পনেরো বছরের দীর্ঘমেয়াদি ইজারা বা কনসেশন চুক্তি
স্টাফ রিপোর্টার :পনেরো বছরের দীর্ঘমেয়াদি ইজারা বা কনসেশন চুক্তি। অথচ গোপন রহস্যঘেরা রাখা হলো চুক্তির শর্তাবলী। দুবাইভিত্তিক বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ড কত পরিমাণ অর্থ কীভাবে বিনিয়োগ করবে, বিনিয়োগের নিশ্চয়তা কি, চট্টগ্রাম বন্দরের লাভ-লোকসান, চুক্তির শর্তভঙ্গের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা থাকবে রয়ে গেলো অজানা অস্পষ্ট অস্বচ্ছ।চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের পরিবর্তে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশ মিলনায়তনে ঝটিকাবেগে চুক্তি স্বাক্ষরের সংক্ষিপ্ত পর্বের আয়োজক ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও বন্দর কর্তপক্ষ উভয় চেয়ারম্যান এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়। সেখানে আমন্ত্রিত হননি বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারী সংগঠনের কোনো নেতা-প্রতিনিধি, এমনকি বন্দর ব্যবহারকারী (স্টেক হোল্ডার) কেউই।চুক্তি স্বাক্ষর শেষে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েই নিউমুরিং টার্মিনাল (এনসিটি) কনসেশন চুক্তিতে দেওয়া হয়েছে। ডিপি ওয়ার্ল্ড আন্তর্জাতিক সেরা প্রতষ্ঠানগুলোর শীর্ষে রয়েছে। বন্দর ও দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে বন্দর চেয়ারম্যান ও নৌ-মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চুক্তিতে কি আছে তা প্রকাশ করা হয়নি। চুক্তির আগে দুই বছর যাবত পুরো প্রক্রিয়া চলে আসছিল কঠোর গোপনীয়তার সঙ্গে। অনেক কিছুই এখন পর্যন্ত সন্দেহের বেড়াজালে। এ অবস্থায় চট্টগ্রাম বন্দরের সর্বোচ্চ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং-এ প্রতিবছর মুনাফার রেকর্ড অতিক্রমকারী নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি ডিপি ওয়ার্ল্ড-এর কাছে ইজারায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানী ঢাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ড কোম্পানির সঙ্গে কনসেশন ইজারা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
একই কায়দায় শর্ত গোপন ও অস্বাভাবিক ঝটিকাগতিতে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা চুক্তিতে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল চট্টগ্রাম বন্দরের এয়ারমার্ক পরিকল্পিত লালদিয়ার চর টার্মিনাল এবং বন্দরের টাকায় নির্মিত পানগাঁও টার্মিনাল। ড. ইউনূসের অন্তবর্তী সরকারের আমলে গত ১৭ নভেম্বর’২৫ইং ফ্যাসিস্ট হাসিনার মৃত্যুদ- রায় ঘোষণার দিনই জনগণের দৃষ্টি আড়াল করতে রাজধানী ঢাকায় সোনারগাঁও হোটেলে বিদেশি দুইটি কোম্পানির সাথে তখন ঝটিকা চুক্তি করা হয়। ইতঃপূর্বে বন্দরের নিজস্ব টাকায় পতেঙ্গায় তৈরি অপর এক টার্মিনালও হাসিনা আমলে বিদেশি আরেক কোম্পানিকে ছেড়ে দেয়া হয়। গতকাল নিউমুরিংসহ চারটি ধারাবাহিক লাভজনক টার্মিনাল একে একে বিদেশিদের ইজারা দেওয়া হলো। এখন বন্দরের হাতে থাকবে শুধুই চট্টগ্রাম কন্টেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) এবং মান্ধাতা আমলের মিশ্র জেটি-বার্থ জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি)।
গতকাল চুক্তি স্বাক্ষরকে কেন্দ্র করে দুপুর থেকেই রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমবেত হন প্রতিবাদী নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও ছাত্র-জনতা। বিকালে চট্টগ্রাম বন্দরসহ আশপাশ এলাকায়ও ব্যাপক প্রতিবাদ-বিক্ষোভ, মিছিল ও সমাবেশ করেছে আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারী জোট-সংগঠন, পেশাজীবী, নাগরিক মহল। সচল প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম বন্দরের লাভজনক নিউমুরিং টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশিদের হাতে তুলে দিয়ে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং ভূ-কৌশলগত নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। চুক্তি স্বাক্ষরের বিরুদ্ধে আগামী সোমবার বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ চট্টগ্রাম বন্দরে অনশন কর্মসূচি পালনের ডাক দিয়েছে।
