চৌদ্দগ্রামে জামায়াতের জনসভা থেকে ফেরার পথে হামলা, আহত ১০ - Alokitobarta
আজ : বৃহস্পতিবার, ৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চৌদ্দগ্রামে জামায়াতের জনসভা থেকে ফেরার পথে হামলা, আহত ১০


মোহাম্মাদ আবুবকর সিদ্দীক ভুঁইয়া:কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জামায়াতের আমিরের জনসভা থেকে ফেরার পথে বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ১০ জন।এছাড়া নোয়াখালীর হাতিয়ায় আহত হয়েছেন তিনজন।নির্বাচনি প্রচারকে কেন্দ্র করে ভোলার বোরহানউদ্দিনে বিএনপি-জামায়ত সংঘর্ষে ২৭ এবং যশোরের ঝিকরগাছায় ১০ জন আহত হয়েছেন।নাটোরের বড়াইগ্রামে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে কাজ করায় জামায়াত কর্মীর বাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
কুমিল্লা ও চৌদ্দগ্রাম : চৌদ্দগ্রামে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শনিবার বিকালে উপজেলার জগন্নাথ ইউনিয়নের হাটবাইর গ্রামে এ সংঘর্ষ ঘটে। আহতদের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন-উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সোলায়মান চৌধুরী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মিজান খান, উপজেলা বিএনপির সদস্য মীর আহমেদ মীরুসহ চারজন, ছাত্রশিবির উপজেলা দক্ষিণের সভাপতি রিফাত সানি, বিজয় করা গ্রামের রবিউল হোসেন রকি, নোয়াগ্রামের জাকারিয়া রাসেল, পায়েরখোলা গ্রামের মিলনসহ ছয়জন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চৌদ্দগ্রাম এইচজে সরকারি মডেল পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে উপজেলা জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য শেষে নেতাকর্মীরা বাড়ি ফিরছিলেন। পথে জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের হাটবাইর গ্রামে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা জামায়াত কর্মীদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যান।

আহত ছাত্রশিবিরের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা দক্ষিণের সভাপতি রিফাতুল ইসলাম সানি বলেন, আমরা চৌদ্দগ্রাম থেকে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসভা শেষে হাটবাইর গ্রাম হয়ে ফেরার পথে বিএনপির নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের ছয় নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মু. বেলাল হোসাইন বলেন, আমাদের নেতাকর্মীরা সমাবেশ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিএনপির মিজান খান, গাজী ইয়াছিন ও মোবারক চৌধুরীর নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। পাশপাশি তারা গুলিও করেন।

হামলায় আহত উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সোলেমান চৌধুরী বলেন, হাটবাইর গ্রামে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মিজানের বাড়িতে জামায়াতের লোক হামলা চালায়। তাৎক্ষণিক আমি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে মিজানের বাড়ির উদ্দেশে যাওয়ার পথে স্থানীয় চৌধুরী বাজারে জামায়াতের লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় আমার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এতে আহত আমাদের চারজন হাসপাতালে ভর্তি আছে।

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্থা (ওসি) আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন বলেন, বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। খবর পেয়ে দ্রুত থানা পুলিশের একটি টিম ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। কী কারণে ঘটনা ঘটেছে, তা আমরা খতিয়ে দেখছি।

