হেবা দলিলে কর নেই ,এনবিআরের স্পষ্টীকরণ - Alokitobarta
আজ : বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
বিটিএমএ’র কমিটি গঠন : সভাপতি হুমায়ুন, সম্পাদক শাহিন হাসিনাকে নিয়ে বেকায়দায় ভারত সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়ায় হঠাৎ প্রধানমন্ত্রী হেবা দলিলে কর নেই ,এনবিআরের স্পষ্টীকরণ ৩৩ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে দুদকের নেতৃত্ব দুই দশক ধরে একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির কাছে কুক্ষিগত ছয় বিভাগে সতর্কবার্তা, ১২ জেলায় বন্যার আভাস,বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত পার্বত্য অঞ্চল জ্ঞাত আয়বহির্ভূত শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মোঃ বেলাল হোসেন বিরুদ... সাংবাদিক নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ ককটেল বিস্ফোরণের দায় প্রশাসন ও স্থানীয় এমপি এড়াতে পারবেন না

হেবা দলিলে কর নেই ,এনবিআরের স্পষ্টীকরণ


মোহাম্মাদ মুরাদ হোসেন:হেবা দলিলের মাধ্যমে নিকটাত্মীয়দের (ছেলে-মেয়ে, বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী, আপন ভাই অথবা আপন বোন) জমি বা স্থাবর সম্পত্তি দান করলে ‘দান কর’ দিতে হবে না।এ সম্পর্কের বাইরে অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সম্পত্তি দান করলে ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে নির্ধারিত হারে কর দিতে হবে।এর বাইরে অন্য কোনো কর দিতে হবে না। মঙ্গলবার এ-সংক্রান্ত একটি স্পষ্টীকরণ জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন,সম্প্রতি জমি রেজিস্ট্রির উৎসে কর এড়াতে দান দলিলের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটছে।এই প্রেক্ষাপটে রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে দান দলিলে কর আরোপ করা হয়েছে। এ ধরনের দলিলে উৎসে কর প্রযোজ্য নয়।শুধু দান কর আইন অনুযায়ী কর দিতে হবে। তিনি আরও বলেন,সাবরেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে অনেক সময় পে-অর্ডার ফেলে রাখে।এ কারণে সম্পত্তি হস্তান্তর থেকে রিয়েল টাইমে সরকার রাজস্ব পায় না।যথাসময়ে রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা নিশ্চিত করতে এবার বাজেটে ‘এ’ চালানের মাধ্যমে কর গ্রহণের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।

এনবিআর বলছে,সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে উৎসে কর আদায়ের বিধান রয়েছে।এই সম্পত্তি হেবা বা দান দলিলের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হলে ‘দান কর আইন’ অনুযায়ী নির্দিষ্ট হারে আদায় করতে হবে। নিবন্ধনকারী কর্মকর্তা (সাবরেজিস্ট্রার) দান বা হেবাদাতার কাছ থেকে ‘এ’ চালানের মাধ্যমে এই কর সংগ্রহ করবেন। এক্ষেত্রে উৎসে কর সংগ্রহ করতে হবে না।

দান কর আইনে- ছেলে-মেয়ে, বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী, আপন ভাই অথবা আপন বোনের মধ্যে হেবা দলিলের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরসহ যে কোনো ধরনের দানকে অব্যাহতি দেওয়া আছে। নিকটাত্মীয় ব্যতীত এক অর্থবছরে ২০ হাজার টাকা মূল্য পর্যন্ত দান অব্যাহতিপ্রাপ্ত। এর বেশি অর্থ দান করলে নির্ধারিত হারে কর পরিশোধ করতে হবে। যেমন অব্যাহতি সীমার অতিরিক্ত মূল্যের ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ৫ শতাংশ হারে, পরবর্তী ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ১০ শতাংশ হারে, পরবর্তী ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ১৫ শতাংশ হারে এবং অবশিষ্ট মূল্যের ওপর ২০ শতাংশ হারে দান দিতে হবে।

জমি বা সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কীভাবে মূল্য নির্ধারণ করা হবে, তাও দান কর আইনে বলা আছে। আইনের ৫ ধারায় বলা আছে, নগদ অর্থ ছাড়া দান হিসাবে হস্তান্তরিত অন্য সম্পত্তির মূল্য ওই তারিখে খোলাবাজারে যেই মূল্যে বিক্রি হয়েছে, সেই মূল্যের সমান হিসাবে গণ্য করা হবে।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, একজন ব্যক্তি তার চাচাত ভাইকে ৫ লাখ টাকা মূল্যের সম্পত্তি দান করেছে। এই সম্পত্তি মূল্যের মধ্যে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার ওপর ৫ শতাংশ হারে দান কর দিতে হবে। কেননা এক অর্থবছরে ২০ হাজার টাকা মূল্য পর্যন্ত দান অব্যাহতিপ্রাপ্ত। অর্থাৎ দানকারী ব্যক্তিকে ২৪ হাজার টাকা দান দিতে হবে। যদি ওই ব্যক্তি নিকটাত্মীয়কে সম্পত্তি দান করে থাকে, তাহলে দান কর প্রযোজ্য হবে না।

প্রসঙ্গত, মুসলিম পারিবারিক আইনে সম্পত্তি বিনামূল্যে বা বিনাপণে হস্তান্তরকে ‘হেবা’ বলা হয়। অন্যদিকে সাধারণ আইনে (সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২) বিনাপণে যে কোনো সম্পত্তি হন্তান্তর হলো ‘দান’। এ আইনের অধীনে যে কোনো ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্কের বাইরে অন্য যে কোনো ব্যক্তিকে নগদ অর্থ বা সম্পত্তি দান করতে পারে। মূলত দুটিই বিনামূল্যে সম্পত্তি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া। তবে এদের আইনি ভিত্তি এবং প্রয়োগের ক্ষেত্রে কিছু পার্থক্য রয়েছে।

Top