এফডিআই গতি নেই, কমছে নতুন বিনিয়োগ,বিদেশি সহায়তায় নয়, নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায় বাংলাদেশ! - Alokitobarta
আজ : বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এফডিআই গতি নেই, কমছে নতুন বিনিয়োগ,বিদেশি সহায়তায় নয়, নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায় বাংলাদেশ!


মু.এবি সিদ্দীক ভুঁইয়া:দেশে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কিছুটা বাড়তি দেখালেও নতুন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মূলধন বিনিয়োগে গতি নেই।বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে নিট বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) বেড়েছে ১২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। কিন্তু নতুন নিট ইকুইটি বিনিয়োগ কমেছে। যা দেখানো হচ্ছে তার অধিকাংশই বিদ্যমান বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মুনাফা পুনর্বিনিয়োগ এফডিআই।অর্থাৎ, বিদ্যমান বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মুনাফা পুনর্বিনিয়োগ এফডিআই বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখলেও নতুন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে আসা মূলধনের গতি এখনো দুর্বল। অথচ বিদেশি বিনিয়োগ আনতে গত আট মাসে সরকারের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান থেকে শুরু করে অর্থ, শিল্প, বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। চীন, যুক্তরাষ্ট্র, সউদী আরব, নেদারল্যান্ডস, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, কাতার, ইউএই, জাপান ও সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কোথাও বন্দর ও শিল্পাঞ্চল, কোথাও জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদন শিল্পে বিনিয়োগের আগ্রহ এসেছে। কোটি কোটি ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগের ঘোষণা, সমঝোতা স্মারক ও প্রকল্পের কথাও সামনে এসেছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, এতসব বৈঠক, বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ, আলোচনা এবং সরকারের মন্ত্রীদের মুখে মুখে এফডিআই প্রবাহের যে বক্তব্য-বিবৃতি পাওয়া যাচ্ছে, তার বিপরীতে বাস্তবে কত নতুন বিদেশি মূলধন বাংলাদেশে আসছে! মানচিত্রদেখুন

এদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির গত সোমবার বলেছেন, বাংলাদেশ আর বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভর করে চলতে চায় না, নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়। হুমায়ুন কবির বলেন, বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতার যুগ শেষ হয়েছে। বাংলাদেশ আর সহায়তার ওপর নির্ভর করে এগোতে চায় না। বরং নিজস্ব সক্ষমতার ওপর দাঁড়িয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিনিয়োগের ভিত্তিতে অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায়। বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায় এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিনিয়োগভিত্তিক অংশীদার হতে চায়। প্রতিমন্ত্রীর এ বক্তব্য দেশের জন্য আশার আলো হিসেবে উপস্থাপিত হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। বিশেষ করে বাজেট ঘাটতি মেটাতে ও দেশের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারগুলো বাস্তবায়নে বৈদেশিক সাহায্য ও বাজেট সহায়তার ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎস বা ব্যাংক ঋণের চাপ কমাতে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নে মোট ১৩ দশমিক ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার কোটি টাকা) বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন হার ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। অর্থের অভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যমান সড়কগুলো সংস্কার না হওয়ায় বেহাল দশা বিরাজ করছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ বার্ষিক উন্নয়ন বাজেটের মাত্র ৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ অর্থ ব্যয় করতে পেরেছে। উন্নয়ন প্রকল্পের এই ধীরগতি সরকারি বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎ অবকাঠামো, স্কুল ও হাসপাতাল নির্মাণের মতো প্রকল্পে সরকারি ব্যয় বাড়লে নির্মাণসামগ্রী, পরিবহন, শ্রম ও বিভিন্ন সেবার চাহিদা তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে ব্যবসা-বাণিজ্য ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে। একই সঙ্গে এসব কর্মকা- থেকে সরকারের রাজস্ব আদায়ের সুযোগও বাড়ে। ফলে উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন দীর্ঘায়িত হলে অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি কমে যেতে পারে।অবশ্য সরকারের গত ৮ মাসে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর যুগান্তকারী বা জরুরি কোন পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। অথচ অর্থনীতি চাঙ্গায় তাঁর দ্রুত কিছু পদক্ষেপ দরকার ছিল। যে পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দ্রুত কর্মসংস্থান বৃদ্ধিসহ অর্থনীতিকে গতিশীল করা সহজ হয়। অর্থমন্ত্রীর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের অভাব বা সমন্বয়হীনতায় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দিনদিন ভয়াবহ সংকটের দিকে যাচ্ছে। বিনিয়োগ খরা, আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে স্থবিরতা, বেকারত্ব বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের বদলে কর্মজীবী বেকার হওয়া, মানুষের আয় কমে যাওয়া, জিনিসপত্রের ঊর্ধ্বগতি থেকে অর্থনীতিতে কোনো সুখবর নেই। অর্থনীতির প্রতিটি সূচক নিম্নগামী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর সায়মা হক বিদিশা বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো খাতে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ধীর হলে মানবসম্পদ উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক কর্মকা- সচল রাখতেও সরকারি বিনিয়োগের ভূমিকা রয়েছে। তাঁর মতে, আইএমইডির নিয়মিত তদারকির পাশাপাশি সরকারি ব্যয়ের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন আরও জোরদার করা প্রয়োজন। কোনো প্রকল্পে তিন মাস পরও প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হলে দ্রুত কারণ শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বিদেশি সহায়তা না নিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাইলেও সরকার ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সামাল দিতে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ১০০ কোটি ডলার (১ বিলিয়ন ডলার) বাজেট সহায়তা চাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এই ঋণ সহায়তা চাওয়ার প্রস্তাব তৈরি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। অর্থ বিভাগের প্রস্তাবে বাজেট ঘাটতি বৃদ্ধি, পণ্যমূল্যের অস্থিরতা, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ এবং বিনিময় হারের অনিশ্চয়তাকে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর আগে চীনের কাছে বাংলাদেশ জ্বালানি সহায়তা চেয়েছে। এমনকি চলমান জাপান সফরে গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে জাপানকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট তানাকা আকিহিকোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, আর্থসামাজিক অগ্রগতি ও উন্নয়ন আকাক্সক্ষা পূরণে জাপানের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর করে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নে জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা জরুরি। এছাড়া বাংলাদেশ সরকার আইএমএফ-এর কাছে নতুন করে ৪৫০ কোটি ডলার (৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার) ঋণের আবেদন করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হলে দেশের রাজনৈতিক ও নীতিগত স্থিতিশীলতা, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। গবেষকদের মতে, দেশের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ বাড়ানো এবং বিদেশি ঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা।

