শিক্ষকদের দখলে হিজলতলা-মৌলভীরহাট স্কুল বিক্রি করছে নোট ও গাইড ! চলছে প্রাইভেট বানিজ্য - Alokitobarta
আজ : বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
এক পুলিশ কর্মকর্তা! পুলিশ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের নেতিবাচক সব ধারণা পাল্টে দিচ্ছে হাসপাতালে সাংবাদিক বেলায়েত বাবলুর পাশে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা ফেসবুকের কাঠগড়ায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা—অভিযোগের আগে প্রমাণ কোথায়? কুমিল্লার প্রতিটি উপজেলায় গঠিত হবে ধর্ষণ প্রতিরোধ মঞ্চের কমিটি এক শক্তিশালী সিন্ডিকেটের লুটপাটের ময়দানে পরিণত হয়েছে বিআরটিসি কোটি কোটি টাকা লোপাট চলছে দুদকে অভিয... বরিশালে ডাঃ তহুরার হাতে বলি হলো উদীয়মান উদ্যোক্তা নাজিয়া মাইশা পে ফিক্সেশনের পর তিন মাসের বকেয়া সমন্বয় রোহিঙ্গা ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ চাপের আহ্বান বাংলাদেশের ঢাকার সাবেক পুলিশ সুপারসহ ৬ কর্মকর্তা বরখাস্ত জীবনযাত্রায় চাপ,দেশজুড়ে বাজার-গণপরিবহণে অস্থিরতা

শিক্ষকদের দখলে হিজলতলা-মৌলভীরহাট স্কুল বিক্রি করছে নোট ও গাইড ! চলছে প্রাইভেট বানিজ্য