বহুল আলোচিত বন্দরের হৃদপি- নিউমুরিং টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারায় ছেড়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকার আমলে ২০২৩ সালে নেয়া হয়েছিল বিতর্কিত এই সিদ্ধান্ত। এর বিরুদ্ধে তখন থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তবর্তীকালীনসহ পরপর তিনটি সরকারের আমলে দুই বছরেরও বেশি সময় যাবত চলে আসছে ব্যাপক আন্দোলন। লাগাতার কর্মসূচি পালন করে আসছে বিএনপির সহযোগী শ্রমিক সংগঠন জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল, বিভিন্ন শ্রমিক-কর্মচারী জোট, সংগঠন, রাজনৈতিক জোট। ডিপি ওয়ার্ল্ড কোম্পানির কাছে বন্দর টার্মিনাল ইজারার তীব্র বিরোধিতা করে আসছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও প্রতিবাদী সমাজ চিন্তাবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ভূ-কৌশলগত স্পর্শকাতর এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এটি বিদেশি অপারেটরের হাতে ইজারায় তুলে দেওয়ার চুক্তি দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর এবং দেশবিরোধী।
বিগত ড. ইউনূসের অন্তবর্তী সরকারের আমলে ২০২৫ সালের এপ্রিলে চট্টগ্রাম বন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল ডিপি ওয়ার্ল্ড কোম্পানির নাম পরিচয়ধারী প্রায় ৪০ জন বিদেশি ব্যক্তিকে। তথাকথিত ‘টেকনিক্যাল কর্মকর্তা ও কর্মী’র নামে ওই সময়ে এরমধ্যে ২১ জন ছিলেন ভারতীয় নাগরিক। তারা ডিপি ওয়ার্ল্ড পরিচয়ে বন্দরের ভেতরে ঘোরাঘুরির ঘটনায় বন্দর-ডক শ্রমিক-কর্মচারী সংগঠনসমূহের মাঝে ক্ষোভ-অসন্তোষ, প্রতিবাদ ও হৈ চৈ পড়ে যায়। পরবর্তীতে ডিপি ওয়ার্ল্ড পরিচয়ধারী ভারতীয়দের চট্টগ্রাম বন্দরে অভ্যন্তরে আসা-যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। বন্দর-ডক সংশ্লিষ্টরা এখন প্রশ্ন ও সন্দেহ করছেন, এবার চুক্তি হয়ে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের নাম-পরিচয়ে কোনো ভারতীয় নাগরিক বন্দরের ভেতরে প্রবেশের পাঁয়তারা করবে কিনা?
চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে লাভজনক এনসিটি বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা চুক্তিতে ছেড়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ অসন্তোষের প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে আন্দোলনরত সংগঠন ও জোটের। নেতৃবৃন্দ বলেছেন, এককভাবে ৪৪ শতাংশ কন্টেইনার ওঠানামা হয় বন্দরের সচল টার্মিনাল এনসিটি দিয়ে। অথচ এটি বিদেশি অপারেটরকে তুলে দেওয়া অযৌক্তিক এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী। তাতে দেশের অর্থনীতির ওপর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। নিউমুরিং টার্মিনালের স্পর্শকাতর ভূ-কৌশলগত অবস্থানের প্রেক্ষিতে জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নও এর সাথে জড়িত। তারা দেশ ও জাতীয় স্বার্থেই ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে চুক্তি বাতিল এবং বন্দরের হাতে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখার দাবি জানান।
চুক্তির প্রতিবাদে অনশন ১২ অক্টোবর :চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার জন্য চুক্তির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রাম ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। গতকাল বিকালে চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা এনসিটি ইজারা চুক্তির প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জাতীয় স্বার্থ, বন্দরের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং শ্রমিকদের অধিকার বিবেচনায় নিতে হবে। তারা এনসিটি চুক্তি বাতিলের দাবি জানান।বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম যুগ্ম সমন্বয়ক হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে এবং অপর সমন্বয়ক ইব্রাহীম খোকনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাবেক সিবিএ সেক্রেটারি কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন এবং সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম।
বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার। এ বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেওয়ার আগে এর আর্থিক প্রভাব, পরিচালন সক্ষমতা, জাতীয় নিরাপত্তা ও শ্রমিক স্বার্থ নিয়ে জনসম্মুখে বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন। তারা চুক্তির উদ্যোগ থেকে সরে এসে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা করার আহ্বান জানান।বিক্ষোভ মিছিলে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি মো. শাহ আলম, সিপিবি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি কমরেড অশোক সাহা, বাসদ চট্টগ্রাম জেলা ইনচার্জ আল কাদেরী জয়, বাসদ মার্ক্সবাদী চট্টগ্রাম জেলার সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শফি উদ্দিন কবির আবিদ এবং শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ চট্টগ্রাম জেলার যুগ্ম সমন্বয়ক খোরশেদ আলম ও রবিউল হোসেন শিমুলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, শ্রমিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।বক্তারা বলেন, এনসিটি ইজারা বাতিল না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিক আন্দোলনের কর্মসূচি পালন করা হবে। সমাবেশ থেকে আগামী ১২ অক্টোবর সোমবার চট্টগ্রাম বন্দর ওয়ান স্টপ ভবনের সামনে অনশন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
