সাহেবেরহাটে পেঁয়াজ, আলু ও চাউলের বাজার সরগরম ! ভ্রাম্যমান আদালতের জরিমানা
রেদওয়ান শাওন:বরিশাল সদর উপজেলার বৃহত্তম বাজার সাহেবেরহাটে পাইকারি ও খুচরা দোকানগুলোতে আবারও বেড়েছে পেঁয়াজ,আলু ও চাউলের দাম।বর্তমানে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজ ৫০-৬০ টাকা এবং খুচরা বাজারে প্রকারভেদে ৭০-৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।সাম্প্রতিক সময়ে করোনা ভাইরাস এবং স্থানীয় পাইকার বাজারে পেঁয়াজের আমদানি কম থাকায় গত ৪ দিনে পেঁয়াজ, আলু ও চাউলের দাম বাড়ার কারণ বলছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা।তবে নতুন পেঁয়াজ আমদানির মৌসুম শুরু হওয়ার পড়েও কেনো নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্যের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে এমনটা জানান সাধারন ক্রেতারা। ক্রেতারা বলছেন,মূল্য বৃদ্ধি হওয়ার পর থেকে তারা পেঁয়াজের ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছেন এমনকি দাম নিজেদের মতো করে বাড়িয়েছেন। পেঁয়াজের মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে সাহেবেরহাটে এক খুচরা ব্যাবসায়ীর সাথে বেশ কয়েকজন ক্রেতার ঝগড়া হয়। বেসামাল পরিস্থিতির মধ্যে সরকার বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে এবং টিসিবি’র মাধ্যমে খোলা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছে। এরপর পাইকারি ও খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছিলো। কিন্তু মার্চ মাসের মধ্যের দিকে বাজারে আবারও পেঁয়াজ, আলু ও চাউলের দাম বেড়েছে। সাহেবেরহাট এলাকার পেয়াজ ও আলুপট্টির পাইকারি বাজার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশি, মিয়ানমার, তুরষ্ক ও পাকিস্তানের পেঁয়াজ ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
আর এসব পেঁয়াজ খুচরো বাজারের ব্যবসায়ীরা স্থানভেদে কেজি প্রতি ১০-৩০ টাকা বেশি দরে বিক্রি করছে। এমনকি আলুর বাজার মূল্য ১৫ টাকার স্থলে এখন ২৫ টাকা, চাউল ১৪৫০-১৫০০ টাকার স্থলে ১৮০০-১৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাহেবেরহাটের এক আড়তদার বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রোমন দেখা দেওয়ায় বর্তমানে বিদেশ থেকে আমদানি কমে গেছে/বন্ধ রয়েছে তাই বাজারে পেঁয়াজ, আলু ও চাউলের সংকট রয়েছে। আর স্বল্প পরিমাণে যে পেঁয়াজ আমদানি হয়, তাও বরিশালে এসে পৌঁছায় না। জানাগেছে সাহেবেরহাট বাজারে পেঁয়াজ ও আলু চড়া দামে বিক্রি করছিলেন দুই খুচরা ব্যাবসায়ী মোঃ এসহাক হাং ও ছালাম খাঁন।
এসব সিন্ডিকেট বন্ধে গতকাল বরিশাল জেলা প্রসাশনের ভ্রাম্যমান আদালত (মোবাইল কোর্ট) এর মাধ্যমে তাদের দুই খুচরা ব্যাবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। তবে গত কয়েক দিন পেঁয়াজের বাজার ঊর্ধ্বমুখি থাকলেও আবার দাম কমবে বলে আশা করছেন পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। এদিকে সাধারন ক্রেতারা বলেন নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের দাম স্বাভাবিক হওয়ার জন্য প্রসাশনের হস্তক্ষেপ থাকা দরকার। তাহলেই আবার হয়তো আমাদের মনে সস্তি ফিরে আসবে।