অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে তিন ব্যর্থতা,চার অর্জন - Alokitobarta
আজ : বৃহস্পতিবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে তিন ব্যর্থতা,চার অর্জন


মোহাম্মাদ আবুবকর সিদ্দীক ভুঁইয়া :অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে বদলে গেছে দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক গতিপথ।রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে জুলাই সনদ স্বাক্ষর এবং গণভোটের মাধ্যমে তার আইনি ভিত্তি মিলেছে। সবচেয়ে বেশি শঙ্কা ছিল নির্বাচন নিয়ে। অধিকাংশ মানুষের সংশয় ছিল, ড. ইউনূস শেষ পর্যন্ত নির্বাচন করতে পারবেন কি না। কিন্তু সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। অস্থিতিশীল অবস্থা থেকে এরই মধ্যে দেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এসেছে।তবে আছে বড় ব্যর্থতাও। গত দেড় বছরে সবচেয়ে সমালোচিত ছিল মব কালচার (আইনবহির্ভূতভাবে দলবদ্ধ আক্রমণ)। আইনের কোনো তোয়াক্কা না করে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর ওপর হামলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। শেষ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা একটি বাণিজ্যচুক্তি ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।এ সময়ে ঘটে যাওয়া অনেক ঘটনাই ইতিহাসের সাক্ষী।এর মধ্যে কিছু ঘটনা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বমঞ্চে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইতিহাস বদলে দেওয়া গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট যাত্রা শুরু করে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। লক্ষ্য ছিল তিনটি-জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত গণহত্যার বিচার, দেশের শাসন কাঠামোতে ভারসাম্য আনতে রাষ্ট্র সংস্কার এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর। মোটা দাগে তিনটি লক্ষ্যই অর্জন হয়েছে। গণহত্যার নির্দেশদাতা হিসাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও দু-একজন উপদেষ্টার দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার তথ্য এসেছে গণমাধ্যমে।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান পতিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হলে উচ্চ আদালতের মতামতের আলোকে তিন দিন পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। সামনে আসে বহুমুখী সংকট।

জানতে চাইলে সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর দেড় বছরে পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। পতিত সরকার ভঙ্গুর অর্থনীতি রেখে গেছে। বেশির ভাগ ব্যাংক ছিল খালি। পণ্য আমদানি এবং বিদেশি ঋণ ও বিল পরিশোধে ডলার ছিল না। পুলিশের মনোবল ভেঙে পড়েছে, যুবসমাজ ও স্বৈরশাসনে ক্ষতিগ্রস্তদের তীব্র ক্রোধ এবং ভারতীয় মিডিয়ায় বাংলাদেশবিরোধী ভয়ংকর মিথ্যাচার মোকাবিলা সরকারের জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জ ছিল। বিপরীতে দেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল সীমাহীন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করে দেশে স্থিতিশীলতা ফেরানো ছিল সবচেয়ে কঠিন। সরকার সেই কঠিন চ্যালেঞ্জ দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে। একটি দেশের কাছে বর্গা দেওয়া পররাষ্ট্রনীতি উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, দেড় বছরে এমন কোনো খাত নেই যেখানে সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি। আলোচ্য সময়ে রেকর্ডসংখ্যক নতুন আইন পাশ হয়েছে। আগামী দিনে মানুষ এর সুফল পাবে।

জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার : দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া প্রথম ভাষণে তিনটি অগ্রাধিকারের কথা জানানো হয়। এর প্রথমটিই ছিল ছাত্র-জনতার আন্দোলন ঠেকাতে জুলাই-আগস্টে পতিত সরকারের মাধ্যমে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার। এই হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। দীর্ঘ ৫ মাস কাজ করে গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি রিপোর্ট জমা দেয় জাতিসংঘের এই সংস্থা। রিপোর্টে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। ওই রিপোর্টের আলোকেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু করে অন্তর্বর্তী সরকার। বিচারকাজে গঠিত প্রসিকিউশনের রিপোর্ট ছাড়াও হত্যাকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি এবং আলজাজিরার রিপোর্ট বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বিচার কার্যক্রম স্বচ্ছ করতে ট্রাইব্যুনালে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ এবং সাক্ষ্যগ্রহণ থেকে শুরু করে সবকিছু বাংলাদেশ টেলিভিশন সরাসরি প্রচার করেছে। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত বছরের ১৭ নভেম্বর প্রথম রায় দেন ট্রাইব্যুনাল। এতে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। আইন অনুসারে ট্রাইব্যুনালে রায়ের পর আসামিকে আত্মসমর্পণ করে ৩০ দিনের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল করতে হয়। সে হিসাবে আপিলের শেষ সময় ছিল ১৭ ডিসেম্বর। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে তিনি আপিল করেননি। ফলে আসামি এখন ধরা পড়লেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে।

জুলাই সনদ ও রাষ্ট্র সংস্কার : অন্তর্বর্তী সরকারের দ্বিতীয় প্রতিশ্রুতি ছিল দেশের শাসন কাঠামোয় ভারসাম্য আনতে রাষ্ট্র সংস্কার। এ কারণে নিবন্ধিত ৩০টি শীর্ষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ ঘোষণা করা হয়। রাষ্ট্র সংস্কারে ৮৪টি বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছে জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দলগুলোর তিন দফায় ৭৮টি বৈঠকে এ সনদ চূড়ান্ত হয়। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ১৭ অক্টোবর ঐকমত্যের এই দলিলে ২৫টি দল সই করে। তবে এ সনদের চূড়ান্ত আইনি ভিত্তি নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ে বিএনপি-জামায়াত। কারণ, সনদে মৌলিক সংস্কারের বেশকিছু ধারায় বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট (আপত্তি) ছিল। এরপর ১৩ নভেম্বর জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেন রাষ্ট্রপতি। আর সনদের চূড়ান্ত আইনি ভিত্তি দিতে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৬৮ শতাংশ ভোটে জুলাই সনদ পাশ হয়।

