প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন মানবাধিকার লঙ্ঘন করবে
রিপোর্ট আলোকিত বার্তা :প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করবে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার। একই সঙ্গে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন সংশোধনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। শুক্রবার অধিকার-এর ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগের কথা জানানো হয়। আজ ১০ অক্টোবর সংগঠনটির ৩২ বছর পূর্ণ হচ্ছে।বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর মানবাধিকারকর্মীদের উদ্যোগে অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং নাগরিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষায় কাজ করছে।মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদ করায় বিভিন্ন সরকারের আমলে অধিকার হয়রানি ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। বিশেষ করে শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে সংগঠনটির ওপর হয়রানি ও নিপীড়ন চরম আকার ধারণ করে বলে উল্লেখ করা হয়।বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অধিকার। বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় এলেও কয়েক মাসের মধ্যে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে উঠেছে। এর ফলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।
অধিকারের দাবি, ক্ষমতা গ্রহণের পর সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়নে অস্বীকৃতি জানায়। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা মানবাধিকারবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো সংসদে পাস না হওয়ায় সেগুলো বাতিল হয়ে যায়। এর মধ্যে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়ে বিশেষ উদ্বেগ রয়েছে সংগঠনটির। এসব আইনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তদন্তের ক্ষমতা সীমিত বা রহিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে অধিকার।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বর্তমান সরকারের সময়ে মিরাজ শেখ নামে এক জেলে গুমের শিকার হয়েছেন। তাকে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।
প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে অধিকার বলেছে, এ আইন মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করতে পারে। সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে মত প্রকাশের কারণে ব্যক্তিদের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অভিযুক্ত করার ঘটনাও গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছে সংগঠনটি।এছাড়া র্যাবের নাম পরিবর্তন করে একই কাঠামো বহাল রেখে এসআরবি গঠন করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এতে অতীতের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে অধিকার। সংগঠনটি অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট আইনগুলো সংশোধনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।বিবৃতিতে বলা হয়, মানবাধিকার ও সুশাসন ছাড়া কোনো দেশের টেকসই অগ্রগতি সম্ভব নয়। ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে অধিকার বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ব্যক্তি এবং স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে ও আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের পক্ষে সংগ্রামরত মানুষের প্রতি সংহতি জানিয়েছে সংগঠনটি।