দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জ্বালানি তেলে বড় ধরনের রেশনিংয়ের সিদ্ধান্ত
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক,আলোকিত বার্তা:দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জ্বালানি তেলে বড় ধরনের রেশনিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের সব পেট্রোল পাম্পকে গত বছরের (২০২৫) তেল বিক্রির হিসাব থেকে ২০ শতাংশ কম তেল দেবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-বিপিসি। তবে সরকার আপাতত তেলের দাম বাড়াবে না বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি মোটরসাইকেল একদিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার অকটেন বা পেট্রোল, কার ১০ লিটার পেট্রোল বা অকটেন, এসইউভি, জিপ মাইক্রোবাস প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ লিটার পেট্রোল বা অকটেন, পিকআপ ও লোকাল বাস ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল, দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, কনটেইনার লরি ২০০ থেকে ২২০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে। এখন থেকে মোটরসাইকেল থেকে শুরু করে ট্রাক পর্যন্ত সব ধরনের যানবাহনকে সীমিত পরিমাণে জ্বালানি তেল দেওয়া হবে। শুক্রবার দুপুরে সরকার এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে।
এদিকে জ্বালানি তেলের জন্য রাজধানী ঢাকাসহ প্রায় সব পাম্পে গাড়ির দীর্ঘলাইন দেখা গেছে। সবার মধ্যে একটাই আতঙ্ক তেল পাওয়া যাবে তো! তবে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত রাজধানীর বিভিন্ন পাম্প পরিদর্শন করে ভোক্তাদের অভয় দিয়ে বলেছেন, সবাই অল্প অল্প করে তেল নিন। তাতে করে তেলের কোনো সমস্যা হবে না। সবাই গাড়ির ট্যাঙ্কি ভর্তি করে তেল নিলে তেলের সমস্যা হতে পারে। কারণ মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে আগের মতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। জানা গেছে, তেলের জন্য পাম্পগুলোতে ভিড়ের কারণে অনেক পাম্প তেল বিক্রি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, ফরিদপুর, যশোরসহ বিভিন্ন স্থানে তেলের জন্য গাড়ির লাইন দেখা গেছে। চাহিদামতো তেল কিনতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চালকরা।
গত শনিবার ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর থেকে বাংলাদেশে তেল নিয়ে আতঙ্ক শুরু হয়েছে। গত ২ থেকে ৪ মার্চ পেট্রোল পাম্পগুলো তেল বিতরণে সরকারি কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার ডিপোগুলো থেকে দ্বিগুণের বেশি তেল ক্রয় করেছে। একপর্যায়ে ডিজেলের মজুত ৯ দিনের নিচে নেমে গেছে।
সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এখন দেশে ডিজেল আছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৯৪০ টনের মতো। এ অবস্থায় শুক্র ও শনিবার ডিপোগুলো থেকে তেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে শুক্রবার সারা দেশের পাম্পগুলোতেও তেল কিনতে গাড়ির চালকদের অস্বাভাবিক ভিড় সরকারকে চিন্তিত করেছে। এরপর জ্বালানি তেল বিক্রিতে বড় ধরনের রেশনিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তেল কেনার সময় অবশ্যই ক্রয় রসিদ পাম্প থেকে সংগ্রহ করতে হবে। কারণ ওই রসিদ দেখিয়ে পরে আবার তেল কিনতে হবে ভোক্তাদের। ডিলাররা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তেল বিক্রি করবে। এছাড়া প্রতিটি ডিলার বা পাম্পের ২০২৫ সালের মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসের তেল বিক্রির গড় হিসাব করবে বিপিসি। সেই গড় হিসাবের ২০ শতাংশ কম তেল দেওয়া হবে ডিলার বা পাম্পগুলোকে। শুক্রবার বিকাল থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।