নির্বাচন ও ক্ষমতা হস্তান্তর : সরকারের চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি ছিল একটি অবাধ, সুষ্ঠ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর। কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের পরই এ নিয়ে নানা সন্দেহ, শঙ্কা, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছিল। এক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক গুজব ছড়ানো হয়েছে। নির্বাচন ঠেকাতে দেশি-বিদেশি বড় চক্রান্ত ছিল। পুলিশ ছিল অনেকটাই নিস্ক্রিয়, আওয়ামী লীগের নির্বাচন প্রতিহতের হুমকি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মুখোমুখি অবস্থান নির্বাচনকে ঝুঁকিপূর্ণ করেছিল। অনেকে বলেছিলেন, নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতা হবে। অধিকাংশ মানুষের সংশয় ছিল, শেষ পর্যন্ত ড. ইউনূস নির্বাচন করতে পারবেন কি না। তবে সব শঙ্কা কাটিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। শুধু সরকারি দল নয়, বিরোধী দলও ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থাও নির্বাচনের প্রশংসা করেছে। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটেছে। গণতন্ত্রে ফিরেছে দেশ।

বৈদেশিক সম্পর্ক : দায়িত্ব নেওয়ার পর একমাত্র ভারত ছাড়া ছোট-বড় সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর অন্যতম ছিল যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সৌদি আরব, তুরস্ক, মিসর ও পাকিস্তান। এ সময়ে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশ সফর করেছেন। তবে আলোচ্য সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর ফলে মুক্তবাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অনেকটা ক্ষুণ্ন হয়েছে।

অন্যদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকেই দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক শীতল হয়ে ওঠে। যদিও অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে অভিনন্দন জানিয়েছিল ভারত। কিন্তু পলাতক শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমে কথা বলতে সুযোগ দেওয়ায় দুই দেশের সম্পর্কে দূরত্ব আরও বেড়েছে। বিভিন্ন সময়ে দুই দেশের পালটাপালটি বিবৃতি, রাষ্ট্রদূতকে তলব, রাজনীতিকদের উসকানিমূলক বক্তব্য, ভিসা বন্ধ, সীমান্তে শক্তি বৃদ্ধি, ভারতীয় মিডিয়ায় বাংলাদেশবিরোধী প্রোপাগান্ডা এবং রেল যোগাযোগ বন্ধের মতো ঘটনায় সম্পর্কের দূরত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গত বছরের ৪ এপ্রিল থাইল্যান্ডে বিমসটেক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অধ্যাপক ইউনূসের বৈঠকের পরও সম্পর্কের উন্নতি হয়নি।

অর্থনীতি : দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের অর্থনীতি সবচেয়ে ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল। পণ্য আমদানির জন্য ডলার ছিল না। এক মার্কিন ডলার কিনতে ১২৮ টাকা গুনতে হতো। ব্যাংক, শেয়ারবাজার ও বিমা খাত ছিল বিধ্বস্ত। ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছে, যা দেশের বিতরণ করা মোট ঋণের ৩৬ শতাংশ। বিশ্বে এ ধরনের ঘটনা বিরল। সরকার ঘোষিত শ্বেতপত্র কমিটির রিপোর্টে বলা হয়েছে, পতিত সরকারের ১৫ বছরে দেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে। স্থানীয় মুদ্রায় যা ২৮ লাখ কোটি টাকা। এ দিয়ে ৭৮টি পদ্মা সেতু বানানো সম্ভব। পাচারের টাকা ফেরত না এলেও অর্থনীতিতে ইতোমধ্যে স্বস্তি এসেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ইতোমধ্যে ৩৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে এক মার্কিন ডলার কিনতে ১২২ টাকা লাগে। আওয়ামী লীগের আমলে লুট হওয়া ৫টি ব্যাংক একত্রিত করে নতুন ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভেঙে দুইভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো রাজস্বনীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ।

মব রাজত্ব : অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে গুম-খুনের অভিযোগ নেই। কিন্তু মানবাধিকার সংগঠন ও সংস্থাগুলোর কাছে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠে অজ্ঞাতনামা লাশের সারি, কারা ও নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যু ও মব সন্ত্রাস। মাজার আক্রমণ, টার্গেট হামলা, কোথাও কোথাও ভিন্নমতের প্রতি হামলা হয়েছে। সরকারি তথ্যমতে, দেড় বছরে দেশে ২ হাজারের বেশি আন্দোলন হয়েছে। অসংখ্য মব, বেশ কয়েকটি অগ্নিসংযোগ, হত্যাকাণ্ড এবং বেশ কয়েকটি লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে রাজনৈতিক সহিংসতায় মারা গেছেন অন্তত ২৮১ জন। এর মধ্যে অন্তত ৪০ জনকে বিচারবহির্ভূতভাবে এবং ১৫৩ জনকে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয়। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যানুসারে, ২০২৪ সালের ৮ আগস্টের পর থেকে গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত ১৫ মাসে কারা হেফাজতে মারা গেছেন অন্তত ১১২ জন।

Top