চুক্তি স্বাক্ষরকালে যা বলা হলো :চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় আমিরাতের দুবাইভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে গতকাল ঢাকায় চুক্তি স্বাক্ষর করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এনসিটির আধুনিকায়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির (পিপিপি) ভিত্তিতে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে। আগারগাঁওয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশ মিলনায়তনে এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ সময় নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, ডিপি ওয়ার্ল্ডের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এশা কাজিম, বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হুমুদি, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। চুক্তিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এশা কাজিম।চুক্তি স্বাক্ষর শেষে সংবাদ সম্মেলনে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ১৫ বছরের নির্ধারিত মেয়াদে টার্মিনালের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এনসিটির জমি বা ভূমি, অবকাঠামো, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছেই থাকবে। চুক্তির শুরুতে প্রায় ৬শ’ কোটি টাকার অগ্রিম ফি (আপফ্রন্ট ফি) এবং প্রথম দশ বছরে আধুনিকায়ন, যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তিতে এক হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের অঙ্গীকার করেছে ডিপি ওয়ার্ল্ড।
তিনি আরও জানান, চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে আর্থিক জরিমানার ব্যবস্থা থাকবে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ টার্মিনাল পরিচালনায় রাজস্বের ভাগ ও নির্ধারিত বার্ষিক ফি পাবে। ডিপি ওয়ার্ল্ড প্রতি টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের আয়ের ৬৭ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে দেবে। গড়ে প্রতি কনটেইনারে ১৪০ থেকে ১৫০ ডলার আয় হলে বন্দরের অংশ পড়বে ৯৩ থেকে ১০৩ ডলার।অনুষ্ঠানে ডিপি ওয়ার্ল্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান এশা কাজিম বলেছেন, বাণিজ্য ও উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডের মাধ্যমে বৈশ্বিক বন্দর, লজিস্টিকস অবকাঠামো ও সরবরাহব্যবস্থার সেবা নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সংযোগ আরো সহজ ও নিরবচ্ছিন্ন হবে।চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে চালু চারটি কনটেইনার স্থাপনা চালু রয়েছে। এর অন্যতম ও সর্ববৃহৎ স্থাপনা এনসিটি। এর কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৭ সালে। এনসিটি বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের প্রায় ৪৪ শতাংশই সম্পন্ন করছে। ২০২৫ সালের ৭ জুলাই থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পরিচালিত প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড এনসিটি ব্যবস্থাপনা করছে।
গতকাল নৌ মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনায় করে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে এবং আইনশৃংখলায় কোনো বাধা বিপত্তি সৃষ্টি করা যাবে না। এ ধরনের যে কোনো বাধা-বিঘœ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় হুশিয়ারী উচ্চারণ করেছে। গতকাল ঢাকায় চুক্তি স্বাক্ষরকে ঘিরে সম্ভাব্য গোলযোগ, বিক্ষোভ-অসন্তোষ মোকাবিলায় বন্দর ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা পাহারা মোতায়েন করা হয়। দুপুরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আন্দোলনরত সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন। বন্দর কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। তবে বন্দর ও আশপাশ এলাকায় চাপা উত্তাপ-উত্তেজনা ও ক্ষোভ-অসন্তোষ বিরাজ করছে।