৩১টি কারিগরিভাবে নষ্ট,৬০ শতাংশ মেডিকেল অক্সিজেন প্ল্যান্ট অচল
রিপোর্ট আলোকিত বার্তা:দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে স্থাপিত ৯৯টি মেডিকেল অক্সিজেন প্ল্যান্টের মধ্যে ৬১টিই অচল।অর্থাৎ ৬০ শতাংশই রোগীর কাজে আসছে না। এর মধ্যে ৩১টি কারিগরিভাবে নষ্ট।আর ৩০টি প্ল্যান্ট কার্যক্ষম হলেও নিয়মিত চালানো হচ্ছে না। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে স্থাপিত অবকাঠামো থাকলেও এর বড় অংশ থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা। সরকার ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোরস ডিপো (সিএমএসডি)-এর মাধ্যমে এগুলো স্থাপন করা হয়েছিল।প্রথম দিনের আলোচনায় স্বাগত বক্তব্য দেন চিপসের পরিচালক ড. এসএম মোয়াজ্জেম হোসাইন। সম্মানিত অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক এম. তামিম ও ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মালালী আহমাদজি।শনিবার রাজধানীর ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি) মিলনায়তনে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ অক্সিজেন সামিট ২০২৬’-এর প্রথম দিনে এসব তথ্য জানানো হয়।বাংলাদেশ অক্সিজেন নেটওয়ার্ক এবং ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সহযোগিতায় সেন্টার ফর হেলথ, ইমপ্লিমেন্টেশন অ্যান্ড পলিসি সায়েন্সেস (চিপস) এ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সম্মেলনে এক প্রবন্ধে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন ইউএনওপিএস বাংলাদেশের সিনিয়র অ্যানালিস্ট মারুফ হাসান। ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ কমিশন অন মেডিকেল অক্সিজেন সিকিউরিটির কো-চেয়ার ও আইসিডিডিআর,বির বিজ্ঞানী ড. আহমেদ এহসানুর রহমান বলেন, দেশে বছরে প্রায় ১৯ লাখ মানুষের জরুরি অক্সিজেন প্রয়োজন হয়। অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘমেয়াদি রোগসহ আরও প্রায় ৫৬ লাখ রোগীর চিকিৎসায় মেডিকেল অক্সিজেন প্রয়োজন হয়। নিউমোনিয়া, হৃদরোগ, সেপসিস, আঘাত, নবজাতকের জটিলতা ও ডেঙ্গুর মতো রোগের চিকিৎসায় অক্সিজেনের প্রয়োজন খুব বেশি।
ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আলমগীর হোসাইন বলেন, অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে একটি সমন্বিত বা হলিস্টিক ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে। তিনি বলেন, অক্সিজেন প্রকল্প বা সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো তৈরির শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে সম্পৃক্ত করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, শুধু অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন বা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ালেই রোগীর কাছে অক্সিজেন নিশ্চিত করা যায় না। উৎপাদন থেকে সংরক্ষণ, পরিবহণ ও বিতরণ থেকে হাসপাতালে রোগীর শয্যা পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থাকে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে। এর সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, প্রশিক্ষিত জনবল, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশ এবং কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির পর দেশে মেডিকেল অক্সিজেন অবকাঠামোতে বিনিয়োগ বেড়েছে। অক্সিজেন প্ল্যান্ট, তরল অক্সিজেন সংরক্ষণাগার, কনসেনট্রেটর ও হাসপাতালের পাইপলাইন ব্যবস্থাও সম্প্রসারিত হয়েছে। কিন্তু স্থাপিত অবকাঠামো সচল রাখা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, দক্ষ জনবল এবং বিতরণব্যবস্থায় এখনো ঘাটতি রয়েছে।