এদিকে বিপিসির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জ্বালানি তেলের ৯৫ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে সরবরাহ করা হয়। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে তেল আমদানি মাঝেমধ্যে বাধাগ্রস্ত বা বিলম্বিত হয়। চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের মজুত নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় ভোক্তাদের অতিরিক্ত তেল নেওয়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। অনেক ডিলার বা পাম্প মালিক চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। তাছাড়া কিছু কিছু ডিলার ও পাম্পে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহ করে অননুমোদিতভাবে মজুত করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সরকার তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে তেলের পার্সেল নিয়মিতভাবে আনা হচ্ছে। পাশাপাশি ডিলার বা পাম্পগুলোতে তেল দিতে সব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে সরকার শিগগির তেলের বাফার স্টক বা পর্যাপ্ত মজুত গড়ে তুলবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাসের প্রথমে সরকার তেলের দাম নির্ধারণ করেছে। এখন আর নতুন করে তেলের দাম বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেই। সরকার এ ব্যাপারে সবার সহযোগিতা কামনা করেছে।
এদিকে সকাল থেকে সব পাম্পে সব ধরনের গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। অনেকে কয়েক লিটার তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে ছিলেন। অনেক এলাকায় বাগবিতণ্ডা ও হইচই হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে অনেক পাম্প তেল বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। পরিবাগের মেঘনা পাম্পে তেলের জন্য অপেক্ষমাণ এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, ৪০ মিনিট ধরে এখানে অকটেনের জন্য দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু কোনোভাবে তেল পাচ্ছি না। কারের চালক হাবিবুর রহমান বলেন, আগামী সপ্তাহে তেল পাওয়া যায় কিনা জানি না। তাই তেল নিতে ৩০ মিনিট ধরে অপেক্ষা করছি। মধ্য বাড্ডা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সেখানেও একই অবস্থা। তেলের লাইনের ভিড় প্রধান সড়ক পর্যন্ত চলে এসেছে। রমনা পেট্রোল পাম্পের মালিক নাজমুল হক বলেন, সকাল থেকে যতটুকু পারি আমরা তেল দিয়েছি। সবাই গাড়িতে সর্বোচ্চ লোড করে তেল কিনতে চান। আমরা চালকদের বলেছি, এভাবে নিলে তো সমস্যা হবে। কম-কম নেন। কিন্তু চালকরা তা শুনছে না। তিনি বলেন, সকাল থেকে তেল দেওয়া হয়েছে। জুমার নামাজের জন্য বন্ধ। সরকারের নতুন নির্দেশনার পর তেল দেওয়া হচ্ছে। এদিকে পরিস্থিতি দেখতে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ঘুরেছেন গতকাল। তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, তেলের মজুত আছে। তিনি এই পরিস্থিতিতে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন। জ্বালানিমন্ত্রীও দুপুরে রাজধানীর এক পাম্পে গিয়ে ওই মন্তব্য করে বলেন, সবাই অল্প অল্প তেল নেন। কোনো সমস্যা হবে না।
সেনাবাহিনীর প্রতিষ্ঠান ট্রাস্ট এনার্জি ডিভিশনের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার মো. জামাল হোসাইন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবার সহনশীল হওয়া দরকার। তবে সরকার ২০১৯ সাল থেকে নতুন পেট্রোল পাম্প অনুমোদন বন্ধ রেখেছে। এখন ফিলিং স্টেশন বা পেট্রোল পাম্প আরও বেশি থাকলে দেশে তেলের মজুতের পরিমাণ আরও বাড়ত। তাছাড়া দূর থেকে তেল আনতে তেলের অপচয় হয়। যা দেশের ক্ষতি। তিনি সরকারিভাবে দ্বিতীয় রিফাইনারি দ্রুত শুরু করার সুপারিশ করে বলেন, এতে করে পরিশোধিত তেলের ওপর নির্ভরতা কমবে।
কবে আসবে ডিজেল : দেশে ডিজেলের মজুত কম। দেড় লাখ টনের কম আছে ডিপোগুলোতে। আগামী ৯ মার্চ পরিশোধিত ডিজেলের দুটি পার্সেল বা জাহাজ দেশে ভিড়বে। এরপর ১১ তারিখ আরও ২টি পার্সেল আসতে পারে। পরবর্তী পার্সেলের ব্যাপারে এখনো চূড়ান্তভাবে জানায়নি সরবরাহকারীরা। তবে কোনো পার্সেল বাতিলও করেনি। জানা গেছে, যুদ্ধের কারণে জাহাজ ভাড়া অনেক বেড়ে গেছে। তেলের দামও হু-হু করে বাড়ছে। তাই সরবরাহকারীরা সময়মতো তেল পাঠাতে চাইছে না। তবে পেট্রোল, অকটেনের কোনো সমস্যা হবে না। কারণ সরকারি একটি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও চারটি বেসরকারি ফ্রাকসনেশন কোম্পানি অকটেন ও পেট্রোল তৈরি করে। কিছু অকটেন প্রয়োজনে বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। বিপিসি জানায়, অকটেন-পেট্রোল নিয়ে আপাতত তেমন চিন্তা নেই। তবে সবাই গাড়িতে সর্বোচ্চ তেল নিলে তেলের সংকট সহজে কাটবে না।