এফডিআই সঠিকভাবে না আসার কারণ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দেখতে চাচ্ছে যে, নতুন একটি সরকার এসেছে। উনারা (সরকার) বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার জন্য কী কী ধরনের পলিসি গ্রহণ করেন। এরমানে তারা নতুন সরকারের নীতিমালাগুলো পর্যবেক্ষণ করতে চাইছে। এই কারণে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হয়েছে। এবং এই বিলম্বিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতেই আমরা দেখেছি পরবর্তী প্রান্তিকের তুলনায় সর্বশেষ অর্থাৎ জুন প্রান্তিকে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, এফডিআই আনতে বিনিয়োগবান্ধব দীর্ঘমেয়াদি কোনো বড় পরিবর্তন গত চার দশকেও হয়নি। ব্যবসা শুরু ও ক্লোজ (গুটিয়ে নেয়া) করতে এ দুই ক্ষেত্রেই জটিল ও দীর্ঘ প্রক্রিয়া বিনিয়োগকারীকে বাংলাদেশ নিয়ে অনাগ্রহী করে তোলে। ফলে সম্ভাবনা দেখলেও তারা দূরে সরে যায়।

সূত্র মতে, রাজস্ব আহরণ না বাড়লেও সরকারের ব্যয় প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এতে বাড়ছে সরকারের ঋণনির্ভরতাও। বর্তমানে সরকারের রাজস্ব আয়ের সিংহভাগই চলে যাচ্ছে ঋণ ও ঋণের সুদ পরিশোধে। আর তাই স্বৈরাচার হাসিনার দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থপাচারে কারণে সৃষ্ট দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে প্রয়োজন বিপুল অর্থ। কেবল ব্যাংকখাতের সংকট কাটাতেই দরকার অন্তত ৪০ বিলিয়ন ডলার। নীতিনির্ধারকেরা বলছেন, বিদ্যমান এই সার্বিক অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং সংকট কাটিয়ে উঠতে দাতা সংস্থাগুলোর অর্থায়ন অপরিহার্য। তবে দাতাগোষ্ঠীর ঋণের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সংস্কারেও গুরুত্ব অর্থনীতিবিদদের।

