নির্বাচন ও রমজানে বিদ্যুৎ সরবরাহ কেমন থাকবে?
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক,আলোকিত বার্তা:আসন্ন রমজান,জাতীয় নির্বাচন,সেচ মৌসুম এবং গ্রীষ্মে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাবে।বাড়তি চাহিদার বিদ্যুতের জন্য ৩৮ হাজার ৪৫১ কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড(পিডিবি)।শীতের আবেশ কেটে গরমের মৌসুম আসছে। চাহিদাও বাড়ছে বিদ্যুতের। এখন ভর্তুকির মাধ্যমে পিডিবিকে অতিরিক্ত টাকা না দিলে নির্বাচন, সেচ এবং রমজানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হবে। এমনটি হলে নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।পিডিবির অর্থ বরাদ্দের চাহিদার ব্যাপারে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান মঙ্গলবার বলেন,এ সরকারের মেয়াদ অনেকটা শেষ। এখন নতুন করে কোনো অর্থ বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব নয়। নতুন সরকার এসে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। সরকার এ ভর্তুকি না দিলে আগামী মাস থেকে দেশ লোডশেডিংয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অন্ধকারে থাকতে পারে।সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিভাগকে এমন চিঠি দিয়ে পিডিবি জানিয়েছে,বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বিক্রির কারণে সংস্থাটি বড় ধরনের আর্থিক ঘাটতির মধ্যে পড়েছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিডিবির একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, অর্থাভাবে পিডিবি সরকারি-বেসরকারি কোনো কোম্পানিকে বিল দিতে পারছে না।
সারা দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা ২৮ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটের বেশি। এখন চাহিদা ১১ হাজার থেকে ১২ হাজার মেগাওয়াট। এরপরও কয়েকদিন ধরে রাজধানী ছাড়া সারা দেশে লোডশেডিং হচ্ছে। সোমবার দুপুরে লোডশেডিং হয়েছে ১ হাজার ৪৬ মেগাওয়াট।পিডিবির একজন কর্মকর্তা বলেন,সরকারি-বেসরকারি কোম্পানিগুলো ৮-৯ মাস ধরে বিদ্যুতের বিল পায় না। তারা ফার্নেস অয়েল আমদানি করতে পারছে না। একইভাবে গ্যাসের বিল ও ব্যাংকের দেনা দিতে পারছে না বিভিন্ন বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানি। দেনার কারণে অনেক কোম্পানির তেল আমদানির এলসি খুলছে না ব্যাংক।
পিডিবি জানায়, গ্যাস এবং তেলভিত্তিক অপ্রয়োজনীয় বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন এবং কয়লাভিত্তিক আদানি, এসএস পাওয়ার, রামপাল, পায়রাসহ বিভিন্ন কেন্দ্রের বিদ্যুতের দাম তুলানামূলকভাবে বেশি। এ কারণে ৮ বছর ধরে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বাড়ছে। পিডিবি এখন প্রতি ইউনিট ১২ দশমিক ৩৫ টাকায় বিদ্যুৎ কিনে বিক্রি করছে ৬ দশমিক ৬৩ টাকা। এতে প্রতিমাসে ঘাটতি হচ্ছে হাজার কোটি টাকার বেশি।যদিও বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি বিষয়ে তদন্তে গঠিত জাতীয় কমিটি বলেছে, বিগত আওয়ামী সরকার অপ্রয়োজনীয় ৭৭০০ থেকে ৯৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনুমতি দিয়েছিল। এ কারণে প্রতিবছর সরকারকে ১৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত বিল দিতে হচ্ছে।