মির্জাগঞ্জে খাল খননে অনিয়ম/খালের মাটি খালেই - Alokitobarta
আজ : মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মির্জাগঞ্জে খাল খননে অনিয়ম/খালের মাটি খালেই


মির্জাগঞ্জ(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি:পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের শৌজালিয়া গ্রামে খাল খননে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত নকশা অনুযায়ী খালটি পুনঃখনন না হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছে ওই খালের দুই পাড়ের কয়েকশ’ কৃষক ও সাধারণ মানুষ। এলাকাবাসীর অভিযোগ খালের মাটি খালে রেখেই খাল খননের কাজ করা হচ্ছে। ফলে খনন শেষ হওয়ার আগেই দুই পাড় ভেঙ্গে খাল ভরাট হয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাঁটল। বর্ষা মৌসুম এলেই বৃষ্টির পানিতে দুই পাড়ের মাটি ধুয়ে আবার খাল ভরাট হয়ে যাবে। জানা গেছে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ৬৪ জেলা খাল পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় মির্জাগঞ্জের মাধবখালী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার একর জমির সেচ ও পানি নিস্কাষনের উদ্দেশ্য এই খাল খনন করা হচ্ছে। দরপত্র অনুযায়ী আমীন এন্ড কোম্পানী, খুলনার লাইসেন্সর অনুক‚লে পটুয়াখালীর মো. রাসেল মৃধা ৭২ লক্ষ টাকায় কাজটি পান এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক ১৪ মার্চ ২০১৯ তারিখ কার্যাদেশ পায়। কার্যাদেশ অনুযায়ী ৫ মে ২০২০ তারিখ খননের কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। খালটির দৈর্ঘ্য ৩ কিলোমিটার আর এটির শাখা আরো ১কি,মিসহ মোট ৪কিলোমিটিার পুন: খনন করা হচ্ছে। উপরিভাগে স্থান ভেদে ৪২, ৪০ ও ৩৮ ফুট আর তলদেশ ১১ ফুট প্রশস্ত এবং খালের গভীরতা ১০ ফুট করে খনন করার কথা থাকলেও খালের দু’পাশ থেকে সমানভাবে মাটি কেটে সেই মাটি খালের দুই পাশে ফেলে তা ড্রেসিং করে দেয়ায় খালের মাটি খালেই যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভূক্তভোগীরা। এছাড়াও খালের মাটি কেটে পাড়ের দুই পাশে ১৫ ফুট দূরে রাখার কথা থাকলে তা মানছেন না ঠিকাদার। সরেজমিন দেখা যায়, শৌলজলিয়া গ্রামের ¯øুইস গেইট এলাকা থেকে ১৫/২০ দিন আগে একটি বড় ভেকু মেশিন দিয়ে খাল খননের কাজ শুরু করে ঠিকাদারের লোকজন। মাধবখালী ইউনিয়নের শৌলজলিয়া গ্রামের ¯øুইস গেট থেকে মেছের আলী খানের মসজিদ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার খনন করা হয়েছে যার অধিকাংশই পারই ভেঙ্গে আবার খালেই পরে গেছে। ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে কোনো প্রকার ড্রেসিং ছাড়াই উঠিয়ে খালের পাড়েই রেখে দেয়া হচ্ছে।

আর সেই মাটি আবার খালেই গড়িয়ে পরছে। কিছু মাটি ছড়ানো ছিটানোভাবে দুই পাশে ফেলে রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও আবার খালের পারে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাঁটল। শৌলজলিয়া গ্রামের শাকাওয়াত হোসেন মাষ্টার বলেন, খাল খনন করা হচ্ছে কৃষকদের উপকারের জন্য। সঠিকভাবে খনন না করায় উপকারের চেয়ে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বেশি। তাছাড়া শৌলজলিয়া মৌজার খালের ম্যাপ দেখে খাল খনন করা হচ্ছে না। পূর্বের ভাঙ্গন কবলিত এলাকার অনেকের রেকর্ডীয় জমি পরিণত হচ্ছে খালে। দীর্ঘদিনের পূরাতন খাল এটি সঠিকভাবে খনন না করায় পার ভেঙ্গে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ভারি ভেকু দিয়ে খাল খনন করার ফলে এই মেশিন চলাচলের জন্য দুই পাশের অধিকাংশ কৃষকের গাছপালা ও ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে এবং খাল পুনঃখনন এলাকার স্থানীয়রা বাসিন্দা ঐ এলাকার কৃষক মো. আবু হানিফ, মো. হারুন হাওলাদার, মো. মোতাহার হাওলাদার বলেন, খালটি পুন: খননে উপকারের চেয়ে ফলে কৃষকদের অপকারই বেশি হচ্ছে। দুই পারের ভাঙ্গনে খাল পারের লোকজন আতংকে আছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ করলে তারা নয়-ছয় বুঝিয়ে দিচ্ছেন। তাছাড়া কার্যাদেশ অনুযায়ি ওই এলাকায় নোটিশ টানিয়ে দেয়ার নিয়ম থাকলেও এখন পর্যন্ত নোটিশ আলোর মুখ দেখেনি। খাল খনন কাজের ঠিকাদার মো. রাসেল মৃধা বলেন, আমাদের কাজে কোনো ধরনের পুকুরচুরি নেই । আমরা কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি এবং নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে আলোচনা করেই যা করার করেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) পটুয়াখালী জেলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাসানুজ্জামান বলেন, খাল খননে অনিয়মের মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। অকাল বৃষ্টিতে খালের দুই পাড়ের কিছু অংশ ভেঙ্গেছে। তা ঠিকাদারের লোকজন পুনরায় খনন করে দিবেন বলে কথা হয়েছে। শিডিউল অনুযায়ী যদি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ না করেন অথবা যদি কাজে অনিয়ম পাওয়া যায় তবে বিল পেমেন্ট হবে না। পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। মৌজার সঠিক ম্যাপ অনুযায়ী খাল খননের ব্যাপারে তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে খননের কাজ বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।

Top