পরিবেশ দুষনের অপর নাম ইটভাটা প্রকাশ্যই পুরছে কাঠ ! মানছেনা সরকারী নীতিমালা
রেদওয়ান শাওন:বরিশাল জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলায় গড়ে উঠেছে অবৈধ ইটভাটা। যার মধ্যে অন্যতম বাকেরগঞ্জ, হিজলা,মুলাদী, বরিশাল সদর ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা। বরিশালে সরকারের নীতিমালার সাথে পাল্লা দিয়ে উল্টো পথে পিপিলিকার মতো গড়ে উঠেছে লাইসেন্স বিহীন ইটভাটা। যেই ইটভাটায় পোড়ানো হচ্ছে সাড়ি সাড়ি কাঠ। অথচ কাঠ পোড়ানো বন্ধের ভূমীকায় ঝিকঝাক চুলার আইন করা হয়েছে। কিন্তু অনেকে ঝিকঝাক করেছে শুধু সরকারের দায়িত্বশীলদে’র চোঁখ ফাকি দিতে। এসব উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বসত বাড়ি, কৃষি জমি এবং সরকারি বেরিবাধ দখল করে হায়-হায় কোম্পানির ব্যক্তিবর্গ’দের পরিচালনায় চলছে চিমনি চুঙ্গা দিয়ে প্রায় আনুমানিক ১৫০-২০০ টি ইটভাটা। যার বিষাক্ত ধোঁয়ায় অত্র এলাকার মানুষের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, ধংশ হচ্ছে কৃষি জমি, নদির পানিসহ বিভিন্ন প্রকারের গাছপালা। এমনকি এই অবৈধ ইটভাটা চালানোর ফলে মানুষের নিঃশ্বাসে কষ্ট হচ্ছে তো বটেই বাদ পড়ছেনা মায়ের কোলে থাকা অবুজ শিশুরা। এতে দেখা মেলে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে সাধারন মানুষ। সরকারের নীতিমালায় রয়েছে, বসত বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দুরত্বে ইটভাটা স্হাপন করতে হবে। কিন্তু রাজমশাই’রা (অবৈধ ইটভাটার মালিক) সরকারের নিয়ম নীতি’কে তোয়াক্কা না করে বসত বাড়ি, নদীর পাড় এবং ফসলি জমি দখল করে অহ-রহ চালাচ্ছেন ইটভাটা। সরকারি নিয়মে ইটভাটা তৈরির পূর্বে লাইসেন্স-সহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে নিয়ে ইটভাটা চালু করা। এমনকি জেলা প্রশাসক (ডিসি) মহাদ্বয়ের নিকট থেকে অনুমতি পত্র নিয়ে ইটভাটা স্হাপন করা। কিন্তু জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কোন কাগজপত্র ছাড়াই অবৈধভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন ইটভাটা। ইটভাটার আশে পাশের সাধারন মানুষদের অভিযোগ, পরিবেশ অধিদপ্তরের এক শ্রেনীর অসাধু কর্মকর্তাদের দিকে।
যারা বিটমানি পেয়ে সাধারনত একটা ছাড়পত্র দিয়ে থাকেন। সুত্রে জানা যায় ফিট চুঙ্গা যারা করে থাকেন তাদের লাইসেন্স প্রয়োজন মনে করছেন না কিংবা ইটভাটাগুলো উচ্ছেদও করা হচ্ছেনা। গোপন সুত্রে জানা গেছে এসব ইটভাটার মালিকদের কাছে পূর্নাঙ্গ কোন কাগজপত্র নেই। গত বছরের ন্যায় এ বছর পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো মোবাইল কোর্ট না থাকায় বরিশালের বিভিন্ন উপজেলায় বেশ কতোগুলো অবৈধ ইটভাটা বৃদ্বি পেয়েছে। সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী ইটভাটা তৈরির জন্য কমপক্ষে ১ শত ৫০ শতাংশ জমি ইটভাটার নামে থাকতে হবে। এমনকি বসত বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দুরত্বে হতে হবে। যেখানে কাঠ পোড়া যাবেনা এবং কৃষি জমির পাশে হলে হবেনা। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, লাইসেন্স, ইউপি চেয়ারম্যানের অন-আপত্তি, জেলা প্রশাসক মহাদ্বয়ের থেকে ইটভাটার লাইসেন্স থাকতে হবে। কিন্তু কোন কিছুর তোয়াক্কা করছেন না অবৈধ ইটভাটার মালিক’রা। জানা গেছে বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরে’র আঞ্চলীক পরিচালক গত বছরে মাঝে মধ্যে অবৈধ ইটভাটায় মোবাইল কোর্ট করে কিছুটা নিয়ন্ত্রন এনেছিলো। গতো বছর অবৈধ ইটভাটার মালিকদের মুখে চেয়ারে বসে শুধু মামলা দাড় করেছেন। এবছর বাকেরগঞ্জে মোবাইল কোর্ট করায় কিছুটা নিয়ন্ত্রনে আসলেও নিয়ন্ত্রনে আসেনী অন্যান্য উপজেলার ইটভাটা। তাদের মামলা দিলেও সেই মামলায় কোন প্রকার অবৈধ ইটভাটা বন্ধ হয়নি। স্হানীয়’রা বলেন বরিশালের সব উপজেলায়- জেলা ভিত্তিক মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিজান সৃজনের সপ্তাহে ২ দিন করা হলে আর অবৈধভাবে ইটভাটা চালাতে পারবেনা বলে ধারনা করেছেন অনেকে। একটি গোপন সুত্রে জানাগেছে অবৈধভাবে ইটভাটা চালানোর বহাল রাখতে অনেক সময় দেখা যায় নামীদামি সাংবাদিক, পুলিশ, রাজনৈতিক নেতা, এমপি, মন্ত্রীদের দোহাই দিয়ে পাড় পাওয়ার চেষ্টা করে। এসব অবৈধ ইটভাটার বিষাক্ত ধোয়া’র ছোবল থেকে বাচতে সাধারন জনগন পরিবেশ অধিদফতর, জেলা প্রশাসক মহাদ্বয় ও প্রশাসনের সুু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।