মোকাবিলায় গত বছরের এপ্রিলে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী বড় শিল্প ও সেবা খাতে চলতি মূলধনের জোগান দিতে ৩০ হাজার কোটি টাকা এবং কুটির, অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে চলতি মূলধনের জোগান দিতে ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের ঘোষণা দেন।এর আলোকে গত বছরের ১২ ও ১৩ এপ্রিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক দুটি সার্কুলার জারি করে দুটি তহবিল গঠন করে। এর মধ্যে বড় শিল্প ও সেবা খাতের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকার তহবিলের ঋণের সুদের হার হবে ৯ শতাংশ। আর গ্রাহক দেবে সাড়ে ৪ শতাংশ এবং ব্যাংককে ভর্তুকি হিসাবে দেওয়া হবে সাড়ে ৪ শতাংশ সুদ। পরে দুই দফায় এ তহবিলের আকার বাড়িয়ে ৪০ হাজার কোটি টাকা করা হয়। এর মধ্যে জুন পর্যন্ত ৩৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এ তহবিলটি বাস্তবায়ন করছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো।
কুটির, অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিলের ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশ। এর মধ্যে গ্রাহককে দিতে হবে ৪ শতাংশ এবং ব্যাংককে ভর্তুকি হিসাবে দেওয়া হবে ৫ শতাংশ। এ তহবিল থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এ তহবিলটি বাস্তবায়ন করছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো।
এসব তহবিলের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে পুনঃঅর্থায়ন করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৫ হাজার ১০ হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে। এ দুটি তহবিলের মধ্যে বড় শিল্পের ১৫ হাজার কোটি টাকার তহবিলের বড় অংশই ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু কুটির, অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের তহবিলের ১০ হাজার কোটি টাকার বেশির ভাগই ব্যবহৃত হয়নি।জানা গেছে, তহবিলের মেয়াদ বাড়ানোর ফলে প্যাকেজ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে যদি তারল্য সংকট হয়, সেক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় অর্থ জোগান দেবে কেন্দ্রীয় বাংক।দেশে এখন করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। ফলে এখনো ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর করোনার আঘাত অব্যাহত আছে। এ কারণে আলোচ্য দুটি প্যাকেজের মেয়াদ চলতি অর্থবছরের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এসব প্যাকেজ থেকে আগে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত যেসব উদ্যোক্তা ঋণ নেননি, তারা নতুন ঋণ নিলে সুদের হার ভর্তুকি হিসাবে পাবেন। অর্থাৎ বড় শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে গ্রাহক পর্যায়ে সাড়ে ৪ শতাংশ এবং কুটির, অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ক্ষেত্রে ৪ শতাংশ সুদ দিতে হবে।
তবে গত বছর প্রণোদনার আওতায় ঋণ নিয়েছেন এমন গ্রাহক এবারও ঋণ নিলে তারা সুদের রেয়াতি সুবিধা পাবেন না। বাণিজ্যিক সুদ হার অর্থাৎ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে হবে। প্যাকেজের আওতায় তিন বছর মেয়াদি ঋণ নেওয়া যাবে। তবে রেয়াতি সুদে ঋণ মিলবে এক বছরের জন্য। বাকি ২ বছরের জন্য বাণিজ্যিক হারে সুদ দিতে হবে।এদিকে কুটির, অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের তহবিল থেকে আগে শুধু চলতি মূলধন নেওয়া যেত। এখন থেকে মেয়াদি ঋণও নেওয়া যাবে। এ খাতের উদ্যোক্তাদের সহায়তা করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে।করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত রপ্তানিমুখী শিল্পকে সহায়তা করতে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের আকার দুই দফায় বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলার এবং সুদের হার কমিয়ে পৌনে ২ শতাংশ করা হয়। এ তহবিলের প্রায় শতভাগ ব্যবহৃত হয়েছে। গত জুনে এ তহবিলে ২০ কোটি ডলার ছিল। তা থেকে এখন ঋণ দেওয়া হচ্ছে।এছাড়া এটি ঘূর্ণায়মান তহবিল। অর্থাৎ ঋণের অর্থ সুদসহ ফরত এলে তা আবার তহবিলে জমা হয়। এভাবে এ তহবিলে প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৬ কোটি ডলার জমা হচ্ছে। এসব থেকেও এখন ঋণ দেওয়া হচ্ছে। রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে এ তহবিল থেকে ঋণ দেওয়া হয়। ঋণের মেয়াদ সাধারণত ৩ থেকে ৬ মাস। করোনার কারণে এর মেয়াদ আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, রপ্তানিকারকদের চাহিদা থাকলে এ তহবিলের আকার আরও বাড়ানো হবে। কৃষিভিত্তিক শিল্পে চলতি মূলধনের জোগান দিতে ৫ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিলের মেয়াদ ৩০ জুন শেষ হয়েছে। এর মেয়াদ এখনো বাড়ানো হয়নি। ওই সময় পর্যন্ত এর প্রায় ৮৬ শতাংশ ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।