ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আশ্বাস
মোহাম্মাদ আবুবকর সিদ্দীক ভুঁইয়া:ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আশ্বাস দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষ অপরাধ করলে তাদের যেমন শাস্তি হবে, প্রেসিডেন্টও সেই অপরাধ করলে সমান শাস্তি হবে।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কুড়িগ্রাম জেলা দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জনপদ। এই কুড়িগ্রাম থেকে শুরু হবে আমাদের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা। কুড়িগ্রামকে কৃষি শিল্পের রাজধানীতে পরিণত করব আমরা। এ জেলার প্রধান দুঃখ তিনটি বড় নদী। এই নদীগুলো হত্যা করে মরুভূমি করা হয়েছে। রাষ্ট্রের বাজেট সব চুরি করা হয়েছে। ২৮ লাখ কোটি টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। আমাদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ করে দিলে এসব টাকা পেটে হাত ঢুকিয়ে বের করে আনব। দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াত আমির।জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এই বাংলাদেশে আর কোনো জমিদার মেনে নেব না। আর কোনো জমিদার থাকবে না।এই বাংলাদেশ হবে জনগণের। আমরা কথা দিচ্ছি, এ দেশে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে এ দেশে আর নারীরা ধর্ষণের শিকার হবে না।রাস্তাঘাট, কর্মস্থল সব জায়গায় আপনাদের শতভাগ নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করব। বুধবার কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও টাঙ্গাইল জেলায় জামায়াতের নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিস্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, তিস্তা হবে উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু।
তিনি বলেন, একটি গোষ্ঠী আমার পেছনে লেগেছে। আমার এক্স আইডি হ্যাক করে যা-তা চালিয়ে দিয়েছে। আর অমনি একটা দল ঝাঁপিয়ে পড়ে তাইরে-নাইরে গান শুরু করেছে। তবে তারা পেরে উঠতে পারেনি। ইতোমধ্যে মেইন কালপ্রিটকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। শফিকুর রহমান মঞ্চে কুড়িগ্রাম-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী এবং কুড়িগ্রাম-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন। এছাড়া কুড়িগ্রাম-২ আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত এনসিপির প্রার্থী ড. আতিকুর রহমানকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে শাপলা কলি মার্কায় ভোট চান। কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. আজিজুর রহমান স্বপনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নিজাম উদ্দিন, সহ-সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হামিদ, শাহজালাল হক সবুজ, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক মো. মুকুল মিয়া, খেলাফত মজলিস রংপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক সবেবর মিয়া প্রমুখ।
টাঙ্গাইল : জামায়াত আমির ও ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যজোটের প্রধান ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই যুদ্ধে যুবকরা একটা দাবি করতেন। উই ওয়ান্ট জাস্টিস। আমরা এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে ইনসাফ থাকবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকবে, নিরাপত্তা থাকবে। আমরা আগামীতে মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। বুধবার বিকালে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যজোটের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা বসন্তের কোকিল নই, অনেক জুলুম-নির্যাতন সহ্য করার পরও দেশ ছাড়িনি, এই মাটি ছেড়ে যাইনি। তিনি জুলাই যোদ্ধাদের সম্মানে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি টাঙ্গাইলের ৮টি আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের জন্য ভোট প্রার্থনা করেন। সমাবেশে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির আহসান হাবীব মাসুদ সভাপতিত্ব করেন।
নীলফামারী ও লালমনিরহাট : ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তিস্তায় আর মরুভূমি থাকবে না। তিস্তা হবে উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু। এখানকার পানি সারা উত্তরবঙ্গকে উর্বর করে তুলবে। নদী ভাঙনের কবলে পড়ে প্রতিবছর হাজার হাজার পরিবারকে আর নিঃস্ব হতে হবে না। আমরা কথা দিচ্ছি, যে কোনো মূল্যের বিনিময়ে তিস্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব ইনশাআল্লাহ। বুধবার দুপুরে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের যৌথ আয়োজনে তিস্তা ব্যারেজের হেলিপ্যাড মাঠে এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় ভাষণে তিনি একথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, আমরা এই দেশে আর মাইনোরিটি-মেজরিটি শুনতে চাই না। সব মানুষকে নিয়ে আমরা বাংলাদেশের বাগান সাজাব। ন্যায়বিচার কায়েম করা হবে। ন্যায়বিচার কায়েম করতে গিয়ে বিচার বিভাগ দেখবে না কে সাধারণ মানুষ আর কে দেশের প্রেসিডেন্ট। সাধারণ মানুষ অপরাধ করলে তাদের যেমন শাস্তি হবে, প্রেসিডেন্টও সেই অপরাধ করলে সমান শাস্তি হবে। কারও মুখের দিকে তাকিয়ে আর বিচার হবে না।এ সময় তিনি নীলফামারী-১ আসনে জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার, নীলফামারী-২ আসনে অ্যাডভোকেট আলফারুক আব্দুল লতীফ, নীলফামারী-৩ আসনের প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফি, নীলফামারী-৪ আসনের প্রার্থী হাফেজ মোহাম্মদ আব্দুল মুনতাকিম, লালমনিরহাট-১ আসনের মো. আনোয়ারুল ইসলাম রাজু, লালমনিরহাট-২ আসনের অ্যাডভোকেট ফিরোজ হায়দার লাভলু ও লালমনিরহাট-৩ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবু তাহেরের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।জামায়াত আমির বলেন, তিস্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব কারণ আমার দেশ আগে। এ দেশের জনগণের স্বার্থ আগে। অনেক যৌক্তিক দাবি রয়েছে। এর মধ্যে বুড়িমারী স্থলবন্দর আধুনিকায়ন করতে হবে। আমরা সবাইকে নিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। জামায়াতে ইসলামীর লালমনিরহাট জেলা শাখার আমির অ্যাডভোকেট আবু তাহের জনসভায় সভাপতিত্ব ও নীলফামারী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম সঞ্চালনা করেন।আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আবদুল হালিম, নীলফামারী জেলা জামায়াত আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তারসহ নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার ১১ দলীয় জোটের নেতারা।