বড়াইগ্রাম (নাটোর) : বড়াইগ্রামে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে প্রচার চালানোয় মিজান সরকার নামে এক জামায়াত কর্মীর বাড়িতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার ভোর ৪টার দিকে উপজেলার চান্দাই ইউনিয়নের দাসগ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি কর্মীদের দায়ী করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত জামায়াত কর্মী মিজান সরকার। তিনি দাসগ্রামের ফজলুল হক সরকারের ছেলে। তবে স্থানীয় বিএনপি নেতারা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি জানান, তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন কর্মী। তিনি নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লার প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে যুবদল নেতা তারিকুল ইসলাম ও জহির তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করাসহ পরবর্তী সময়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। শনিবার ভোর ৪টার দিকে তার শোয়ার ঘরের টিনের বেড়ার ফাঁক দিয়ে জ্বলন্ত কাঠ দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন লাগার বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত বের হয়ে তিনি ২-৩ জন ব্যক্তিকে দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখেন। আগুনে তার বাড়ির বিভিন্ন আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় মালামালসহ ধর্মীয় বই-পুস্তক পুড়ে যায়। এ সময় তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। খবর পেয়ে সকালে জামায়াত নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছালাম বলেন, বিষয়টি শুনে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভোলা ও বোরহানউদ্দিন : ভোলা-২ আসনের টবগী এলাকায় নির্বাচনি প্রচারকে কেন্দ্র করে শনিবার সকালে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ২৭ জন আহত হয়েছেন। টবগী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনা নিয়ে দুপুরে বিএনপি ও জামায়াত নেতারা পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে একে অপরকে অভিযুক্ত করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় লাঠিসোঁটা ও কোদাল ব্যবহার করা হয়। পরে পুলিশ ও নৌবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। টবগী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবদুল হালিম জানান, তিনি ও তার নেতাকর্মীরা ওই এলাকায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে লিফলেট বিতরণ ও নির্বাচনি প্রচার চালাচ্ছিলেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপির লোকজন তাদের একটি বাড়িতে ঢুকতে বাধা দেয়। বিষয়টি নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। ঘটনার প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।

হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে টবগী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাহার উদ্দিন বলেন, জামায়াতের কর্মীরা বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে ঢুকে উসকানিমূলক আচরণ করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। ওই আসনে বিএনপির প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিমের নির্বাচন সমন্বয়কারী আকবর হোসেন জানান, জামায়াত পরিকল্পিকভাবেই এ হামলা করে। বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে যৌথ বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছে।

যশোর : ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নে ভোট চাওয়া নিয়ে বিরোধে জামায়াত ও বিএনপির সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার কেশচন্দ্রপুরে এ ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে বিকালে পৌর শহরে বিক্ষোভ করেছেন জামায়াতের নারী সদস্যরা।

ঝিকরগাছা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতারা জানান, শনিবার দুপুরে জামায়াতের ১০ থেকে ১২ জন নারী কর্মী নির্বাচনি প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’র পক্ষে গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের শ্রীচন্দ্রপুরে ভোট চাইতে যান। এ সময় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী তাদের প্রচারে বাধা দেন এবং গালাগাল করেন। পরে খবর পেয়ে যুব জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কয়েকজন নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা করেন। এতে তাদের ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

ঝিকরগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক বায়তুল মাল সম্পাদক মুস্তাকিম হাসান জানান, শ্রীচন্দ্রপুরে আগে থেকেই বিএনপির কিছু নেতাকর্মী জোট পাকানোর চেষ্টা করছিল। এ সময় সেখানে জামায়াতের নারী কর্মী এবং তারা দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট চাইতে গেলে তাদের ওপর হামলা করা হয়। এতে মুস্তাকিম হাসান, যুব জামায়াত কর্মী জহিরুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন আহত হন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে যশোর-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী সাবিরা নাজমুল মুন্নী দাবি করেছেন, জামায়াত কর্মীরা বুলেটপ্রুপ জ্যাকেটের মতো পোশাক পরে প্রস্তুতি নিয়ে এসে তাদের কর্মীদের ওপর হামলা করেছে।

ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান মোহাম্মদ শাহজালাল আলম জানান, দুপক্ষের মধ্যে সামান্য ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

হাতিয়া (নোয়াখালী) : হাতিয়া উপজেলায় ১১ দলীয় জোটের সংসদ-সদস্য পদপ্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদের নির্বাচনি পথসভায় চোরাগোপ্তা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তমরুদ্দি ইউনিয়নের তালতলা বাজারে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ পথসভায় বক্তৃতা করছিলেন। এ সময় সমাবেশ লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে একদল দুর্বৃত্ত। হামলাকারীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ আক্রমণ চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এনসিপি হাতিয়া উপজেলা শাখার দাবি, এ হামলার সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীরা জড়িত। এর আগের দিন একই এলাকায় এনসিপির নির্বাচনি অফিস ভাঙচুর করা হয়।

Top