ঢাকার বাইরে থেকে ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
চট্টগ্রামে গাড়ির ভিড়, অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের চেষ্টা : চট্টগ্রামে পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য ভিড় জমাচ্ছেন গাড়ির মালিকরা। বৈশ্বিক সংকটময় পরিস্থিতিতে যে কোনো সময় জ্বালানি তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে কিংবা মজুত ফুরিয়ে যেতে পারে-এমন আশঙ্কা থেকে পেট্রোল পাম্পগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন তারা। চাহিদার অতিরিক্ত তেল সংগ্রহে তারা পাম্পমালিকদের সঙ্গে বচসায় লিপ্ত হচ্ছেন। এদিকে এই অবস্থায় অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেল বিপণনে দৈনিক কোন ধরনের গাড়ি কী পরিমাণ তেল পাবে তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার বিপিসি সচিব শাহিনা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তেল বিক্রির পরিমাণ ও নীতিমালা ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার ছুটির দিনে সাধারণত রাস্তায় যানবাহন কম থাকে। এ কারণে পাম্পেও ভিড় থাকে কম। কিন্তু গতকাল সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্টেশনে ঘুরে দেখা গেছে ভিন্নচিত্র। নগরীর গণিবেকারি এলাকায় অবস্থিত কিউসি পেট্রোল পাম্প, কাতালগঞ্জ বাদশা মিয়া পেট্রোল পাম্প, লালদীঘি পাড় সিরাজ অ্যান্ড কোং পেট্রোল পাম্পসহ বেশ কয়েকটি পাম্পে দেখা গেছে যানবাহনের প্রচণ্ড ভিড়। কিউসি পেট্রোল পাম্পে দেখা গেছে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন। বাইরে দাঁড়িয়ে আছে কয়েকশ মোটরসাইকেল। এই পাম্পের একজন নজলম্যান জানান, হঠাৎ করেই কয়েকদিন ধরে গাড়ি মালিকরা চাহিদার অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। চাহিদামতো তেল না দিলে তারা পাম্পের কর্মচারীদের সঙ্গে বচসায় লিপ্ত হচ্ছেন। তাছাড়া আগে রসিদ ছাড়া নগদ টাকায় জ্বালানি তেল সংগ্রহ করলেও গতকাল থেকে রসিদ ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না। এ কারণে ভোগান্তিতে পড়েন গ্রাহকরা। পলোগ্রাউন্ডে অবস্থিত পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার মোহাম্মদ ইদ্রিস জানান, কোন গাড়ি কত লিটার তেল নিচ্ছে তার রসিদ সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে বেশির ভাগ মালিক রসিদ ছাড়াই তেল নেওয়ার চেষ্টা করছেন দ্রুততার জন্য। এ নিয়েও সৃষ্টি হচ্ছে বাগবিতণ্ডা।
রাজশাহীতে বাইকারদের দীর্ঘ সারি : রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল ও অকটেনের সংকট দেখা দেওয়ায় বাইকারদের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। চাহিদামতো তেল না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন চালকরা। কোথাও কোথাও তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় কয়েকটি ফিলিং স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধও হয়ে গেছে। যেসব স্টেশনে তেল রয়েছে, সেগুলোতে সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় মোট ২৭৯টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। তিন দিন ধরে এসব স্টেশনে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কোনো কোনো স্টেশনে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা এবং কোথাও ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হয়। শুক্রবারও একই চিত্র দেখা গেছে। সকাল থেকেই রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে বাইকারদের দীর্ঘ সারি লক্ষ করা যায়। একই চিত্র বিভিন্ন উপজেলায়ও। দুর্গাপুর উপজেলার বাসিন্দা মোবাররক হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তিনটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে তিনি মাত্র এক হাজার টাকার পেট্রোল নিতে পেরেছেন। এর মধ্যে একটি স্টেশন থেকে ৫০০ টাকার এবং দুটি স্টেশন থেকে ২৫০ টাকা করে তেল নিয়েছেন। কোথাও চাহিদামতো তেল পাননি বলে জানান তিনি।
