সাহেবেরহাটে পানের বাজার সরগরম দিশেহারা সাধারন ক্রেতা - Alokitobarta
আজ : বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাহেবেরহাটে পানের বাজার সরগরম দিশেহারা সাধারন ক্রেতা


রেদওয়ান শাওন: কেউ নিয়মিত পান খেয়ে থাকেন আবার কেউ শখের বশে পান খান। পান ছাড়া আত্বীয়তা পরিপূর্ণতা পায় না যে কোনো অনুষ্ঠানে। অঞ্চলভেদে রকমফেরও কম নেই পানের । যেমন বরিশালের পান দেশজুড়েই সমাদৃত ঝাল আর মিষ্টির মিশ্রণের কারণে। কিন্তু এবছর মাঘ মাসের শুরু থেকেই সারা দেশে পানের বাজার গরম। যোগান কমের অজুহাতে যা এখন ধারণ করছে অগ্নিরূপ। দুই মাস আগে যে পান বিড়াপ্রতি ৬০ টাকা বিক্রি হতো তা এখন ৯০ টাকা ও ৮০/৯০ টাকার পান ১২০- ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারগুলোতে যে পান বীড়াপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় তা খুচরা বাজারে একশ টাকা বা তার বেশিতে বিক্রি হচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। বিরূপ প্রভাবে পানে আসক্তরা পড়েছেন বিপাকে এবং তাদের মনে পানের দাম বৃদ্বিতে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে । অনেকে ইতোমধ্যে কমিয়ে দিয়েছেন পান খাওয়া। অনেকে খুচরা ব্যবসায়ী ও ক্রেতার সঙ্গে ঝামেলা এড়াতে ছেড়ে দিয়েছেন পান বিক্রি। নিয়মিত পান খান এমন এক কর্মজীবী মন্টু গাজি প্রতিবেদকের প্রশ্নে বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে খুচরা বাজারে খিল্লী পানের দর অনেকটাই বেশি। এক পিস খিল্লী পান ৩-৪ টাকার স্থলে ৫-৭ টাকায় কিনতে হচ্ছে। দোকানে পান খাইতে গেলে দোকানি ১টা পানের অর্ধেক বিক্রি করে ৫ টাকা। সাহেবেরহাট চায়ের ব্যবসায়ী জামাল জানান, পানের দাম বাড়লেও কাস্টমার বাড়তি টাকা দিতে চায় না। চার টাকায় কেনা এক পিস পান-সুপারি, জর্দা-চুন দিয়ে ৫ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব নয়। তাই গত ১৫ দিন ধরে পান খুব কম বিক্রি করছি। এদিকে আর এক ব্যাবসায়ী মোঃ খোকন জানান যোগান কমে যাওয়ায় মাঘ মাস থেকেই পানের দাম বাড়তে থাকে তাই বর্তমানে পানের দাম অনেকটাই বেশি। পাইকারি বাজারে বর্তমানে আকার ও মান অনুযায়ী ৭২ পিস বা এক বিড়া পান বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত। বৈশাখ মাসে পানের দাম কমে যাবে। মৌলোভিরহাট পানচাষি মনির হোসেন জানান, নিয়মানুযায়ী নতুন করে পাতা উৎপাদন না হওয়ায় মাঘ মাস থেকে পানের যোগান কমে গেছে। গতবার বর্ষায় পানের বরজ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল তাই পানের বাজারের এমন অবস্থা। এই মাস অঅতিবাহিত হলেই পানের বাজার অবস্থা স্বাভাবিক হবে। সাহেবেরহাট পাইকারি পানের বিক্রেতা নিমাই চন্দ্র শীল বলেন, ভরা মৌসুমে একটি ভ্যানে যদি ৫শ টাকা খরচ করে ১ হাজার বিড়া পান আনা হতো তার বিড়া প্রতি খরচ পড়তো আধা পয়সা। আর সেই ভ্যানে যদি এখন ১শ বিড়া পান আনতে হয় তবে বিড়া প্রতি খরচ হয় ৫ টাকা। যারা শুধু পানের ব্যবসা করছেন তাদের সেই বাড়তি দামে পান কেনা ছাড়া কোনো উপায় নেই। তাই পাইকারি হাটের সঙ্গে খুচরা বাজারে পানের তারতম্য একটু থাকবেই। এব্যাপারে সাহেবের হাট পান বাজারের আড়ৎদার বলেন এখন পানের দাম একটু বৃদ্বি, তবে আশা করি অল্প কিছুদিনের ভিতরেই পানের দাম কমতে পাড়ে।

Top