সামগ্রিক অর্থনীতির ভঙ্গুর দশা কাটাতে যখন বিশাল অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন, তখন উত্তরণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে ধুঁকতে থাকা ব্যাংকখাত। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, এ খাতের মোট খেলাপি ঋণ ৬ লাখ কোটি টাকার বেশি। বর্তমানে প্রতি ১০০ টাকা ঋণের প্রায় ৩৩ টাকাই খেলাপি। যা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে পুরো খাত। সম্প্রতি প্রকাশিত আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) আরও কমে ৩ দশমিক ২ শতাংশ হবে। বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকও একই পূর্বাভাস দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনেও অর্থনীতির চরম সংকটের কথা বলা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে হাহাকার চলছে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলছেন, বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এসব সহযোগিতার বিষয়ে নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে যে অর্থনীতি, সে অর্থনীতির ভঙ্গুর অবস্থা এবং তা উত্তরাধিকার সূত্রে আমরা প্রাপ্ত হয়েছি। ব্যাংক ব্যবস্থায় যে বিশৃঙ্খলাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার থেকে উদ্ধার পেতে খুবই রক্ষণশীল হিসেব যদি করা যায়, তাহলে ৪০ বিলিয়ন ডলার লাগবে। মানচিত্রদেখুন

এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কতটা সক্ষমতা রয়েছে সরকারের? আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দেয়া সংস্কারের পরামর্শ বাস্তবায়ন কি আদৌ সম্ভব? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু বিদেশি ঋণ এনে সাময়িক তারল্য জোগালেই সমস্যার সমাধান হবে না; দরকার টেকসই সংস্কার ও জবাবদিহিতা। শুধু ব্যাংক ব্যবস্থাই নয়; বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা, বিশাল অবকাঠামো চাহিদার অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে ২০৩০ সালের মধ্যে এফডিআই প্রায় সাত গুণ বাড়িয়ে ১৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে হবে বলে সম্প্রতি জানিয়েছে ফরেন ইনভেস্টরস’ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ফিকি)। ফিকি বলেছে, বাংলাদেশে এফডিআই প্রবাহ কম থাকার পেছনে নয়টি কাঠামোগত সমস্যা রয়েছে, যা ধীরে ধীরে বিনিয়োগকারীদের আস্থা দুর্বল করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বাধা নীতিগত অনিশ্চয়তা। সরকারি হিসাবে বিনিয়োগ অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষ হতে ৭৬ দিন লাগার কথা থাকলেও বাস্তবে চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে অনেক বিনিয়োগকারীকে ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতাও বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ২৩টি সরকারি সংস্থা এবং প্রায় ১৫০টি পৃথক সেবা নিয়ে কাজ করতে হয়, যা সময় ও ব্যয় দুটিই বাড়িয়ে দেয়। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও বিনিয়োগে প্রভাব ফেলছে। প্রতিবেদনে বিদ্যুতের ঘাটতি, শিল্পের জন্য জমির সংকট এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে জমির মালিকানা হস্তান্তরের ধীরগতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। লজিস্টিকস খাতেও দুর্বলতা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসে গড়ে আট থেকে ১০ দিন সময় লাগে, যেখানে ভিয়েতনামে একই কাজ শেষ হয় মাত্র তিন থেকে চার দিনে। এতে রফতানিকারকদের ব্যয় বাড়ছে এবং প্রতিযোগিতা কমছে। এছাড়া ফিকি আর্থিক খাতের বেশ কয়েকটি দুর্বলতার কথাও তুলে ধরেছে- এর মধ্যে রয়েছে ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ খেলাপি ঋণ, ব্যাংক খাতে পর্যাপ্ত মূলধনের অভাব, জটিল করব্যবস্থা, তুলনামূলক কম আইনগত করহার থাকা সত্ত্বেও কার্যকর করের চাপ বেশি থাকা, দক্ষ জনবলের ঘাটতি এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা ও লজিস্টিকস সূচকে বাংলাদেশের দুর্বল অবস্থান। মানচিত্রদেখুন

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, এফডিআই ওঠানামা করবেই। ওগুলো একবার উঠবে, আবার নামবে। আবার উঠবে। ভয় পাওয়ার কিছু নাই। তবে এটা দীর্ঘমেয়াদী নীতিমালার বিষয়। চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ নতুন দিকে মোড় নিচ্ছে এবং হুতিরা সউদী আরবে আক্রমণ শুরু করেছে। মনে হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হবে। যা আগামী দিনে আমাদের জন্য অশনিসঙ্কেত।

Top