স্টাফ রিপোর্টার:শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে কোচিং বানিজ্য বন্ধে নীতিমালা ২০১২ জারি করলেও বাস্তবায়ন হচ্ছে না।এখনো বাস্তবায়ন হয়নি গেজেট ২০১৯/২০। প্রকাশ্যে প্রতিষ্ঠানের শ্রেণী কক্ষেই অতিরিক্ত ক্লাসের নামে কৌশলে এ বাণিজ্য করা হচ্ছে। গোপন সুত্রে জানাগেছে বরিশালের পূর্বাঞ্চলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতি বিষয় ৩ শত টাকার বদলে নেয়া হচ্ছে ৫ শত টাকা। অতিরিক্ত ক্লাসের নামে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলছে এই কোচিং/প্রাইভেট বাণিজ্য। এ কারণে ছেলে মেয়েদের পড়ালেখার খরচ চালাতে গিয়ে অভিভাবকগণ হিমশিম খাচ্ছেন। এতে উপেক্ষিত হচ্ছে সরকারের নীতিমালা। জানাগেছে হিজলতলা মৌলভীরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শ্রেনী কক্ষে বসেই হর হামেশা প্রাইভেট পড়ানো হচ্ছে। এছাড়াও পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে কোচিং/প্রাইভেট পরাচ্ছেন শিক্ষকরা। শিক্ষা মন্ত্রীর বার বার কড়া হুশিয়ারী আর কোচিং বানিজ্য বন্ধের কঠোর নির্দেশ ও সরকারী সিদ্ধান্তকে অবজ্ঞা করে বিভিন্ন স্কুল ও কোচিং সেন্টার গুলো তাদের এই প্রাইভেট ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে হরদমে। বর্তমানে এর সাথে যুক্ত হয়েছে পূর্বাঞ্চলের নামিদামী কলেজ ও স্কুলগুলো। অনেক বিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলকভাবে কোচিং ক্লাসের নামে ব্যবসার ফাঁদ পেতেছেন শিক্ষক’রা এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর যে সকল শিক্ষার্থী এই কোচিং/প্রাইভেটে ভর্তি হচ্ছে না তাদের উপর বিভিন্ন কায়দায় নেমে আসছে শাস্তি আর অপমানের খগড়। ইচ্ছাকৃত ভাবে পরীক্ষায় কম নম্বর প্রদান, অহেতুক বকাঝকা, এমনকি শারীরিক শাস্তি পর্যন্ত প্রদান করা হচ্ছে শুধুমাত্র এই সব অবৈধ কোচিং না করার কারনে এমন অভিযোগ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিবাবকদের। শিক্ষামন্ত্রী ড. দিপু মনি শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেছেন, কোচিং/প্রাইভেট বাণিজ্য অনৈতিক বাণিজ্য। এ কাজ থেকে শিক্ষকদের দূরে থাকতে হবে। পাশাপাশি নোট ও গাইড কোনো অবস্থাতেই শিক্ষার্থীদের চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। এ ধরনের অন্যায়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেছেন, আমরা অনেক অভিভাবক ও সন্তানদের জিপিএ-৫ পাওয়ার জন্য চাপ দিয়ে থাকি। এটা কখনো কাম্য হতে পারে না। শিক্ষার্থীদের চাপ না দিয়ে তাদের নিজের মতো বা স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ দিতে হবে। যে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতো স্বাধীনভাবে পড়াশোনার সুযোগ পায়, তারাই এগিয়ে যায়। তাদের চাপ প্রয়োগ করা চলবে না। কিন্তু হিজলতলা মৌলভীরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের লাইব্রেরীতে বসেই হর-হামেশা বিক্রি করছেন নোট ও গাইড। যা বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেনীর দুজন ছাত্র নাম না প্রকাশ করা শর্তে প্রতিবেদকদের বলেছেন। শিক্ষার্থী’রা আরও বলেন, আমাদের আমিনুল স্যার এই নোট ও গাইড বিক্রি করেন। এমনকি তার কাছে প্রাইভেট না পড়লে পরিক্ষায় ফেল করিয়ে দেবেন এমনটা বলেছেন কোমলমতি শিক্ষার্থী’রা। জানাগেছে বিদ্যালয়ের শ্রেনীকক্ষে বসে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সামসুল হক স্যার, পান্না স্যার, সঞ্জীব কুমার মন্ডল স্যার, আমিনুল ইসলামসহ প্রায় স্যার’রা প্রাইভেট পড়ান। কিন্তু জানাগেছে আমিনুল ইসলাম বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী। এলাকার অনেকেই বলেন অফিস সহকারী হয়ে আমিনুল কিভাবে প্রাইভেট পড়ান এবং গাইড বিক্রি করেন। এদিকে মৌলভীরহাট বাজারে বসেই হর-হামেশা নোট-গাইড ও প্রাইভেট পড়াচ্ছেন বাচ্চু স্যার। এখনই সময় এ ধরনের অন্যায় এবং অবৈধ কোচিং/প্রাইভেট সিন্ডিকেট বন্ধের। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সুশিল সমাজ। এদিকে বিভিন্ন এলাকার অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেন, অধিকাংশ সময় শিক্ষকগণ তাদের রুটিন ক্লাশের সময় গল্প গুজবে মশগুল থাকেন। এতে করে মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। দেখা যাচ্ছে নির্ভর হয়ে পড়ছে কোচিংয়ের উপর এবং আগ্রহ হারাচ্ছে ক্লাসের উপস্থিত থাকায়। অভিভাবকরা জানায়, ভালোমন্দের বিচার না করে ঢালাও ভাবে ক্লাসের সব শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট/কোচিং করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে হিজলতলা মৌলভীরহাট বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী আমিনুল ইসলামকে ফোন করলে তিনি বলেন, আমি কোনো নোট ও গাইড বিক্রি করিনা। শুধুমাত্র শিক্ষার্থী অভিবাবকরা আমার কাছে নোট/গাইড আনতে দেন বিধায় আমি এনে দেই। প্রাইভেট পড়ান কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে পড়াইতাম কিন্তু এখন আমি পড়াচ্ছি না তবে অন্য স্যার’রা পড়ান। এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে ফোন করলে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

Top