আপনি ১৭ বছর দেশে ছিলেন না, জানেন না এখানে কী হয়েছে - Alokitobarta
আজ : সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আপনি ১৭ বছর দেশে ছিলেন না, জানেন না এখানে কী হয়েছে


জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক,আলোকিত বার্তা:বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, তারেক রহমান, আপনি ১৭ বছর দেশে ছিলেন না।আপনি জানেন না এখানে কী হয়েছে।শনিবার(১০ জানুয়ারি)রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে বিএনপির উদ্যোগে সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় ও শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।মাহমুদুর রহমান তার বক্তব্যে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন,শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সাথে জড়িত ছিলেন না।তিনি জানতেন না মুক্তিযুদ্ধ কিভাবে হয়েছে এবং তিনি ফিরে এসেও জানার চেষ্টা করেননি।তাকে আওয়ামী লীগের লোকজন যা বলেছে এবং ভারতীয় পক্ষ যা বলেছে সেটাকেই তিনি ধরে নিয়েছিলেন।ভেবেছিলেন এটাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস।এই জন্যই তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন।

তারেক রহমানকে সতর্ক করে তিনি আরো বলেন,তারেক রহমান,আপনি ১৭ বছর দেশে ছিলেন না।আপনি জানেন না এখানে কী হয়েছে। আপনার লোকজন আপনাকে যা বলেছে সেটাই আপনি শুনেছেন।এখন মিডিয়ার নতুন বন্ধুরা আপনাকে যেটা বলছে সেটাই আপনি শুনছেন।
তিনি আরো বলেন,আপনি মনে করছেন এটাই বাংলাদেশের ১৭ বছরের ইতিহাস।বাংলাদেশের ১৭ বছরের ইতিহাস এটা না।সেই ইতিহাস আমি বর্ণনা করব।ভবিষ্যতে যদি আপনি এরকম কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন সেখানে।

বাংলাদেশে বিগত ১৬–১৭ বছরে গণমাধ্যমের একটি বড় অংশ ভয়, চাপ ও সুবিধাবাদের কারণে নিপীড়নের শিকার সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ায়নি বলে মন্তব্য করেছেন আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।

মাহমুদুর রহমান জানান, ব্যক্তিগত কারণে তিনি দীর্ঘ বক্তব্য দেবেন না। তবে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু নাম উচ্চারণ করবেন—যেসব নাম আজ না বললে আর কেউ বলবে না বলেই তার বিশ্বাস।তিনি বলেন, ব্যস্ত মানুষ বক্তৃতা দিয়ে চলে যান, অন্যের কথা শোনেন না—এটা আমি অসৌজন্যমূলক আচরণ মনে করি। তাই আজ আমি বক্তব্য না দিয়ে কয়েকজন নির্যাতিত সাংবাদিকের নাম বলেই শেষ করব।বক্তব্যে তিনি প্রয়াত সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজীর কথা তুলে ধরে বলেন, ক্যান্সারে আক্রান্ত অবস্থায় ভুয়া মামলায় তাকে কারাগারে রেখে চিকিৎসা ছাড়া মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে সে সময় মূলধারার গণমাধ্যম নীরব ছিল।

তিনি আরও উল্লেখ করেন প্রবীণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের কথা। মাহমুদুর রহমান বলেন, ছাত্রলীগের কিছু কর্মী তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের হাতে তুলে দেয়, বছরের পর বছর কারাবরণ করতে হয়, অসুস্থ অবস্থায় স্ত্রীর মৃত্যুর সময়ও তিনি পাশে থাকতে পারেননি—তবুও গণমাধ্যম থেকে কোনো জোরালো প্রতিবাদ আসেনি।

কারাগারে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ৮০ বছর বয়সী শফিক রহমানকেও মানবেতর অবস্থায় জেলে থাকতে হয়েছে। শীতের মধ্যে মেঝেতে শুয়ে থাকা, টয়লেটে যেতে না পারার মতো কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে তাকে। “এই ফ্যাসিবাদের সময়েও খুব কম মানুষ তার পক্ষে দাঁড়িয়েছেন,” বলেন মাহমুদুর রহমান।

সাংবাদিক কনক সরোয়ারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তারেক রহমানের একটি বক্তব্য লাইভ সম্প্রচারের ‘অপরাধে’ তাকে প্রায় এক বছর কারাবরণ করতে হয়েছে। এমনকি তার বোনকেও ভুয়া মাদক মামলায় মাসের পর মাস কারাগারে রাখা হয়েছিল—সেখানেও সংবাদমাধ্যমের বিবেক জাগ্রত হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বক্তব্যের শেষাংশে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্দেশে মাহমুদুর রহমান বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সাথে জড়িত ছিলেন না তিনি জানতেন না মুক্তিযুদ্ধ কিভাবে হয়েছে এবং তিনি ফিরে এসেও জানার চেষ্টা করেন নাই মুক্তিযুদ্ধ কিভাবে হয়েছে তাকে আওয়ামী লীগের লোকজন যা বলেছে এবং ভারতীয় পক্ষ যা বলেছে সেটাকেই তিনি ধরে নিয়েছিলেন এটাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ছিল। এই জন্যই তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন।

তিনি বলেন, তারেক রহমান আপনি ১৭ বছর দেশে ছিলেন না আপনি জানেন না এখানে কি হয়েছে আপনার বিশিষ্ট লোকজন আপনাকে যা বলেছে এটাই আপনি শুনেছেন এবং এখন যারা মিডিয়ার নতুন বন্ধুরা আপনাকে যেটা বলছে সেটাই আপনি শুনছেন, কিন্তু বাংলাদেশের ১৭ বছরের ইতিহাস এটা না। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ৫০ বছরের বাস্তব ইতিহাস বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবো।

Top