উচ্চকক্ষে আনুপাতিক হারে ভোটের মাধ্যমে যে প্রতিনিধিত্বের বিষয় রয়েছে,সেটিতে আমরা কখনোই একমত হইনি - Alokitobarta
আজ : শুক্রবার, ২রা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
নানিয়ারচরে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা সভা: মাদক ও অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স ঘোষণা বরিশালে সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করায় আওয়ামী লীগের পেতাত্মা বাবুল মোহরীর নেতৃত্বে দুই সাংবাদিকের ওপর হাম... এক পুলিশ কর্মকর্তা! পুলিশ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের নেতিবাচক সব ধারণা পাল্টে দিচ্ছে হাসপাতালে সাংবাদিক বেলায়েত বাবলুর পাশে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা ফেসবুকের কাঠগড়ায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা—অভিযোগের আগে প্রমাণ কোথায়? কুমিল্লার প্রতিটি উপজেলায় গঠিত হবে ধর্ষণ প্রতিরোধ মঞ্চের কমিটি এক শক্তিশালী সিন্ডিকেটের লুটপাটের ময়দানে পরিণত হয়েছে বিআরটিসি কোটি কোটি টাকা লোপাট চলছে দুদকে অভিয... বরিশালে ডাঃ তহুরার হাতে বলি হলো উদীয়মান উদ্যোক্তা নাজিয়া মাইশা পে ফিক্সেশনের পর তিন মাসের বকেয়া সমন্বয় রোহিঙ্গা ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ চাপের আহ্বান বাংলাদেশের

উচ্চকক্ষে আনুপাতিক হারে ভোটের মাধ্যমে যে প্রতিনিধিত্বের বিষয় রয়েছে,সেটিতে আমরা কখনোই একমত হইনি


নুর নবী জনী:আমার কাছে মনে হয়,জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্যই এই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘জুলাই সনদে আমরা একসঙ্গে স্বাক্ষর করেছি।যেসব দল মিলে আমরা রাজপথে আন্দোলন করেছি,তারা সবাই এতে স্বাক্ষর করেছি।জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর আমরা বারবার বাস্তবায়ন করার কথা বলছি এবং আমরা এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ।জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে’ বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন,আমরা আজকে অনেকগুলো প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছি। বিরোধী দল থেকে বলা হচ্ছে-জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি সংসদে আদায় না হলে রাজপথে ফয়সালা হবে।জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে শুক্রবার আয়োজিত এক স্মরণসভায় বিএনপি মহাসচিব বক্তব্য দিচ্ছিলেন।

সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড.এমাজউদ্দীন আহমদের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করে ‘প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমদ রিসার্চ সেন্টার’ ও ‘জাতীয় সাংবাদিক সমিতি।’ অনুষ্ঠান শেষে প্রয়াত অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান, যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার,এমাজউদ্দীন আহমদ রিসার্চ সেন্টারের আহ্বায়ক অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম,আবু বকর সিদ্দিক,জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ,সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মজুমদার,এম আবদুল্লাহ,অধ্যাপক ওমর ফারুক,অধ্যাপক শেখ সাদী ও কবি নাহিদ নজরুল প্রমুখ।

যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন,ফ্যাসিবাদের সময় চরম প্রতিকূল পরিবেশেও অধ্যাপক এমাজউদ্দীন স্যার অকুতোভয় সাহস নিয়ে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।সব আন্দোলন-সংগ্রামে তাকে পাশে পেয়েছি।

অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন,যে গণভোটের কথা বলা হচ্ছে,তার একটি অংশ নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনাই করা হয়নি।উচ্চকক্ষে আনুপাতিক হারে ভোটের মাধ্যমে যে প্রতিনিধিত্বের বিষয় রয়েছে, সেটিতে আমরা কখনোই একমত হইনি।তখন আমি নিজেই বিবৃতি দিয়েছিলাম যে,এটি জাতির সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা। সংস্কার কমিশন (রিফর্ম কমিশন) আমাদের সম্মতি ছাড়াই সেদিন ওই বিষয়গুলো নিয়ে এসেছিল।

তিনি বলেন,জুলাই সনদের বইটি পড়লে দেখবেন,সেখানে পরিষ্কার বলা আছে,যে দল নির্বাচিত হবে,তারা তাদের নির্বাচনি ইশতেহার (ম্যানিফেস্টো) অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করবে।আমরা ৩১ দফায় যেমন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ,ঠিক তেমনি জুলাই সনদ বাস্তবায়নেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।কিন্তু আমরা সেটি আমাদের মতো করে চেয়েছি।এখানে বিরোধী দল সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বলছে যে,আমরা নাকি জুলাই সনদ বান্তবায়ন করতে চাই না।

তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন,এখন তাদের আপত্তির মূল জায়গাটি হলো-সংবিধান সংস্কার বনাম সংবিধান সংশোধন।আমরা বরাবরই বলে এসেছি যে,আমরা সংবিধান ‘সংশোধন’ করতে চাই,‘সংস্কার’ করার কথা আমরা কখনোই বলিনি।জনগণ আমাদের যে ভোট দিয়েছে এবং আমাদের ইশতেহারে যা ছিল,সেই অনুযায়ী দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি আজ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে।এ বিষয়ে কোনো বিভ্রান্তির অবকাশ নেই।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল বলেন,ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে বিএনপির ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে,প্রায় ১৭০০ নেতাকর্মী গুম হয়েছেন এবং কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।অনেকে এখন ফায়দা লুটতে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।

বিভাজনের রাজনীতি পরিহারের আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।তিনি বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে বলেন,সমস্যার সমাধান এত সহজ নয়,এটি অত্যন্ত জটিল।মুহূর্তের মধ্যে আমরা সবকিছু সুন্দর করে ফেলতে পারব না।আমাদের ধৈর্যের সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।আজ অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ সাহেবের দেখানো পথেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে,যিনি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক দেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখতেন।

Top