বরিশালে মিলছে না অকটেন-ডিজেল : বরিশালের পাম্পে মিলছে না অকটেন, ডিজেল। পেট্রোলেও সংকট। বরিশাল জেলা ও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেলচালকরা ট্যাংকি পূর্ণ করে তেল নিচ্ছেন। ফলে হঠাৎ করে পেট্রোল-অকটেন-ডিজেলের চাহিদা বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিকে অজুহাত হিসাবে ব্যবহার করে কিছু পেট্রোল পাম্প আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রাখছে। শুক্রবার সকালে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ফিলিং স্টেশন (তেল পাম্প) বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। ফলে অনেকেই গাড়ির তেল নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন। নগরীর সিএন্ডবি রোডে তেলের পাম্প বন্ধ দেখা গেছে। ফিলিং স্টেশনের স্টাফরা বলেন, সকাল থেকেই চাহিদা বেশি ছিল। যা তেল ছিল সব শেষ হয়ে গেছে। তেলের গাড়ি না এলে আর তেল দিতে পারব না। এখন তেল নেই তাই বন্ধ রাখছি।
৫০০ টাকার বেশি তেল দিচ্ছে না কামিনী ফিলিং স্টেশন। এই পাম্পটিতে মোটরসাইকেল যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন রয়েছে। সাধারণত এই পাম্পটি ফাঁকা থাকে। তবে শুক্রবার দুপুর থেকেই পাম্পটিতে তীব্র ভিড় ছিল। এই পাম্পে কোনো মোটরসাইকেলকে ৫শ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না।
যশোরে ফুয়েল স্টেশনে হুড়াহুড়ি : তেলের মজুত কমে যেতে পারে-এমন আতঙ্কে যশোরের বিভিন্ন ফুয়েল স্টেশনে হুড়াহুড়ি বেধে গেছে। বৃহস্পতিবার থেকে যশোরের বিভিন্ন ফুয়েল স্টেশনে মোটরসাইকেল, ট্যাক্সিসহ বিভিন্ন বাহন, এমনকি ড্রামে করে পেট্রোল-ডিজেল নেওয়ার হিড়িক পড়ে যায়। শুক্রবার বিকাল নাগাদ ফুয়েল না থাকায় চার থেকে পাঁচটি ফুয়েল স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানান বাংলাদেশ জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতি, যশোর জেলার সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন। যশোর শহর ও শহরতলির তেলপাম্পগুলোতে এই দৃশ্য দেখা গেছে দুই দিন ধরে। বাধ্য হয়ে অনেক ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ একবারে দুইশ টাকার বেশি তেল না নেওয়ার জন্য ক্রেতাদের অনুরোধ করছেন। এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে ফুয়েল স্টেশনগুলোতে যানবাহন ছাড়া অন্য কোনো বাহনে বা পাত্রে তেল সরবরাহ না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে কেউ অতিরিক্ত তেল মজুত করতে না পারে। শহরতলির পুলেরহাট, চাঁচড়া, মেডিকেল কলেজের সামনের ফুয়েল স্টেশনগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। ওইসব স্টেশন থেকে দুইশ টাকার বেশি তেল মোটরসাইকেলে দেওয়া হচ্ছে না।
ফরিদপুরে বাইকে ২০০ টাকার বেশি তেল দিচ্ছে না : ফরিদপুরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনচালকরা চাহিদা অনুযায়ী পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন নিতে পারছেন না। এদিকে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী বিক্রি করতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন পাম্প মালিকরা। পাম্প মালিকদের দাবি, পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় চাহিদামতো তেল দেওয়া যাচ্ছে না গ্রাহকদের। শুক্রবার সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনগুলো ঘুরে গেলে দেখা যায়, বাস, পিকআপ ও মোটরসাইকেলচালকরা জ্বালানি তেল নিতে স্টেশনে ভিড় করছেন। কিন্তু তাদের অভিযোগ, তারা চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল পাচ্ছেন না। রাজবাড়ী থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় প্রাইভেটকার নিয়ে যাচ্ছিলেন চালক মো. সোহাগ মিয়া। তিনি বলেন, পাম্পে জ্বালানির জন্য এসেছি। আমার গাড়ির জন্য প্রয়োজন ২০ লিটার, কিন্তু পাম্প থেকে আমাকে দিচ্ছে মাত্র ৪ লিটার। এখন বাকি পথ কীভাবে যাব সেই চিন্তায় আছি। আমাদের দাবি সরকার যেন দ্রুত জ্বালানি সংকট দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। মোটরসাইকেলচালক কাইয়ুম হোসেন বলেন, বাইকের জন্য তেল নিতে এসে দেখি পাম্প থেকে একজন মোটরসাইকেল আরোহীকে ২০০ টাকার বেশি জ্বালানি তেল দিচ্ছে না। ফরিদপুর সদরের যমুনা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার বলেন, স্বল্প জ্বালানি থাকায় গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী না দিয়ে সীমিত পরিমাণে সরবরাহ করা হচ্ছে।