টেকসই উন্নয়ন করতে চাই সম্পদের অপচয়রোধ করে - Alokitobarta
আজ : সোমবার, ১৭ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

টেকসই উন্নয়ন করতে চাই সম্পদের অপচয়রোধ করে


আলোকিত বার্তা:সম্পদের অপচয়রোধ করে টেকসই উন্নয়ন করার কথা জানিয়েছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।রোববার (১২ মে) বাংলানিউজের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমনটাই জানালেন।বিসিসির মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বলেন, বরিশালবাসীর কাছ থেকেই শুনেছি, এখানে এই ধরনের রাস্তা আগে কখনও করা হয়নি। আবার এটাও শুনেছি বিগত দিনে বছরে এক রাস্তার পেছনে তিন থেকে চার বার খরচ করা হয়েছে। কিন্তু আমার চিন্তা কিছু টাকা বেশি গেলেও একবারে টেকসই রাস্তা হবে।

আর বার বার না খরচ করলেই হবে, যে টাকা থাকবে, তা আমি বর্ধিত এলাকার রাস্তার পেছনে ব্যয় করবো।তিনি বলেন, বর্তমানে শহরে উন্নতমানের রাস্তা করা হচ্ছে, শহরবাসী এ কারণে উপকৃত হবে। সড়ক ও জনপদ বিভাগের বড় মাপের ঠিকাদার দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। তারা ৫ বছরের গ্যারান্টি দিয়ে রাস্তা করছেন। এ সময়ের মধ্যে যদি সড়কে কোনো ধরনের সংস্কার বা অন্য কিছু করার প্রয়োজন হয় তবে তারাই সেটা করবেন।বিসিসির মেয়র বলেন, লোকাল ফান্ড থেকেই টেন্ডার দিয়ে আমরা বর্তমানে রাস্তার কাজ করাচ্ছি। তবে যেহেতু বড়মাপের ঠিকাদার দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে, তাই তাদের আস্তে আস্তে টাকা পরিশোধ করতে পারবো।তিনি জানান,এরই মধ্যে আমতলার মোড় থেকে নাজিরমহল্লা হয়ে পলাশপুর পর্যন্ত সড়কের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে সদর রোডের কাজ চলছে। এরপর লঞ্চঘাট থেকে সদররোডসহ মধ্য শহরের প্রধান সড়কের কাজ ঈদের আগে সম্পন্ন হবে বলে আশা করি।

এখন স্যাম্পল হিসেবে করা হলেও নগরের প্রতিটি রাস্তা এভাবে করা হবে। মেয়রের পাশাপাশি নগরবাসীও মনে করছে এবারের সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী ফল পাওয়া যাবে।’নগরের দক্ষিণ আলেকান্দার বাসিন্দা সাইফুল্লাহ বলেন, মহাসড়কের আদলে সিটির মধ্যে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। ফলে বোঝাই যাচ্ছে দীর্ঘমেয়াদী ফল পাওয়ার বিষয়টি। আর সড়কই বলে দিচ্ছে এর লোড ক্যাপাসিটি বেশি হবে।সংস্কার কাজ প্রসঙ্গে সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির বলেন, সংস্কার কাজে মানসম্পন্ন পাথর, বিটুমিনসহ অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহার করা হয়। কাজের সময় সড়কের তাপমাত্রাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া সংস্কার কাজে বেভার মেশিন, তিন ধরনের রোলারসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। সংস্কার কাজে ব্যবহৃত সামগ্রীর মান যাচাইয়ের কাজ করেন বিসিসির প্রকৌশলীরা। আর গুণগত মানসম্পন্ন কাজ নিশ্চিত করার জন্য সম্পূর্ণ কাজটি সরাসরি তদারকি করেন মেয়র মহোদয় নিজেই। সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মু আনিচুজ্জামান বলেন, উন্নতমানের ও আধুনিক প্রযুক্তির এবং যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে শহরের অনেকগুলো রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব রাস্তা ৫ বছর দীর্ঘস্থায়ী হবে। এ কাজ করার জন্য আমরা সড়ক ও জনপদ বিভাগের স্পেসিফেকশন ব্যবহার করেছি।সেই অনুযায়ী প্রতি কিউবিক মিটারে এখন খরচ পড়ছে ২৪ হাজার টাকা, আর আগে খরচ হতো ১৮ হাজার টাকা। তবে বর্তমানে যেভাবে রাস্তা তৈরি হচ্ছে তাতে ৫ বছরেও রাস্তাগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, সেখানে গিয়ে আমাদের অনেক সাশ্রয় হবে। ’

তিনি বলেন, ডেঞ্চ কার্পেটিং এর মাধ্যমে ৪ কিলোমিটারের বেশি সড়কে এরইমধ্যে কাজ করা হয়েছে। আরও আড়াই কিলোমিটার হচ্ছে। আরও ১৫-২০ কিলোমিটার সড়কের কাজ করা হবে।বরিশালে প্রথমবারের মতো আধুনিক পেভার মেশিন দিয়ে রাস্তার নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে বলে জানান এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, এ ধরনের রাস্তা ও রাস্তার নির্মাণ কাজ নগরবাসী আগে কখনও দেখেননি।

Top
%d bloggers like this: